Category Archives: স্বাস্থ্য ও ফিটনেস

প্রচন্ড গরমে সুস্থ থাকার কয়েকটি উপায়

প্রচন্ড গরমে সুস্থ থাকার উপায়

গ্রীষ্মের শুরুতে তাপমাত্রার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আসহনীয় গরম। কিন্তু এই গরমে বাড়িতে বসে থাকার তো কোনো উপায় নেই। যান্ত্রিক জীবনের সাথে তাল মিলিয়ে সবাইকে প্রতিনিয়তই বাইরে যেতে হচ্ছে। আর গরম বাড়ার সাথে সাথে মানুষের অসুস্থ হওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে। কারন সবাইকে কোনো না কোন কাজে প্রতিদিনই বাইরে যেতে হয়। সেক্ষেত্রে নিয়মিত খাওয়াদাওয়ার অভাব, পানি কম খাওয়া, বাইরের ধূলা বালি, রোদ ইত্যাদির জন্য সবাই প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। কিন্তু একটু সতর্ক হলেই আমরা এই গরমেও নিজেদের সতেজ রাখতে পারি। সেক্ষেত্রে আমাদের কিছু বিষয়ের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। তাই আজ আমরা এই গরমে সুস্থ থাকার কয়েকটি উপায় তুলে ধরব।

Poushi69পোশাক নির্বাচনঃ

এই গরমে সুস্থ থাকার একটি প্রধান উপায় হচ্ছে সঠিক পোশাক নির্বাচন। আর এই সময় সবচেয়ে উপকারী পোষাক হচ্ছে সূতি কাপড়ের তৈরি পোশাক। কারন সারাদিন বাইরে থাকার ফলে শরীরে যে ঘাম হয় তা সূতি খাপড় খুব সহজেই শুষে নিতে পারে। এছাড়া সূতির পাশাপাশি ধূপিয়ান, লিলেন, টাইডাই ও কটনও নির্বাচন করতে পারে। কাতান, টিস্যু, জর্জেট এই ধরনের কাপড় যথা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। এছাড়া যারা বাইরে যাওয়ার সময় শাড়ি পরে থাকেন তারা সূতি, খাদি কাপড় নির্বাচন করতে পারেন। আজকাল সূতি কাপড়ের উপর অনেক ধরনের হালকা ডিজাইনের নকশা দেখা যায়। এসব পোশাকও সবার গায়ে খুব ভালো মানিয়ে যায়। এছাড়া রঙ নির্বাচনের খেত্রেও অনেক সতর্ক থাকা উচিত। এ সময় উজ্জ্বল রঙের পোষাক না পরাই ভালো। হালকা নীল, ধূসর, বালামী, হালকা গোলাপী, সাদা, মেজেন্টা এই ধরনের রঙ বেশী ভালো হয়। ছেলেদের ক্ষেত্রে টি শার্ট, থ্রী কোয়ার্টার প্যান্ট অথবা সূতির চেক শার্ট বেছে নিতে পারেন। এই ধরনের পোষাক সব যায়গায় ব্যাবহারের জন্য খুবই মানানসই হয়।

প্রচুর পরিমানে পানি ও পানীয় পানঃ

এই সময় শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পরিমানে পানি শরীর থেকে বের হয়ে যায়। ফলে শরীরে পানিশূন্যতা ও বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়ে থাকে। তাই এই সময় সুস্থ থাকতে চাইলে প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করুন। এছাড়া পানির সাথে সাথে বিভিন্ন ফলের জুস যেমন আম, তরমুজ, আখের রস, ডাবের পানি পান করুন। এ সময় বাড়িতে স্যালাইন অথবা গ্লুকোজ রাখুন। কারণ এগুলো শরীরে পানিশূন্যতা কমিয়ে শরীরে লবনের পরিমান ঠিক রাখতে সাহায্য করে। তবে রাস্তার পাশে অস্বাস্থকর পানীয় থেকে সাবধান থাকুন। কারন এগুলো পানে শরীর সুস্থ থাকার পরিবর্তে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

Poushi69aখাবারের ক্ষেত্রে সতর্কতাঃ

এই সময় সচরাচর ভারী খাবার নয়া খাওয়াই ভালো। এছাড়া অতিরিক্ত তেল যুক্ত খাবারও এই সময় এড়িয়ে চলা উচিত। কারন ভারী খাবার খেলে এই সময় অতিরিক্ত গরম লাগবে এবং শরীর খারাপ হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে বিকালের নাস্তায় হালকা ফলমূল ও ফলের রস খেতে পারেন। এতে শরীর সুস্থ থাকবে।

সঠিক জুতা নির্বাচনঃ

গরমের সময় সবসময় খোলামেলা জুতা পরা উচিত। এতে শরীর ঠান্ডা থাকে। এ সময় কখনো মোজা পরা উচিত নয়। এতে পায়ে বাতাস চলাচল করতে পারে নয়া এবং শরীর গরম থাকে। প্রতিদিন ব্যাবহারের জন্য খোলামেলা স্যান্ডের ব্যাবহার করতে পারেন।

 

মডেলঃ সুমন ও সায়মা

সতেজ শরীরের জন্য চাই কার্যকরী ব্যায়াম ও পরিমিত খাবার

সতেজ শরীরের জন্য চাই কার্যকরী ব্যায়াম ও পরিমিত খাবার

প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে কাজের ফাকে নিজেকে সময় দেওয়ার ফুসরত আমাদের মেলেনা বলরেই চলে। সেই অবধারিত কর্মব্যস্ততার এই সময়ে শরীর ঠিক রাখতে কিছু কার্যকরী ব্যায়াম যা খুব সহজেই অন্যান্য কাজের ফাঁকে করতে পারেন তারই কিছু নমুনা নিচে তুলে ধরা হলো……

১) হাঁটা: মেয়েদের জন্য হাটা একটি সহজসাধ্য ব্যায়াম কারণ তাদের এঘর ওঘর, রান্নাঘর, চিলেকোঠা করতে করতে অনেক হাটা পড়ে যায় তাই এটার চিন্তা আপাতত বাদ।

সতেজ শরীরের জন্য চাই কার্যকরী ব্যায়াম ও পরিমিত খাবার২) পুশ-আপ: টেবিলে পড়তে পড়তে, কিচেনে কাজ করতে করতে বুকে চাপ পড়ে ব্যাথা উঠতেই পারে কিন্তু তা দূর করতে কোন ওষুধ নয় বরং কাজের ফাঁকেই টেবিলের কিনার ধরে ১০-১২টা পুশআপ দিয়ে নিলেই হলো……

৩) অর্ধআসন: সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে প্রথমে কোমরে দুহাত রাখতে হবে । এরপর সামনে এক পা এগিয়ে দিয়ে অন্য পা আগের জায়গায় রেখে একহাঁটু মুড়ে বসবার মত করে বসতে হবে । এবং সামনের পায়ে ভর দেবার সময় শ্বাস ছাড়তে হবে এবং সোজা হবার সময় শ্বাস নিতে হবে । এভাবে ৫ বার ।

৪) ছদ্ববেশী আসন: দুহাত সামনে প্রসারিত করে চেয়ারে বসবার ভঙ্গি করতে হবে এবং ৫ সেকেন্ড থাকতে হবে ।এটা ১০-১৫বার করা যেতে পারে । বসবার সময় শ্বাস ছেড়ে দিতে হবে আর উঠবার সময় শ্বাস নিতে হবে ।

বাসা-বাড়িতে আমাদের বাবা-মা-ভাই-বোন-খালা গোত্রীয় শ্রেনীরা প্রায়ই খাবার খেতে চাপাচাপি করেন । উনাদের এসকল আবদার কে এড়িয়ে চলুন কারণ এটাই বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত খাবার গ্রহনের কারণ । আপনার দেহেরে যতটুকু পরিমাণ পুষ্টি প্রয়োজন তারচেয়ে বেশি আপটেক করলে আপনার দেহের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে ।

সঠিক খাদ্য উপকরণ:
১) আঁশযুক্ত খাবার খাবেন যেমন ফলমূল-শাকসবজি, কারণ এগুলো আপনার পেট বেশিক্ষন ভরিয়ে রাখবে যে আপনার আর ক্যালরিযুক্ত খাবার ঘনঘন খেতে ইচ্ছা করবে না
২) যদি কোথাও খাবার দাওয়াত পান তবে আগেই বাসা থেকে স্বাস্খকর কিছু খেয়ে যান যেন তেল যু্ক্ত খাবার সহজেই এড়িয়ে যেতে পারেন।
৩) ভদ্রতা করে সবকিছু থেকে অল্প অল্প করে না খেয়ে কিছু খাবারকে বেছে নিন আপনার সুবিধামত যেমন, সালাদ, মাছ, মুরগীর মাংস
৪) খাবার জন্য ছোট প্লেট ব্যবহার করুণ । এর দুই তৃতীয়াংশ ফলে ভর্তি করুন ও বাকিটা মিষ্টি অখবা ফ্রইড রাইস দিয়ে।
৫) অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাদ্যকে সবসময় এড়িয়ে চলুন

এবং নিয়মিত ব্যায়াম করুন কারণ প্রতিদিনের ব্যায়াম যদি বন্ধ্ করেন একদিনের জন্য তাহলে সেদিনটিই আপনার সবচেয়ে খারাপ কাটবে । আপনার দৈনন্দিন কাজে দেহ সাড়া নাও দিতে পারে । তাই ব্যায়াম করুন নিয়মিত ও সুস্থ থাকুন…………..

শরীরের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে যেসব খাবার

শরীরের রোগ প্রতিরোধ করবে যেসব খাবার

মানুষের সুস্থভাবে বেশীদিন বেচে থাকতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবার প্রয়োজন। যেগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরকে সবসময় সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। কিন্তু আজকার ফাস্টফুড, বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট এর তীব্র সাদযুক্ত খাবার, কোল্ড ড্রিঙ্কস ইত্যাদির ভিড়ে পুষ্টিকর খাবারের কথা যেনো আমার প্রায় ভুলতে বসেছি। কিন্তু এইসব খাবার আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। পুষ্টিকর খাবার একদিকে যেমন আমাদের সুস্থভাবে বেশীদিন বেচে থাকতে সাহায্য করে তার সাথে সাথে মানুষের তারুণ্যও অনেকদিন ধরে রাখে। আজ আমরা এমন কয়কটি খাবার নিয়ে আলোচনা করব যার সাহায্যে আমারা আমাদের শরীরের বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক তৈরী করতে পারি এবং আমাদের সুস্থ থাকার জন্য যেগুলো অতন্ত জরুরী।

শরীরের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে যেসব খাবারওজন কমাতে বেরির ভুমিকা অতন্ত গুরুত্তপুর্ন। এছাড়া এতে প্রচুর পরিমানে এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দেয়। বিভিন্ন ধরনের রঙ্গিন বেরী যেমন ব্লাকবেরী, স্ট্রবেরী এগুলোর প্রচুর পরিমান এন্টিঅক্সাইড বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগ ও ক্যান্সারের বিরুদ্ধ্যে এন্টিবডি তৈরী করতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন নাস্তায় এক কাপ করে বেরি খাওয়ার অভ্যাস করুন।

দুগ্ধ যুক্ত খাবার থেকে শুধু ক্যালসিয়ামই পাওয়া যায় না বরং এটি প্রোটিন, ভিটামিন ডি এবং মিনারেল এর সবচেয়ে বৃহৎ উৎস। এগুলো আপনার হাড়কে শক্ত করে এবং আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করে। অনেক গবেষনার ফলাফল থেকে দেখা গেছে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ ধরনের দুগ্ধ যুক্ত খাবার পেটের মেদ কমাতে ও অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে। তাই কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার যেমন দই, মিল্ক সেক হতে পারে আপনার নাস্তার একটি প্রধান উপাদান।

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় টক জাতীয় ফল যেমন বাতাবি লেবু, কমলা, মাল্টা ইত্যাদি রাখুন। কারন এসব ফলে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকে যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধ্যে লড়তে সাহায্য করে। এছাড়া যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে তারা লেবু এক গ্লাস পানিতে চিপে চিনি অথবা লবন ছাড়া খেয়ে নিন। এতে হজম শক্তি বাড়বে।

বাদামে প্রচুর চর্বি থাকেলেও এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। বাদাম প্রটিন, ফাইবার, স্যালেনিয়াম, ভিটামিন ই ও ভিটামিন এ এর বৃহৎ উৎস যা লোয়ার কলেস্ট্রলের লেবেল বাড়ানো এবং হৃদরোগ কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন কিছু বাদাম আপনার হার্ট এটারক এর সম্ভাবনাকে ৪০% পর্যন্ত কমাতে সাহায্য করে।

এছাড়া সুস্থ থাকতে সবজির বিকল্প নেই। এই শীতের বাধাকপি, ফুলকপি এই সবের গুনের কথা লিখে শেষ করা যাবে না। ফুলকপিতে রয়েছে গ্লুটাথিয়ন জাতীয় ভিটামিন যা শরীরে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখে। তাছাড়া ব্রুকলি, বেবি কর্ন, বিন এইসব সবজি শরীরে সুস্থতা বজায় রাখতে অনেক উপকারী। তাই প্রতিদিন সালাদ হিসেবে অথবা রান্না করা সবজি খাদ্য তালিকায় রাখুন।

বয়স ধরে রাখতে অলিভ ওয়েল ত্বকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। প্রতিদিন ২ চা চামচ পরিমাণ অলিভ ওয়েল গ্রহণ করলে ৩১ শতাংশ ক্ষেত্রে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। কারন অলিভ ওয়েলে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ত্বককে সজীব রাখতে সাহায্য করে।

রোগ প্রতিরোধকারী উপাদান হিসেবে ডিমের গুরুত্ব অপরিসীম। যদিও ডিমের কুসুম একটু উচ্চ চর্বি যুক্ত কিন্তু তার পরেও এটি অনেক প্রোটিন সমৃদ্ধ। ডিমের কুসুমের জিঙ্ক, সেলিনিয়াম এবং অন্যান্য খনিজ লবন শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া ডিমের নিউট্রিশন বৃদ্ধ বয়সে চোখে ছানি পরা কমাতে সাহায্য করে।

মধ্যবয়সী নারীদের স্বাস্থ্য এবং ফিটনেস ভাবনা

মধ্যবয়সী নারীদের স্বাস্থ্য এবং ফিটনেস ভাবনা

নারীরা প্রকৃতির নিয়মে পুরুষদের চেয়ে অনেক আগেই সাবালক প্রাপ্ত হয়। এজন্য নারীদের ক্ষেত্রে ৩০-৪০ বছর বয়স হলে তাকে মধ্যবয়সী বলা হয়ে থাকে। যদিও বয়স হচ্ছে একটি সংখ্যা মাত্র। তারপরেও বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাদের শারীরিক ও মানসিক দুটি অবস্থারই ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়। তাদের কাছে সব থেকে ভীতিকর বিষয়টি হচ্ছে তাদের স্বাস্থ্য। শরীরে হরমোনের প্রভাবে তাদের পেশীর শক্তি এবং হাড়ের ঘনত্ব কমে আসে। ফলে এই সময়টাতে তারা অনেক চিন্তিত থাকে। সামান্য অসুস্থতায় তাদের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে ইস্ট্রজেন এর কার্যক্ষমতা হ্রাস পাবার ফলে তাদের হার্ট অ্যাটাক এর ঝুঁকিটা বেড়ে যায়। তাদের স্বাস্থ্য সমস্যা জীবনধারাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। আপনি যদি ৩৫ বছর বয়সের উপরে একজন নারী হয়ে থাকেন তাহলে আজ থেকেই আপনার খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন। এখানে আপনার জন্য স্বাস্থ্য ও ফিটনেস বিষয়ক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস দেয়া আছে যেগুলো অনুসরণ এর মাধ্যমে আপনি আপনার স্বাস্থ্য ও ফিটনেস ভাল রাখতে পারবেন।

মধ্যবয়সী নারীদের স্বাস্থ্য এবং ফিটনেস ভাবনা# নিয়মিত কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন। এক্ষেত্রে জগিং করতে পারেন। এভাবে প্রতি সপ্তাহে ৫ দিন করে করতে থাকুন। ব্যায়ামই হচ্ছে শরীর ভাল রাখার সব থেকে ভাল একটি পদ্ধতি। নিয়মিত ব্যায়াম এর মাধ্যমে আপনি আপনার ওজন কমিয়ে নানা রকমের অসুস্থতা এবং রোগব্যাধি থেকে শরীরকে সুস্থ রাখতে সক্ষম হবেন।

# জিম এ গিয়ে বা ঘরে বসে আপনি ভারোত্তোলনের মাধ্যমে আপনার হাতের পেশী নমনীয়, শক্তিশালী এবং ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে পারবেন। এটা আপনার হাড় বেঁকে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে এবং আপনার শরীরে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে আপনার বয়স্ক ভাবটা দূর করবে।

# দৈনিক খাদ্য তালিকায় ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার রাখুন। যেসব দুগ্ধজাত খাদ্যে চর্বির পরিমাণ একেবারেই কম সেগুলো ক্যালসিয়াম এর ভাল একটি উৎস। কিন্তু, আপনি যদি নিরামিষভোজী হয়ে থাকেন তাহলে সবুজ শাকসবজিই হচ্ছে আপনার ক্যালসিয়াম। এক্ষেত্রে আপনি ফুলকপি, বাঁধাকপি খেতে পারেন। অনেকেই আছেন যারা গরুর দুধ পান করতে চান না তাদের জন্য কমলার রস হচ্ছে আর একটি ভাল ক্যালসিয়াম এর উৎস। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস কমলার রস পান করুন।

# ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করুন। সামুদ্রিক মাছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি বিদ্যমান।

# অতিরিক্ত ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। কারণ, তৈলযুক্ত ভাজা খাবার আপনার শরীরের ওজন বৃদ্ধি করে আপনার হৃৎপিণ্ডের রোগ সৃষ্টিতে সহায়ক।

# ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করুন। এটা আপনার হার্টের জন্য উপকারী। সামুদ্রিক স্যালমন মাছ আপনার এই চাহিদাটি পূরণ করতে সক্ষম।

# বিকালে বা সন্ধ্যার নাস্তার তালিকায় ভাজা খাবারের পরিবর্তে বাদাম এবং ফলমূল রাখুন।

# চিনি খাওয়া কমিয়ে দিন। কারণ, এটা আপনার খাদ্যের ক্যালরি ধ্বংস করে দেয়।

উপরোল্লিখিত বিষয়সমূহ অনুসরণ করা ছাড়াও আপনাকে আরও একটি বিষয়ের দিকে নজর দিতে হবে। আর সেটা হচ্ছে, কখনো দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকবেন না। এটা আপনার স্বাস্থ্যকে মুহূর্তের মধ্যে বিলীন করে আপনার বয়সটাকে বাড়িয়ে দেবে। তাই ফিটনেস ধরে রাখতে চাইলে আজ থেকেই আপনার কর্ম পরিকল্পনা শুরু করে দিন এবং হাসিখুশি থাকুন।

 

ছবিঃ শিশির

নাক ডাকা থেকে মুক্তি পেতে ৭ টি সহজ সমাধান

নাক ডাকা থেকে মুক্তির ৭ টি সহজ সমাধান

অনেকেরই ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার বদ অভ্যাস আছে। আর এটি নিঃসন্দেহে একটি খুব বাজে অভ্যাস। বিষেশ করে তার আশেপাশে যে থাকে তাদের কাছে এটি অতি বিরক্তিকর একটি ব্যাপার। জরিপে দেখা গেছে পৃথিবীর প্রায় ৪০% পুরুষ ও প্রায় ২৫% নারী এই সমস্যায় ভুগে থাকে। বিশেষ করে ৫৫ থেকে ৮৬ বছর বয়সের মধ্যে এটি বেশী হয়ে থাকে। সাধারণত যখন সুস্থ ও শান্তিপূর্ন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে তখন এটি হয়। চিকিৎসা শাস্ত্রে এর তেমন স্থায়ী কোন সমাধান না থাকলেও কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে এ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আজ আমরা নাক ডাকা প্রতিরোধে কয়েকটি মূল্যবান টিপস নিয়ে আলোচনা করব।
এক পাশ করে ঘুমানঃ
সাধারণ আপনি যখন সোজা হয়ে ঘুমান তখন আপনার পাকস্থলিতে অনেক চাপ পড়ে। আর এর ফলে নাক ডাকার সমস্যা হয়। তাই যদি আপনার নাক ডাকার অভ্যাস থাকে তাহলে যেকোনো এক সাইড করে ঘুমানোর অভ্যাস করুন। এতে আপনার নিশ্বাস নিতে অসুবিধা হবে না।
নাক ডাকা থেকে মুক্তি পেতে ৭ টি সহজ সমাধানঅতিরিক্ত ওজন কমানঃ
অনেক সময় শরীরে অতিরিক্ত ওজনের ফলেও এই সমস্যা হয়ে থাকে। তাই প্রতিদিন সামান্য ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন। বিশেষ করে ঘাড়ের কাছে গলায় অতিরিক্ত ফোলা থাকলে নাক ডাকার সমস্যা বেশী হয়। তাই প্রতিদিন হালকা ম্যাসাজের মাধ্যমেও ওজন কমানো সম্ভব।
এলকোহল ও ঘুমের ওষুধ ত্যাগ করাঃ
প্রতিদিন এলকোহল ও ঘুমের ওষুধ গ্রহন আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ নার্ভ সিস্টেমের উপর চাপ সৃষ্টি করে যা পরবর্তিতে গলা ও চোয়ালের উপড় প্রেশার ফেলে নাক ডাকা শুরু করে। তাই নাক ডাকা থেকে পরিত্রান পেতে দ্রুত এলকোহল ও ঘুমের ওষুধ ত্যাগ করুন।
আপনার এলার্জি জনিত রোগের চিকিৎসা করুনঃ
আপনার যদি কোনো কিছুতে এলার্জি থাকে বিশেষ করে নাকে তাহলে দ্রুত তার চিকিৎসা করুন। কারন নাকের এলার্জির কারনে নাক বন্ধ থাকলে ঘুমের সময় নিশ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। ফলে নাক ডাকা রোগ হতে পারে। তাই ঘুমানোর পূর্বে নাকে প্রয়জনীয় স্প্রে অথবা নেসাল ক্লীপ ব্যাবহার করুন।
ধুমপান ত্যাগ করুনঃ
ধূমপান শরীরের শ্বসনতন্ত্রের অনেক ক্ষতি করে। এর ফলে ফুসফুসের উপর চাপ পড়ে। ফলে নিশ্বাস বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং নাক ডাকা আরম্ভ হয়। তাই অতিরিক্ত ধূমপান থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।
প্রতিদিন ঘুমানোর জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় তৈরী করুনঃ
অনেক সময় অনিয়মিত ঘুমের কারণেরও নাক ডাকার সমস্যা হতে পারে। তাই প্রতিদিন সময়মত পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুম আপনাকে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।
মাথার বালিশটা একটু উচু করে নিনঃ
ঘুমানোর সময় শরীরের সাথে মাথা সমান উচ্চতায় থাকলে এই সমস্যাটি অনেক বেশী হতে পারে। তাই ঘুমানোর পূর্বে মাথায় একটা অতিরিক্ত বালিশ ব্যাবহার করুন।

 

কোমর ব্যাথা নিয়ন্ত্রনের কিছু উপায়

কোমর ব্যাথা নিয়ন্ত্রনের কিছু উপায়

আজকাল কোমরে ব্যাথা একটি খুব সাধারন সমস্যা। বিশেষ করে ৩৫ থেকে ৪০ এর উপড়ের বয়সের মানুষেরা এই সমস্যার শিকার হয়ে থাকেন। বিশেষ করে মহিলারা এই সমস্যায় বেশী ভুগে থাকেন। সাধারনত অনেক চেষ্টা ও চিকিৎসা করা সত্ত্বেও এটি সম্পুর্ন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে চিকিৎসার পাশাপাশি  ব্যায়াম যেমন জরুরি, ঠিক তেমনি জরুরি কিছু সতর্কতা।

কোমর ব্যাথার জন্য একটি উপকারী উপাদান হচ্ছে বরফ। একটি গবেষনায় দেখা গেছে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ব্যাথায় আক্রান্ত যায়গায় বরফ লাগালে সেটি শরীর থেকে ব্রেইন এ সঙ্কেত পাঠানোর মাত্রা কমিয়ে দেয় ফলে ব্যাথা ততটা অনুভূত হয় না।  কয়েকটা বরফকে একটা প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে নিয়ে একটা নরম তোয়ালের মাথা দিয়ে কোমরে চেপে ২০ মিনিট পর্যন্ত ধরে রাখুন। ২০ মিনিট পর পর তুলে আবার ৩০ মিনিট পর ২০ মিনিট করে চেপে ধরে রাখুন। এভাবে কয়েক ঘন্টা করলে ব্যাথা থেকে অনেকটা আরাম পাওয়া যায়।

কোমর ব্যাথা নিয়ন্ত্রনের কিছু উপায়গরম পানিও আপনার ব্যাথা নিরসনে অনেক গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করে। হঠাৎ করে ব্যাথা হলে গরম পানি য়াপ্নার ব্যাথা কমাতে অনেক সাহায্য করবে। সম্ভব হলে বাথ টবে ২০ মিনিট একটানা গরম পানিতে বসে থাকুন অথবা ক্রমাগত কোমরে গরম পানি ঢালুন। কিন্তু যদি আপনি গর্ভবতী থাকেন তাহলে বেশীক্ষন গরম পানিতে বসে থাকবেন না। এতে শরীরের ক্ষতি হতে পারে।

লম্বা হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ুন। কখনো উপুড় হয়ে বিছানায় শোবেন না। শোয়ার সময় একটা বালিশ আপনার হাটুর নিচে দিয়ে নিন। ফোম বা নরম স্প্রিং এর গদি যুক্ত বিছানা শরীরের তথা কোমরের জন্য ভাল নয়। পাতলা তোশক ও সমান বিছানা হলে ভাল হয়।

ঘাড়ে ভারী কিছু তোলা থেকে বিরত থাকুন। চেষ্টা করুন কোমরে চাপ না লাগাতে। মাটি হতে বা নিচ থেকে কিছু তোলার দরকার হলে না ঝুঁকে হাঁটু ভাজ করুন অতঃপর তুলুন।

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন। শারীরিক শ্রমের সুযোগ না থাকলে ব্যায়াম করুন। হাঁটার যতটুকু সুযোগ আছে কাজে লাগান। এক্ষেত্রে সবচেয়ে উপকারী হচ্ছে সাতার কাটা। কারন এতে আপনার সারা শরীরের অনেক পরিশ্রম হয়। প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ মিনিট সাতার কাটুন। কয়েকদিনের মধ্যেই কোমর ব্যাথা আপনা থেকেই সেরে যাবে।

নিজের ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা করুন। কারন একটু বয়স হয়ে গেলে সাধারণও ওজন বাড়তে থাকে। নিয়মিত পুষ্টিকর ও ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার খান। কারন ক্যালসিয়ামের অভাবে বেশীরভাগ মহিলারা মেরুদণ্ডে হাড়ের ব্যাথার সমস্যায় ভুগে থাকেন। এছাড়া আপনার ওজন নিয়ন্ত্রনে থাকে কোমরের উপর চাপ ও কম পরবে।

 

মডেলঃ সুমা

ছবিঃ রিফ্লেকশন মিডিয়া

মাথাব্যাথা থেকে মুক্তি

মাথাব্যাথা থেকে মুক্তি

মাথাব্যাথা প্রত্যেকটি মানুষেরই কমবেশি থেকে থাকে। কিন্তু মাঝে মাঝে এই মাথাব্যাথা চরম আকার ধারন করে। তখন এটি খুব অসহ্যনীয় ও বিরক্তিকর পর্যায়ে চলে যায়।  অপর্যাপ্ত ঘুম, টেনশন, অতিরিক্ত কাজের চাপ, প্রেশার কমে যাওয়া, শরীরে পুষ্টির অভাব, রোদ ইত্যাদি কারনে সাধারনত মাথাব্যাথা হয়ে থাকে। অনেকেই মাথাব্যাথা হলে সাথে সাথেই প্যারাসিটামল যাতীয় ওষুধ খেয়ে থাকে। কিন্তু সবসময় অতিরিক্ত ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। এতে করে পরবর্তীতে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু চাইলে  মাথাব্যাথায় ওষুধ এর পরিবর্তে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করেও মাথাব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

মাথাব্যাথা থেকে মুক্তিপ্রতিদিন ৬ থাকে ৭ ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস করুন। অনেক সময় অপর্যাপ্ত ঘুমের কারনে মাথাব্যাথা হয়ে থাকে। মাথা সবসময় চিন্তামুক্ত রাখার চেষ্টা করুন। কাজের চাপ বেশী হয়ে প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে। এতে মন প্রফুল্ল থাকে। প্রতিদিন প্রচুর পরিমানে পানি পান করার অভ্যাস করুন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে কমপক্ষে ৩ গ্লাস পানি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

মাথাব্যাথার সময় আইসপ্যাক ব্যাবহার করুন। এটাতে বরফ ভরে মাথার দুই পাশে, ঘাড়ে, কাধে হালকা করে চেপে ধরে রাখুন। এতে অনেক আরাম পাওয়া যায়।

সহনীয় গরম আদা-পানির মধ্যে দু’হাত ও পা  ভিজিয়ে রাখুন | এটি হাত পায়ের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ১৫ মিনিটের পর আপনার ব্যথা কমে যাবে, এমন কি সম্পূর্ণ প্রশমন হতে পারে |

এক কাপ স্ট্রং কফি পান করুন। কফি মাথাব্যাথা দূর করতে অনেক উপকারী। কফির মধ্যে ক্যাফেইন থাকে যা মাথা ব্যাথার এন্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। কিন্তু যদি আপনি আগে থেকেই কফির প্রতি আসক্ত থাকেন তাহলে এই অংশটি বাদ দিন।

আদা মাথাব্যাথা কমাতে সাহায্য করে এবং মাথায় পুনরায় রক্তপ্রবাহ সচল করতে সাহায্য করে। এক কাপ গরম পানিতে কয়েক টুকরো আদা জ্বাল দিয়ে নিন। এবার এতে চা ও চিনি মিশিয়ে পান করুন। আপনি চাইলে শুধু আদা গরম পানিতে জ্বাল দিয়ে পান করতে পারেন। এতে ও মাথাব্যাথা কম হবে।

দারুচিনি বেটে তা সামান্য পানিতে মিশিয়ে পেস্ট করে কপালে লাগিয়ে নিন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকুন। এতে মাথাব্যাথা থেকে দ্রুত উপশম পাওয়া যায়।

কয়েকটা লবঙ্গ গুড়ো করে একটা পরিষ্কার রুমাল অথবা কাপড় দিয়ে পেচিয়ে নিন। এবার যতখন মাথাব্যাথা থাকে ততক্ষণ এটা নাকে দিয়ে শুঁকতে থাকে।  অথবা লবঙ্গ পেস্ট করে কপালে ও লাগাতে পারেন। এতেও মাথাব্যাথা কমে যায়।

 

মডেলঃ সুমা

ছবিঃ রিফ্লেকশন মিডিয়া

কম পরিশ্রমে বেশি ওজন কমান মাত্র ৭ দিনে

কম পরিশ্রমে বেশি ওজন কমান মাত্র ৭ দিনে

অতিরিক্ত ওজন সবার ক্ষেত্রেই একটি বিরাট সমস্যা হয়ে থাকে। সাধারণত বয়স বাড়ার সাথে সাথে অথবা ব্যায়ামের অভাবে অথবা অসাস্থ্যকর খাবারের জন্য এটা হয়ে থাকে। অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার, খাবারের অনিয়ম করা, ফাস্টফুড এর প্রতি বেশী আকর্ষন ইত্যাদি অনেক কারনে ওজন বেড়ে থাকে। এই কর্মব্যাস্ত জীবনে ব্যায়ামের দ্বারা আস্তে আস্তে ওজন কমানো অনেকের ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে অনেকেই ডায়েটের দ্বারা অতিরিক্ত ওজন কমাতে চান। কিন্তু ডায়েটের পাশাপাশি একটু ব্যায়াম করলে আপনি এক সপ্তাহে অন্তত ৩ থেকে ৪ কেজি কম করতে পারবেন।

কম পরিশ্রমে বেশি ওজন কমান মাত্র ৭ দিনেযদি আপনি প্রতিদিন ব্যায়াম বা কাজের মাধ্যমে শরীর থেকে ৫০০ ক্যালরি শক্তি খরচ করতে পারেন তাহলে ১ সপ্তাহে আপনি ২ থেকে ৩ কেজি ওজন কমাতে সক্ষম হবেন। আর ওজন দ্রুত কমাতে চাইলে খাওয়ার চেয়ে অবশ্যই পরিশ্রম বেশি করতে হবে। যদি আপনি প্রতিদিন ১০৫০ ক্যালরি অথবা ১২০০ ক্যালরি খাবার গ্রহন করেন তাহলে প্রতিদিন ১ ঘণ্টা ব্যায়াম করলে আপনি প্রথম সপ্তাহে ৩ কেজি ওজন কমাতে পারবেন।

কাচা লবন এবং অতিরিক্ত চর্বি খাওয়া বন্ধ করুন। এটি ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা থেকে অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাদ্য, অতিরিক্ত চিনি, বেশি পরিমানে শ্বেতসার বাদ দিন। দ্রুত ওজন কমাতে ফলমূল, সবজিুল্ডিমের সাদা অংশ, চামড়া ও চর্বি  ছাড়া পশুর মাংস, মাছ এবং ফ্যাট ছাড়া খাবারের উপর বেশী গুরুত্ত দিন।

খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমানে শাকসবজি রাখুন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ লিটার পানি পান করার চেষ্টা করুন।

লোভনীয় খাবার আপনার বাড়ি থেকে দূরে রাখুন। ব্যাস্ত থাকার চেষ্টা করুন। কারন অকারনে বসে থাকলে ক্ষুধা বেশী অনুভব হয় ফলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

কোনো বেলার খাবার বাদ দিবেন না। প্রত্যেকবারই খাওয়ার চেষ্টা করবেন কিন্তু পরিমত পরিমানে। ফাস্টফুড, কোমল পানীয় অথবা রেস্টুরেন্ট এর খাবার অভ্যাস কমিয়ে ফেলুন। এতে শরীরে প্রচুর পরিমানে ফ্যাট উৎপন্ন হয়।

 

 

মডেলঃ ভাবনা

ছবিঃ বুলবুল আহমেদ