Category Archives: নখ

রঙ্গিন করি নখ (পার্ট-২)

রঙ্গিন করি নখ (পার্ট-২)

প্রথমে সাদা রঙের নেইল পালিশ দিয়ে নখের বেইস কোট লাগিয়ে নিন। এটি  নখে পেইন্ট করার সময় অনেক কাজে লাগবে। নেইল পালিশের বেইস কোট আপনার নখের নেইল পালিশকে বেশীক্ষন ধরে রাখতে সাহায্য করবে এবং এর সাথ সাথে রঙ্গিন নেইল পালিশ লাগানোর ফলে নখের যে ভঙ্গুরতা তৈরী হয় তস থেকে নখকে রক্ষা করবে। এবার এটাকে নখে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

এরপর আপনার পছন্দের রঙের নেইল পালিশ তুলিতে পর্যাপ্ত পরিমানে নিয়ে এক ফোটা নখের গোড়ার দিকে ফেলে এটাকে নিচের দিক থকে উপরের দিকে তুলি দিয়ে টেনে নিন। মনে রাখবেন নেইল পালিশ কখনো উপর থেকে নিচে অথবা ডান থেকে বাম দিকে তুলি দিয়ে টানবেন না। সবসময় নিচ থেকে উপরের দিকে তুলি দিয়ে টেনে নিতে হবে। এবার এটাকে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সম্পুর্ন শুকিয়ে গেলে আবার একি উপায়ে আরেকবার একই রঙের নেইল পালিশ লাগিয়ে নিন।

রঙ্গিন করি নখ (পার্ট-২)সাধারনত কয়েকবার লাগালে নেইল পালিশ এর রঙ শুন্দর হয়। এরপর এতি শুকিয়ে গেলে এর ওপর চাইলে সাদা প্লেইন রঙের নেইল পালিশ আবার লাগিয়ে নিতে পারেন। এতে নখে আরও উজ্জলতা বাড়বে। নেইল পালিশ শুকিয়ে গেলে রিমুভার দিয়ে নখের আশেপাশে লেগে যাওয়া অতিরিক্ত অংশ মুছে নিন। খেয়াল রাখতে হবে যেনো নখের নেইল পালিশ নষ্ট না হয়ে যায়।

আজকাল মেয়েরা নখে বিভিন্ন ধরনের নেইল স্টীকার লাগাতে অনেক পছন্দ করে। এখন নেইল স্টীকার যেকোনো কসমেটিকস এর দোকানেই পাওয়া যায়। প্রথমে আপনার পছন্দ মত ডিজাইনের নেইল স্টীকার নিয়ে এর নিচের কাগজটা সাবধানে খুলে ফেলে দিয়ে নখের উপর লাগিয়ে ১০ থেকে ২০ মিনিট চেপে ধরে রাখলেই এটি নখে ঠিকমত লেগে যাবে। মনে রাখতে হবে নেইল পালিশ সম্পুর্ন শুকিয়ে গেলেই একমাত্র নেইল স্টীকার নখে লাগানো যাবে। নয়ত এটি নখে ঠিকমত বসবে না।

এছাড়া আজকাল নখে গ্লীটারের ব্যাবহার ও অনেক জনপ্রিয়। নেইল পালিশ লাগানো শেষে সাদা ক্লীয়ার রঙ লাগানোর সময় যখন এটি ভেজা থাকে তখন নেইল পালিশের উপর কিছু শুকনো গ্লীটার ছড়িয়ে দিন। এতে শুকিয়ে যাওয়ার পর সাদা রঙের সাথে গ্লীটার ভালোভাবে মিশে যাবে এবং আপনার নখ আরো সুন্দর ও ঝকমকে দেখাবে।

রঙ্গিন করি নখ (পার্ট-২)নেইল আর্ট করতে চাইলে প্রথমে নখে নেইল পালিশের বেইস কোট মানে সাদা ক্লীয়ার রঙ লাগিয়ে নিন। এরপর এটা শুকিয়ে গেলে আপনার পছন্দ মত অন্য রঙের নেইপালিশ নিয়ে চিকন ব্রাশ যেমন আইলাইনারের ব্রাশ অথবা টুথপিক দিয়ে মনের মত ডিজাইন করে নিন। চাইলে এর ওপর ছোট ছোট নেইল স্টীকার ও লাগিয়ে নিতে পারেন। এতে নখ আরো ব্রাইট দেখাবে। নেইল পেইন্ট সাধারনত বড় নখে বেশী ভালো লাগে।

নখের অর্ধেক অংশে আর্ট করতে চাইলে প্রথমে সাদা নেইল পালিশ লাগিয়ে এটা শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর নখের শেপ অনুযায়ী এর বাড়তি অংশে অন্য রঙের নেইল পালিশ লাগিয়ে নিন। এক্ষেত্রে গ্লীটার জাতীয় রঙ অনেক বেশী ভালো লাগবে।

রঙ্গিন করি নখ ( পার্ট ১)

রঙ্গিন করি নখ (পার্ট-১)

সাজগোজ মানেই নানা রঙের না ধরনের পোশাক এর সাথে মিলিয়ে অনেক ধরনের মেকআপ আর গয়নাগাটি। রুচির ভিন্নতা অনুযায়ী একেকজনের সাজও ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন কেউ শাড়ী পরতে পছন্দ করে আবার কেউ পশ্চিমা পোশাক অথবা স্যালোয়ার কামিজে অনেক বেশী স্বাছন্দ্য বোধ করে। আর পোশাকের ভিন্নতার সাথে সাথে সাজ ও বিভিন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু সব সাজের সাথে একটা জিনিস প্রায়ই মিলে যায় যেমন নখে নেইলপালিশ লাগানো। আগের দিনে পোশাকের রঙের সাথে মিলিয়ে নেইল পালিশ লাগানো হত। কিন্তু এখনকার যুগে মেয়েরা হাতে বিভিন্ন রঙের নেইল পালিশ লাগাতে পছন্দ করে। তাছাড়া আজকাল নেইল পালিশ এর সাথে সাথে নখে নানা ধরনের নকশা আকা ও বিভিন্ন গ্লীটার জাতীয় ছোট পাথর অথবা অন্যান্য স্টীকার লাগানোর প্রচলন শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করেন এই সব নকশা ঘরে বসে করা সম্ভব নয়। তাই পার্লারে ছুটে যান। এতে সময় ও টাকা দুই ই নষ্ট হয়। কিন্তু এখন চাইলে আপনি  ঘরে বসেই নানা রঙ্গে ও নানা ডিজাইনে নিজের নখকে সাজিয়ে তুলতে পারেন আরো আকর্ষনীয়ভাবে।

রঙ্গিন করি নখ ( পার্ট ১)প্রথমে আপনি আপনার পোশাকের সাথে মিলিয়ে নেইল পালিশের রঙ নির্বাচন করুন। মনে রাখবেন গাঢ় রঙ এর নেইল পালিশ যেমন পার্পেল, কালো অথবা অন্যান্য গাঢ় রঙ্গে নখকে ছোট লাগে। তাই এইসব রঙ তখনই ব্যাবহার করার চেষ্টা করুন যখন আপনার নখ তুলনামূলক বড় থাকবে। খুব বেশী পুরনো নেইল পালিশ ব্যাবহার না করাই ভালো। এতে ফিনিশিং ভালো হয় না এবং নেইল পালিশ জমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই পুরুনো নেইল পালিশ ব্যাবহার করলে এতে কয়েক ফোটা নেইল রিমুভার দিয়ে দুই হাতের তালুতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মিশিয়ে নিন। মনে রাখবেন নেইল পালিশ কখনো ঝাকাবেন না। এতে নখে লাগানোর সময় উপরদিকে উঠে আসলে নখে লাগাতে সমস্যা হতে পারে।

যদি আপনার নখে আগে থেকেই নেইল পালিশ লাগানো থাকে তাহলে একটু তুলার মধ্যে রিমুভার নিয়ে নখের নেইল পালিশ ভালোভাবে তুলে নিন। নেইল পালিশ তোলার সময় অকারন ঘষাঘষি করবেন না। তুলার বলটি রিমুভারে ভিজিয়ে ১০ সেকেন্ড নখে চেপে ধরে রাখুন। নেইল পালিশ আপনা থেকেই উঠে আসবে। অথবা যদি আপনার নখে নেইল পালিশ নাও লাগানো থাকে তবুও নখে লাগানোর আগে একটু রিমুভার দিয়ে নখ মুছে নিন। এতে নখের অতিরিক্ত তেল উঠে আসবে এবং নেইল পালিশকে নখে বেশীক্ষণ ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

রঙ্গিন করি নখ ( পার্ট ১)এরপর নখকে পছন্দমত শেপ এ কেটে নিয়ে এর গোড়ার কিউটিকল বের করে নিন। কারন আপনি যখন নখে পেইন্ট করবেন তখন নখের গোড়ায় কিউটিকল থাকলে আপনার নখে ডিজাইন করতে সমস্যা হতে পারে। এরপর আপনার পছন্দমত নেইল পালিশ নিয়ে দুই হাতের তালুতে চেপে ভালভাবে রোল করে মিশিয়ে নিন। কারন এতে নেইল পালিশ তলাতে পড়ে না থেকে একসাথে মিশে যাবে।

কিভাবে নখ সুন্দর রাখবেন

কিভাবে নখ সুন্দর রাখবেন

আপনার শরীরে অন্ন অঙ্গ পতঙ্গের মত নখের যত্ন নেওয়া খুব জরুরি, কেননা নখ যদি অসুন্দর হয় তাহলে আপনাকে দেখতে খারাপ লাগবে। আমরা যদি একটু নিজের প্রতি যত্নশীল হই তাহলে আমরা খুব সহজেই আমাদের নখের যত্ন নিতে পারি। আমাদের অসতর্কের ফলে অনেক সময় নখের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ময়লা জমে থাকে যার ফলে আমরা এই হাত মুখে দেই এবং আমরা বিভিন্ন সময় অসুস্ত হয়ে পড়ি। নখের যত্ন নিতে হলে বেশি কিছু করতে হবে না শুধু একটূ নিয়ম মেনে চললেই হবে এর ফলে আমাদের নখ অন্ন সবার থেকে অনেক সুন্দর দেখাবে।

কিভাবে নখ সুন্দর রাখবেন প্রথমে সুন্দর ভাবে আপনি আপনার নখ পরিষ্কার করবেন। একটু সময় নিয়ে আপনি আপনার নখ ভাল ভাবে ধুবেন। গরম পানি দিয়ে আপনার আঙ্গুল পরিষ্কার করবেন সাথে অবশ্যই নরম ব্রাশ ব্যাবহার করবেন। এর ফলে আপনার হাতের ময়লাগুলো সুন্দর ভাবে উঠে আসবে। প্রতিদিন যদি মানিকেউর করতে পারেন তাহলে আপনার হাতের ময়লা চামড়া গুলো উঠে আসবে। সব সময় আপনার হাত শুষ্ক রাখবেন। আপনার হাত যদি ভিজা থাকে তাহলে আপনার হাতে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া ঢুকতে পারে এর ফলে আপনি অসুস্ত হতে পারেন। সব সময় আপনার হাত নরম তয়লা অথবা রুমাল দিয়ে মুছবেন।

আপনি যখন আপনার হাত দিয়ে কাপড় ধোয়া, গাড়ি মুছা, ঘর মুছা এই সব কাজ করবেন তখন অবশ্যই গ্লাবস ব্যাবহার করবেন। এর ফলে আপনার হাত বিভিন্ন কেমিক্যাল থেকে সুরক্ষা থাকবে। এটা গুরত্ত্ব পূর্ণ যে আপনার হাতের নখ অবশ্যই নেইল কাটার দিয়ে কেটে ট্রিম করে ফেলবেন। কক্ষনো আপনার নখ উল্টাপাল্টা ভাবে ট্রিম করবেন না এর ফলে আপনার নখ নষ্ট হয়ে যেতে পারবে। সব সময় সুন্দর করে নখ কেটে তারপর ভালভাবে ট্রিম করবেন যাতে শেপ নষ্ট না হয়। নেইল কাটার দিয়ে আস্তে আস্তে করে নখ কাটবেন।

কিভাবে নখ সুন্দর রাখবেন ভাল মইসযারাইযার দিবেন যাতে আপনার নখ শুষ্ক না থাকে। আপনি যখন আপনার হাতে লোশান্‌ অথবা মইসযারাইযার দিবেন খেয়াল রাখবেন যাতে করে নখে ভালভাবে লাগে। অলিভ অয়েল ভাল মইসযারাইযার আপনি ঘুমাতে যাওয়ার আগে এতা ব্যাবহার করতে পারেন। এটা আপনার নখকে অনেক ভাল রাখবে। একটু সময় নিয়ে মাসায করবেন। এই মাসায আপনার রক্ত চলাচল করতে সাহায্য করবে এবং আপনার নখকে কঠিন, সাস্থবান করতে সহযোগিতা করবে। আপনি অলিভ অয়েল দিয়ে মাসায করতে পারেন সপ্তাহে একবার। নরম নখগুলো শক্ত করার জন্য আপনি নেইল হার্ডনার ব্যাবহার করতে পারেন এর ফলে নরম নখগুলো শক্ত হয়ে যেতে পারবে। তারপর পানি লাগলেও নখ সহজেই ভাঙবে না। তাছাড়া আপনি স্বাস্থ্যকর খাবার এবং বালান্সড ডায়েট এর মাধ্যমে আপনি আপনার নখের যত্ন নিতে পারেন। স্বাস্থ্যকর নখের জন্য ক্যালসিয়াম খাবার অনেক প্রয়োজন । নখ ঠিক রাখতে হলে আপনাকে ভিটামিন এ, সি , জিংক এগুলো মানতে হবে।

আর আপনাকে নখ ঠিক রাখতে হলে বোতল অথবা ক্যান নখ দিয়ে খোলা যাবেনা। ভালভাবে মেনিকিওর করতে হবে আবার বেশি মেনিকিওর করতে আপনা নখ নরম হয়ে যেতে পারে দাঁত দিয়ে কক্ষনও নখ কাটবেন না এর ফলে নখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ভেজা নখ কখনও কাটবেন না কারন এর জন্য নখ ভেঙ্গে যেতে পারে। কখনও বেশি গর্ত করে নখ কাটবেন না এর ফলে আপনার নখ অসুন্দর দেখাবে। এইভাবে আপনি আপনার নখের যত্ন  নিতে পারেন।

নখ ভাঙ্গা রোধের উপায়

নখ ভাঙ্গা রোধের উপায়

নখ নারীদের সোন্দর্য্যের ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্তপূর্ন ভুমিকা পালন করে। আজকার মেয়েরা নখের মাঝে নেইল পলিশ ছাড়াও নেইল পেইন্ট ব্যাবহার করে বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন করে থাকে। কিন্তু এই নখের একটা সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে যখন তখন এই নখ ভেঙ্গে যায়। এই নখকে একটু যত্ন করলে এবং পুষ্টির যোগান দিলে একে শক্ত করা সম্ভব।

অলিভ অয়েল তেলকে হালকা গরম করে নিন তারপর নখ গুলো ডুবিয়ে রাখুন ৫-১০ মিনিট। এতে আপনার নখ গুলো চকচকে হবে  এবং এভাবে নিয়মিত করলে নখগুলো শক্তও হয়ে যাবে।

নখ ভাঙ্গা রোধের উপায়নখ ভাঙ্গা রোধ করতে এবং নখ শক্ত করতে লেবুর বিকল্প নেই । ৩ চা চামচ অলিভ অয়েল এবং ১ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নখে লাগান। এটি নখকে শক্ত করার সাথে সাথে নখের হলদে ভাব দূর করে।

কাজ করার সময় হাতে গ্লাভস পরার অভ্যাস করুন। বিশেষ করে রান্না বান্না ও ধুলো ময়লা যুক্ত কাজের ক্ষেত্রে। এটি আপনার হাতকে বাইরের ময়লা থেকে রক্ষা করবে এবং নখের গোঁড়ায় ময়লা জমা থেকে বিরত রাখে।

কখনো দাত দিয়ে নখ কামড়াবেন না। এতে নখ অনেক ভঙ্গুর হয়ে যায়। নখ হটাত ভেঙ্গে গেলে বাসায় এসে নাইল কাটার দিয়ে কেটে নিন। দরকার হলে একটু ছোটো করে কাটুন। আজ এ দাত দিয়ে নখ কামড়ানোর অভভাশ তাগ করুন।

নখ এ নিয়মিত মশ্চারাইজার ব্যাবহার করুন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পেট্রোলিয়াম জেলী  অথবা লোশন লাগিয়ে নিন। এতে নখের রুক্ষ ভাব কমে এবং ভঙ্গুরতাও কমে। কিন্তু অতিরিক্ত লোশন ব্যাবহার করলে নখ পাতলাও যেতে পারে।

নখে  বেশীদিন একটানা নেইল পালিশ লাগিয়ে রাখা উচিত নয়। ৩/৪ দিন পর পর রিমুভার দিয়ে নেইল পালিশ তুলে ফেলা উচিত। তারপর যেকোনো লোশন অথবা ক্রিম লাগিয়ে নেওয়া যায়। নাইল পালিশ তুলে সাথে সাথে আবার নাইল পালিশ ব্যাবহার করা উচিত নয়। কয়েকদিন রেখে তারপর আবার নাইল পালিশ লাগানো উচিত। নয়ত নখের চারপাশ ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

নিয়মিত নখের গোড়া পরিষ্কার করা উচিত। প্রতিবার হাত ধোয়ার সময় নখের নিচে ও পরিষ্কার করা যেতে পারে। নখ কখোনই খুব বেশি বড় করা উচিত নয়। এতে সহজে নখ ভাঙ্গার সম্ভাবনা থাকে।

যেভাবে নখের সৌন্দর্য বাড়াতে পারেন

যেভাবে নখের সৌন্দর্য বাড়াতে পারেন

নখ শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপনার চুল কিংবা সুন্দর পোশাক আপনার সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলতে পারবে না যদি আপনি আপনার নখের প্রতি যত্নবান না হন। আমরা প্রায়শই আমাদের নখের দিকে ভাল ভাবে লক্ষ্য রাখিনা। যদিও নখ আমাদের দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে খুবই দরকারি। তাই আমাদের আজকের আয়োজন ‘যেভাবে নখের সৌন্দর্য বাড়াতে পারেন’। এখানে আপনাদের জন্য কয়েকটি উপকারী টিপস দেয়া আছে। এগুলো অনুসরণ করে আপনিও অনন্য সৌন্দর্যের অধিকারী হতে পারেন।

০১। পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন
পুষ্টিকর খাবার না খেলে এটা যেমনি ভাবে চুল এবং ত্বক এর উপর প্রভাব ফেলে ঠিক তেমনি ভাবে নখ এর উপর ও খারাপ প্রভাব ফেলে। সুন্দর নখ এর জন্য আপনাকে অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। এজন্য আপনাকে শাক সবজি এবং ফল খেতে হবে। কাজুবাদাম ও সুন্দর নখের জন্য উৎকৃষ্ট একটি খাবার। প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।

০২। ভিটামিন সমৃদ্ধ সাপ্লিমেন্টারী খাবার গ্রহণ করুন
আপনার যদি মনে হয় দৈনন্দিন আপনি যে খাবার টা গ্রহণ করছেন তা আপনার শরীরের চাহিদা পূরণ করলেও নখের বৃদ্ধি হচ্ছে না তাহলে আপনি ভিটামিন বি, আয়রন এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ সাপ্লিমেন্টারী খাবার গ্রহণ করতে পারেন। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার খান। ভিটামিন ই নখ ও ত্বক এর জন্য অত্যন্ত উপকারী।

০৩। দাঁত দিয়ে নখ কাটবেন না
অনেককেই দেখা যায় যারা দাঁত দিয়ে অবিরাম নখ কেটেই যাচ্ছেন। এটা কোন ভাবেই করা উচিৎ না, কারণ নখ শরীরের অন্যতম সংবেদনশীল একটি অংশ। নখ কামড়ানোর ফলে এটি নোংরা, আঁকাবাঁকা হয় এবং পরবর্তীতে খুব দ্রুত ভেঙ্গে যায়। যাদের এই বদভ্যাসটি আছে তারা নখ চিবানোর পরিবর্তে চুইং গাম চিবাতে পারেন।

০৪। নখ ভাঙ্গা থেকে প্রতিরোধ করুন
আপনি যখন কোন গৃহস্থালি কাজ করবেন তখন আপনার নখের দিকে ভালভাবে খেয়াল রাখবেন। রান্নাঘরে হাড়ি পাতিল ধোয়ার সময় কিংবা বাগানে কাজ করার সময় হাতে একটি রাবারের গ্লাভস পড়ে নিবেন। কারণ ধোয়া মোছার কাজের জন্য ব্যবহৃত পরিষ্কারক আপনার নখ ও ত্বককে রুক্ষ এবং শুষ্ক করে ফেলে।

০৫। শক্তিশালী ও সুন্দর নখের জন্য
সুন্দর ও শক্তিশালী নখের জন্য আপনাকে ১ লিটার পানির মধ্যে আধা চা চামচ সামুদ্রিক লবণ মিশ্রণ করে তার মধ্যে আপনার নখ ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। আপনি যদি খুব শীঘ্রই ফল প্রত্যাশা করেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই প্রতিদিন একবার করে পুনরাবৃত্তি ঘটাতে হবে।

০৬। সংক্রমণ প্রতিরোধ করুন
আর্দ্রতা আপনার সুন্দর নখের মূল কারণ হতে পারে। কারণ এটি ফাঙ্গাস সংক্রমণ সৃষ্টির জন্য একমাত্র দায়ী। তাই প্রতিদিন হাত পরিষ্কারক দ্বারা ধুয়ে ফেলুন এবং নরম, পরিষ্কার টিস্যু দ্বারা হাত মুছে ফেলুন। মোজা পড়ার সময়ও ভালভাবে লক্ষ্য করে দেখুন এটার মধ্য দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারছে কিনা। কারণ বদ্ধ জায়গায় ফাংগাস সৃষ্টি হয়।

০৭। নিয়মিত নখ কাটুন
সব সময় ধারালো ম্যানিকিউর কাঁচি দ্বারা নখ কাটুন এবং নেইল ক্লিপার দ্বারা নখ সোজাসুজি ভাবে ট্রিমিং করুন। নখের আশপাশের ময়লা অপসারণ করুন। নখের তলদেশের মৃত চামড়া উঠিয়ে ফেলুন।

০৮। নেইল পলিশ ব্যবহার করুন
নেইল পলিশ নখ ভাঙ্গা রোধ করে। নেইল পলিশ এর সাথে অবশ্যই বেস কোট ব্যবহার করুন। যদি রঙ পছন্দ না হয় তাহলে ক্লিয়ার পলিশ ব্যবহার করতে পারেন।