Category Archives: চুলের যত্ন

শীতের শুরুতে ছেলেদের ত্বক এবং চুলের সমস্যা এবং সমাধান

শীতের শুরুতে ছেলেদের ত্বক এবং চুলের সমস্যা এবং সমাধান

ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে শীত ও আবার ঘুরে চলে এল। আর এর সাথে সাথেই শুরু হয়ে যায় ত্বক ও চুলের যত সমস্যা। অনেকেই মনে করেন ছেলেদের রূপচর্চার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু শীতের শুরুতে তাদের ত্বকেরও অনেক সমস্যা শুরু হয়। চুল ভাঙ্গা, রুক্ষ ও চিটচিটে হয়ে যাওয়া, র‍্যাশ, ত্বকের শুষ্কতা, ঠোঁট ফাটা, পায়ের গোড়ালী ফাটা আরও কত কি। সাধারণত হঠাৎ করে ঋতু পরিবর্তনের সময় ত্বকের সহনশীলতা বদলে যায় ফলে এই সব সমস্যাগুলো হয়ে থাকে। তাই আজ আমরা এই শীতে ছেলেদের ত্বকের ও চুলের কিছু সাধারন সমস্যা নিয়ে কথা বলব এবং এ থেকে মুক্তির উপায় আলোচনা করব।

শীতের শুরুতে ছেলেদের ত্বক এবং চুলের সমস্যা এবং সমাধানশীতে আপনার ত্বকের সবচেয়ে বড় একটি সমস্যা হচ্ছে শুষ্কতা। মুখ ধোয়ার পরে তো এটি এত টানটান হয়ে থাকে যা খুবই আস্বস্থিকর। ক্রিম লাগানোর কিছুক্ষন পর্যন্ত ভালো থাকলেও কিছুক্ষন পর অতিরিক্ত তেল চিটচিটে হয়ে যায়। ফলে বারবার মুখ ধুতে হয়। তাই এ সময় এর চাই একটু অতিরিক্ত যত্ন। ত্বকের শুষ্কতা কমাতে প্রতিদিন সকালে ও রাতে মশ্চারাইজার যুক্ত ক্রীম ব্যাবহার করুন। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে ১/৪ কাপ দুধ এ ১ চামুচ মধু ও ১ চামুচ এলোভেরা জেল মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। ২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে করে আপনার ত্বকের শুষ্কতা তো কমবেই তার সাথে আপনার মুখ হয়ে উঠবে আরো কোমল ও উজ্জ্বল।

শীত কালে অনেকেরই চুল রুক্ষ হয়ে যায় এবং চুলে এক ধরনের চিটচিটে ভাব চলে আসে। এর ফলে অনেক সময় চুলের আগা ফেটে যায়। তাই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে শীতের রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চুলে নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল গরম করে ম্যাসাজ করে নিতে পারেন। একটি স্টীলের বাটিতে নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েল নিয়ে নিন। এবার একটা কাচা আমলকী কেটে এর সাথে মিশিয়ে নিন। এবার এটাকে চুলার উপর একটা কাপড় দিয়ে ধরে কিছুক্ষন গরম করে নিন। কিছুক্ষন রেখে গিয়ে কুসুম গরম থাকতে চুলের আগায় ও গোড়ায় ভালো করে আঙ্গুল দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তেল ম্যাসাজ নিন। মনে রাখবেন কখনোই খুব গরম তেল চুলে লাগাবেন না। এতে চুল পরে যেতের পারে। সারা রাত চুলে তেলের উপস্থিতিতে চুলের রুক্ষ ভাব কেটে যাবে এবং চুল হয়ে উঠবে ঝলমলে উজ্জ্বল।

শীতে ত্বকের আরেকটা সমস্যা হচ্ছে র‍্যাশ। অনেক সময় শরীরে লাল, ছোট ছোট ফুসকুনির মত হয়ে থাকে। এগুলো সাধারণত শীতকালে ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমন ও উলের পোশাক পরার কারনে হয়ে থাকে। এগুলো শরীরে চুলকানি ও অস্বস্থিকর অবস্থা তৈরী করে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন গোসলের পানিটাকে একটু ফুটিয়ে হালকা গরম পানি দিয়েই গোসল করুন। এছাড়া পানির ব্যাক্টেরিয়া দূর করার জন্য এন্টিসেপ্টিক জাতীয় কোনো লিকুইড মিশিয়ে নিতে পারেন। সবসময় উষ্ণ থাকার চেষ্টা করুন। উলের কাপড় পরার সময় অবশ্যই তার নিচে সুতি অথবা অন্য পাতলা এবং আরামদায়ক কাপড়ের কিছু পরে নিবেন।

শীতের দিনে আরেকটা কমন সমস্যা হচ্ছে পায়ের গোড়ালী ফেটে যাওয়া। এ থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন ঘুমানোর আগে অবশ্যই পায়ে পেট্রোলিয়াম জেলী লাগিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া প্রতিদিন গোসলের সময় শক্ত কিছু দিয়ে পায়ের গোড়ালীটা একটু ঘষে নিতে পারেন। এতে মৃত কোষগুলো বের হয়ে যাবে। এছাড়া নিয়মিত মশ্চারাইজার যুক্ত লোশন ব্যাবহার করুন। এতে করে হাত পায়ের খসখসে ভাব থাকে না।

মডেলঃ আনান 

ছবিঃ আতিক

 

ত্বকের ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে চুলের কালার নির্বাচন

ত্বকের ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে চুলের কালার নির্বাচন

সৃষ্টির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মেয়েদের ঘন কালো চুলের সৌন্দর্যের প্রশংসা চলে আসছে। কিন্তু সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে এখন এই ঘন কালো চুলের ফ্যাশনেরও অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখনকার যুগের মেয়েরা আর এত লম্বা কালো চুল পছন্দ করে না। সময় বাচানো এবং ফ্যাশন দুইটার স্বার্থেই তারা চুলে বিভিন্ন কাট এবং রঙ ব্যাবহার করছে। তবে চুলে বিভিন্ন কালার করার পূর্বে কয়েকটি জিনিসের উপর বিশেষ খেয়াল রাখা উচিত। কারন সব ধরনের রঙ সব গড়ন ও রঙের চেহারায় ভালো লাগে না। যদি মুখের গড়ন, রঙ বা চুলের আকারের সাথে মিলিয়ে রঙ করা হয় তবে দেখতে কিন্তু বেশ লাগে। কিন্তু বেশীরভাগ সময়েই ঠিকমতো এবং ভালো কোন পার্লার থেকে এইসব চুলের রঙ করার কাজটি করা হয় না বলে চুল রঙ করে বিপদে পড়েন অনেকেই। কিন্তু মুখের গড়ন অ রঙের সাথে মিলিয়ে চুল কালার করলে অনেক স্টাইলিশ লাগে। সাধারন লম্বা চুলের চেয়ে ছোট চুলে কালার করলে বেশী ভাল মানায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যাতিক্রম ও আছে। তাই আজ আমরা মুখের গড়ন ও রঙের উপর ভিত্তি করে কোন রঙটি আপনার চুলে বেশ ভালো মানাবে তা নিয়ে আলোচনা করব।

ত্বকের ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে চুলের কালার নির্বাচনরিচ ব্রুনেটঃ
ব্রুনেট হচ্ছে চকলেটের চেয়েও ডার্ক একটা রঙ। সাধারণত যাদের ত্বকের রঙ কালো অথবা শ্যামলা তাদের এই রঙটি বেশ মানিয়ে যায় এবং এতে তাদের আরো উজ্জ্বল লাগে। লম্বা স্টেইট চুলে কালার করলে সামনের দিকের চুলে লেয়ার করে নিতে পারেন। আবার কার্ল চুলেও অনায়াসে এই রঙটি ব্যবহার করতে পারেন।

ডার্ক চকলেটঃ
চুলের রঙের জন্য ডার্ক চকলেট রংটি অনেক পুরুনো। যেকোন রঙের ত্বকেই এই রংটি বেশ মানিয়ে যায়। এক্ষেত্রে চুল লম্বা হলে কালার করার আগে নিচের দিকে লেয়ার, লেজার অথবা স্টেপ লেয়ার কাট দিয়ে নিতে পারে। এই রংটির একটি বিশেষ সুবিধা হচ্ছে এটি ব্যাবহারে চুলের রঙের পার্থক্য খুব বেশী বোঝা যায় না। তাই যারা নিজেদের ফর্মাল লুক একটু পরিবর্তন করতে চান তারা অনায়াসে এই রঙ ব্যাবহার করতে পারেন।

ব্রোঞ্জ কালার এবং গোল্ডেন হাইলাইটঃ
চুলে একটু গর্জিয়াস এবং উজ্জ্বল লুক চাইলে সফট ব্রোঞ্জ রঙের সাথে সোনালী হাইলাইট রঙ পছন্দ করতে পারেন। এই রংটি ফর্সা ত্বকের অধিকারী মেয়েদের অনেক বেশী ভালো লাগে। প্রথমে চুলে ব্রোঞ্জ কালার করে নিন। এরপর চুলের পেছনে ও সাম্নের দিকে কিছু চুল বাছাই করে গোল্ডেরন রঙের হাইলাইট করে নিন। এটি স্ট্রেইট চুলে বেশী মানানসই হয়। বিশেষ করে যেসব মেয়েদের চোখের রঙ হালকা বাদামী তাদের চেহেরায় এই রংটি বেশ মানিয়ে যায়।

বারগোন্ডি রঙঃ
চুলের রঙের জন্য বারগোন্ডি রংটি সবচেয়ে ভালো হয়। কারণ এটি যেকোন গড়ন ও রঙের স্কিক টোনের সাথে মানিয়ে যায়। এই রংটির বিশেষত্ব হচ্ছে এটি আলোতে তার নিজস্ব রঙ প্রকাশ করে। বিশেষ করে যারা চাকুরীজীবী তারা অনায়াসে এই রংটি পছন্দ করতে পারেন।

গোল্ডেন কপারঃ
এই রঙটি উজ্জ্বল রঙের মেয়েদের জন্য ভালো হয় বিশেষ করে যাদের গোলাপী, পার্পেল ও সবুজ রঙের পোশাকে অনেক ভালো লাগে। কারন চুলের এই রঙটি সব ধরনের পোষাকের সাথে মানায় না। বিশেষ করে কার্ল মাঝারী সাইজের চুলে এই রঙটি বেশ ভাল লাগবে।

শেড রঙঃ
চুলের রঙের ক্ষেত্রে সবচেয়ে স্টাইলিশ হচ্ছে শেড রঙ। এটি উপরেরে দিকে গাঢ় হয়ে ক্রমাগত হালকা হতে হতে চুলের আগায় নেমে আসে। আপনার চেহারার ধরণ অনু্যায়ী যেকোন শেড পছন্দ করে নিতে পারে। যেমন ফর্সা ত্বকের জন্য বাদামী, ব্রুনেট, গোল্ডেন কপার, সাম্বার, পার্পেল বারগোন্ডি ইত্যাদি। আবার একটু ডার্ক স্কিনের জন্য ডার্ক চকলেট, ব্রুনেট, কপার ইত্যাদি। চুলে শেড করতে চাইলে চুল একটু ছোট অর্থাৎ কাধ পর্যন্ত থাকলে বেশী ভালো হয়। এক্ষেত্রে যাদের চুল স্ট্রেইট তারা কালার করার পর চুলের নিচের অংশে হালকা কার্ল করে নিতে পারেন। এতে আরো স্টাইলিশ লাগবে।

 

মডেলঃ ভাবনা

চুলের মোড়ানো খোপা

চুলের মোড়ানো খোপা

চুল তার কবেকার বিদিশার অন্ধকার দিশা” সেই আদিকাল থেকে আজকের দিন পর্যন্ত কবিরা তাদের নাইকাদের সৃষ্টির প্রশংসায় চুলের গুণগান গেয়েছেন। সময়ের সাথে সাথে বদলে গেছে চুলের ফ্যাশন আর সাথে সাথে চুল বাধার ধরনও। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আবার ঘুরে এসেছে লম্বা চুলের ফ্যাশন। অনেক সময়ই এই লম্বা চুল খোলা রেখে কাজে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই আজকাল সবাই চুল খোলা না রেখে একটু ডিজাইন করে বেধে রাখতে বেশী পছন্দ করে। চুলের মোড়ানো খোপাকিন্তু সময়ের অভাবে অত কষ্ট করে সময় নিয়ে চুল বাধতে পছন্দ করে না। তাছাড়া এখনতো শীতকাল। এখন বেশীক্ষন চুল খোলা রাখাও সম্ভব নয়। তাই আজকে আমরা খুব সহজ একটি ডিজাইন খোপা করা নিয়ে এই টিউটোরিয়াল এ আলোচনা করব।

প্রথমে চুল ভালোভাবে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে শুকিয়ে নিন। এরপর এতে হিট ট্যামিং স্প্রে লাগিয়ে মোটা ব্রাশ দিয়ে আচড়ে চুলেকে সোজা করে নিন। চুলে শ্যাম্পু করা না থাকে হেয়ার স্প্রে চুলে ভালোভাবে বসবে না।

এবার চুলের একপাশ থেকে কিছু চুল নিয়ে একে আস্তে আস্তে মোড়াতে মোড়াতে কানের পাশ দিয়ে পেছনের দিকে নিয়ে আসতে থাকুন। আপনার চুল যদি সামনে থেকে কাটা থাকে তাহলে যেই চুলগুলো বেড়িয়ে যাবে তা আস্তে আস্তে ঝরে যেতে দিন। ওগুলো টানলে পেছনের চুল নষ্ট হয়ে যাবে।

এরপর আরেক পাশের চুল ও এইভাবে মোড়িয়ে পেছনের দিকে নিয়ে আসুন। খেয়াল রাখতে হবে এটি যেনো আপনার চেহারা থেকে দূরে থাকে।

এবার দুই পাশ মোড়ানো হয়ে গেলে পেছন দিকে নিয়ে চুলের ক্লীপ দিয়ে লাগিয়ে নিন। খেয়াল রাখতে হবে চুল যেনো শক্ত কিছু দিয়ে আটা হয়। নয়ত খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

এরপর বাকি চুলগুলো একসাথে মোড়িয়ে খোপার মত করে নিয়ে প্রয়জনীয় ক্লীপ লাগিয়ে এটে নিন। চাইলে আপনি চুল খোলা ও রেখে দিতে পারেন।

মডেলঃ নিপা

চুল ও ত্বকের ক্ষেত্রে দই এর ব্যাবহার

চুল ও ত্বকের ক্ষেত্রে দই এর ব্যাবহার

দই আমাদের সবারই খুব পছন্দ কারন এটা আমাদের শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে। তাছাড়া দই ত্বক এবং চুলের ক্ষেত্রে অনেক উপকারি ভূমিকা পালন করে থাকে। দই খাওয়ার ফলে যেমন শরীরের ভেতর যেমন উপকার হয় তেমনি এটা মুখে এবং চুলেও ব্যাবহার করলে অনেক প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখে। এটা লিকুইড জাতীয় খাবার যার ফলে ছোট বড় কমবেশি সবাই খেতে পছন্দ করে।

প্রথমে আমরা চুলের ক্ষেত্রে দই এর ব্যাবহার নিয়ে আলোচনা করব

কোঁকড়ানো চুলের ক্ষেত্রেঃ

যাদের কোঁকড়ানো চুল তাদের জন্য এই প্যাকটি অনেক উপকারে আসবে। কারন এর ফলে চুল সোজা এবং নরম হয়ে যাবে। ৩ চামচ দই এর সাথে ২ চামচ নারিকেল তেল এবং ৪ চামচ আলভেরা জেল একসাথে মিক্সড করে চুলে ব্যাবহার করতে হবে। আধা ঘণ্টা পর শুকিয়ে আসলে পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে সাথে শ্যাম্পু ব্যাবহার করতে হবে। এই প্যাক আপনার চুলের লক খুলতে সাহায্য করবে।

চুল ও ত্বকের ক্ষেত্রে দই এর ব্যাবহারশুষ্ক চুলের উজ্জলতা ফিরিয়ে আনেঃ

 এই সময় বিশেষ করে চুল অনেক শুষ্ক হয়ে যায় এবং বিভিন্ন ময়লা জমে। এই সমস্যাটা কমবেশি সবার মধ্যে দেখা যায় এর ফলে আমরা খুব দামি ব্রান্ডের প্রোডাক্ট কিনে এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করি। কিন্তু আমরা ইচ্ছা করলে ঘরে বসে এই সমস্যার সমাধান করতে পারি এর জন্য প্রয়োজন একটু সময় বের করা। আধা কাপ দই এর সাথে ২ চামচ বাদামের তেল এবং ২টা ডিম ফেটে পুরো চুলে ব্যাবহার করতে হবে। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে ভালোভাবে চুল পরিষ্কার করতে হবে।

খুশকি দূর করার ক্ষেত্রেঃ

দই এর মধ্যে এক ধরনের এসিড আছে যা চুলের খুশকি দূর করার ক্ষেত্রে অনেক উপকার করে। কারন এর মধ্যে যে প্রোটিন আছে তা এক ধরনের দুধ হিসেবে ব্যাবহার করা হয়। এক কাপ দই পুরো চুলে দিয়ে ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে তারপর শ্যাম্পু দিয়ে পরিস্কার করে ফেলতে হবে। এই প্যাক ব্যাবহার করার ফলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন আপনার চুল খুশকি মুক্ত হয়েছে।

হেয়ার ফল দূর করার ক্ষেত্রেঃ

হেয়ার ফল দূর করার জন্য দই এর সাথে মেথি মিক্সড করে চুলে ব্যাবহার করতে হবে। ৪৫ মিনিট পর চুল ধুয়ে ফেললে আপনি নিজেই পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন। এই প্যাকটি হেয়ার ফল দূর করার ক্ষেত্রে অনেক পরিক্ষিত।

সিল্কি চুলের ক্ষেত্রেঃ

সিল্কি চুলের জন্য দই, লেমন জুস, মধু, ডিম একসাথে মিক্সড করে চুলে দিতে হবে। ৩০ মিনিট পর পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলবেন। এটা আপনার চুলের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।

এখন আমরা আলোচনা করব ত্বকের ক্ষেত্রে দই এর ব্যাবহার

ত্বকের টান দূর করাঃ

ত্বকের টান দূর করতে হলে এই প্যাকটি অনেক কাজ করে। দই, লেমন জুস, ময়দা, বেসন সবগুলো মিক্সড করে টান ত্বকে দিতে হবে। ১৫ মিনিট রেখে দেওয়ার পর মুখ পরিস্কার করে ফেলতে হবে।

চুল ও ত্বকের ক্ষেত্রে দই এর ব্যাবহারত্বকের উজ্জলতার ক্ষেত্রেঃ

এই প্যাক ব্যাবহার করার ফলে ত্বকের উজ্জলতা ফিরে আসবে। মুসর ডাল, দই, অরেঞ্জ টুকরো করে প্রথমে ব্লেন্দ করতে হবে এরপর এর সাথে মধু মিক্সড করে ত্বকের মধ্যে ব্যাবহার করতে হবে। ১৫ মিনিট পর্যন্ত রেখে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

ব্রণ প্রতিকারেঃ

যাদের মুখ তৈলাক্ত তাদের ব্রণের সমস্যা বেশি দেখা দেয়। আর ব্রণ মুখের লাবন্নতাকে নষ্ট করে দেয়। ব্রণ থেকে প্রতিকার পেতে হলে এই প্যাকটি ব্যাবহার করতে হবে। দই এর সাথে হলুদ, সামান্য চিনি এবং সান্দাল উড পাউদার অথবা চন্দন মিক্সড করে ব্রণের জায়গাগুলোতে দিতে হবে। অল্প কতক্ষণ মাসাজ করে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। এই প্যাকটি সপ্তাহে এক বার ব্যাবহার করলে আপনার মুখের ব্রণ খুব তাড়াতাড়ি চলে যাবে।

এই প্যাকগুলো আমরা ঘরে বসেই করতে পারি এর জন্য প্রয়োজন শুধু একটু সময় আর ধৈর্য।

মডেলঃ অনন্যা

প্রাকৃতিকভাবে চুল সোজা করার পদ্ধতি

প্রাকৃতিকভাবে চুল সোজা করার পদ্ধতি

সুন্দর এবং স্ট্রেইট চুল সবাই পছন্দ করে। কারণ এই ধরণের চুলে যেকোনো ধরণের স্টাইল করা যায়। সাধারণ কার্লি চুলে ফ্যাশন করতে ও একে সমসময় সুন্দর রাখতে অনেক সমস্যা হয়। এজন্য অনেকেই আজকাল চুল আয়রণ করে চুলকে সোজা করে ফেলে। চুল সোজা করার এই পদ্ধতিকে রিবন্ডিং বলা হয়। সাধারণ এটা চুলকে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সোজা রাখতে পারে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পরে এটা আবার আগের মত হয়ে যায়। তাছাড়া এই রিবন্ডিং পদ্ধতির আরেকটি সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে এটা অনেক ব্যায়বহুল ও এর অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। যেমন চুল ঝড়ে যাওয়া, চুল নিষ্প্রাণ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। কিন্তু যদি প্রাকৃতিকভাবেই চুলকে আয়রণ ছাড়াও স্ট্রেইট করা যায় এবং সেটা কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই তাহলে তো কোনো কথাই নেই। যদিও এই ভাবে চুল সোজা করা্র পদ্ধতিটি একটু সময়সাপেক্ষ, কিন্তু তবুও এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। বরং এটি চুল সোজা করার সাথে সাথে চুলকে আরো সুন্দর করে তোলে। এতে করে আপনার অনেক টাকাও বেচে যাবে এবং তার সাথে সাথে আপনার চুল আরো ঝলমলে করে তুলবে। আজ আমরা এখানে প্রাকিতিকভাবে চুল সোজা করার কয়েকটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব।
প্রাকৃতিকভাবে চুল সোজা করার পদ্ধতিনারিকেলের দুধে চুল সোজা করার প্রাকিতিক উপাদান থাকে। একটা নারিকেল ভালোভাবে গ্রেট করে এর থেকে দুধ বের করে নিন। এবার এর সাথে কয়েক ফোটা লেবুর রস যোগ করে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণটিকে ২ থেকে ৩ ঘন্টার জন্য ফ্রীজে রেখে নিন যতক্ষণ পর্যন্ত এর উপর একটা ক্রীমের আবরণ তৈরী হয়। এবার চুল ভালোভাবে আচড়ে নিয়ে মাথা থেকে চুলের আগ পর্যন্ত ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। এরপর একটা গরম তোয়ালে দিয়ে মাথা মুড়িয়ে নিয়ে ১ ঘন্টা অপেক্ষা করুন। এক ঘন্টা পর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে শুকিয়ে নিন। এতে আপনার চুল কোমল হওয়ার সাথে সাথে অনেক সোজা হয়ে যাবে।
মধুর উপকারী উপাদান চুল সোজা করতে অনেক উপকারী। এক কাপ কাচা দুধের মধ্যে এক চামুচ মধু মিশিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার এটি চুলের আগা থেকে গোড় পর্যন্ত ভালোভাবে লাগিয়ে কমপক্ষে ২ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে। এরপর চুলে শ্যাম্পু করে মোটা চিরুনী দিয়ে চুল আচড়ে নিন। এটি সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন করলে খুব দ্রুত প্রাকিতিকভাবেই চুল সোজা হয়।
অলিভ অয়েল এবং ডিম একসাথে চুলের জন্য অনেক উপকারী ভূমিকা পালন করে। একটা পাত্রে দুইটা ডিম ভালোভাবে ফেটে নিন। এবার এর সাথে এক চামুচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে আবার ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। এবার চুল মোটা দাতের চিরুনী দিয়ে আচড়ে নিয়ে এতে গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত এই মিশ্রণটি লাগিয়ে ১ ঘন্টা অপেক্ষা করুন। সম্পুর্ন শুকিয়ে গেলে এটি চুলের সাথে শক্ত হয়ে যাবে। এবার চুল ধুয়ে নিয়ে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এটি সপ্তাহে ৩ দিন করলে কার্লি চুলের অয়েভ অনেক কমে আসে এবং চুলের গোড়া শক্ত হয়।
আধা কাপ গরম তেল যেমন নারিকেল, অলিভ অয়েল এর সাথে একটা এলোভেরা পাল্প নিয়ে জেলোর মত তৈরী করে নিন। এরপর এটা চুলে লাগিয়ে সম্পুর্ন শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এবার সম্পুর্ণ শুকিয়ে গেলে চুলে শ্যাম্পু করে নিতে হবে। এটি কার্লের অয়েভ কমিয়ে চুলকে ডিপ কন্ডিশন করতে সাহায্য করে।
একটা ডিমের সাদা অংশ ভালোভাবে ফেটে নিন। এবার এর সাথে এক কাপ মুলতানি মাটি ও ৫ চামচ চালের গুড়া মিশিয়ে পেষ্ট বানিয়ে নিন। এরপর এই মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে ১ ঘন্টা অপেক্ষা করুন। এরপর প্রথমে পানি দিয়ে ধুয়ে তারপর শ্যাম্পু করে নিন। এই পদ্ধতিতে চুল খুব সহজে সোজা করা সম্ভব।

চুল এবং ত্বকের যত্নে গাজর

চুল এবং ত্বকের যত্নে গাজর

স্বাস্থ্যকর ত্বক এবং চুলের জন্য সবজি অনেক উপকারী। এসব সব্জির মধ্যে গাজর এ রয়েছে এক ধরনের আন্টিঅক্সাইড যা মুখের বয়সের ছাপকে দূরে রাখে এবং ত্বকের ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা করে। গাজর মুখের ক্ষতিকর টক্সিনকে দূর করে এবং স্কিনকে বেশিদিন ইয়াং রাখতে সাহায্য করে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যেকোনো ধরনের ত্বক ও চুলের ক্ষেতে গাজর ব্যাবহার করা যায়।

চুল এবং ত্বকের যত্নে গাজরত্বককে কোমল করতে গাজর এর ভুমিকা অনেক বেশি। ২ টি ফ্রেশ গাজর নিয়ে এতে ১ টেবিল চামুচ কাচা দুধ, ১ টেবিল চামুচ মধু, ও কয়েক ফোটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে পেস্ট তৈরী করুন। এইবার ফেইস ওয়াস দিয়ে মুখ ধুয়ে এই পেস্ট সম্পুর্ন মুখে লাগিয়ে নিন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর এটাকে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে আপনার ত্বক হাইড্রেট হবে এবং ত্বকে আসবে প্রাকিতিক কোমলতা।

ড্যামাজ মুক্ত চুল পাওয়ার জন্য একটা গাজর কে পানি দিয়ে কিছুক্ষন সেদ্ধ করে ব্লেন্ড করে নিন। এবার এর সাথে আধা কাপ টকদই ও এবং একটি ফেটানো ডিম দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার এটাকে চুলে লাগিয়ে ১ ঘন্টা অপেক্ষা করে কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। চুল শুকানোর পর পার্থক্যটা নিজেই অনুভব করতে পারবেন।

মুখের বলিরেখা দূর করতে গাজরের রস ভালো টোনার হিসেবে কাজ করে। একটা গাজরকে পেস্ট করে মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। রোদে পোড়া দাগ দূর করতে গাজর এর সাথে আলু পেস্ট করে মুখে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

ফ্রেশ গাজরের রস এর সাথে গোলাপ জল মিশিয়ে এটাকে বোতলে সংরক্ষন করুন। এবার এটাকে স্প্রে বোতলে ভরে মুখে ব্যাবহার করুন। এটা মুখের যেকোনো ড্যামেজ সারাতে সাহায্য করবে।

সেদ্ধ করা গাজরকে ব্লেন্ড করে এর সাথে কয়েক ফোটা লেবুর রস, ১ টেবিল চামুচ মধু ও কয়েক ফোটা অলিভ ওয়েল মিশিয়ে মিশ্রন তৈরী করুন। এবারভ এটাকে সম্পুর্ন মুখে, ঘাড়ে এবং গলায় লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। ২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে আপনার ত্বকে স্বাভাবিক উজ্জল্য আসবে।

 

মডেলঃ সুমাইয়া জামান

ছবিঃ রিলেকশন মিডিয়া

দীঘল কালো চুলের যত্নে কয়েকটি অসাধারণ টিপস:

দীঘল কালো চুলের যত্নে কয়েকটি অসাধারণ টিপস

আমাদের দেশে এরকম মানুষ খুব কমই দেখা যায়, যাদের চুল পড়ে না। ইদানিং চুল পড়াটা মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের ধারণা, এটা শুধু অপুষ্টিজনিত কারণে হয়ে থাকে। কিন্তু না, এটা ছাড়াও আরও অনেকগুলো বিষয় চুল পড়ার জন্য দায়ী। সেগুলো আমাদের আলোচনার পরবর্তী অংশে আলোচনা করা হবে। ঝলমলে লম্বা কালো চুল মেয়েদের বাহ্যিক সৌন্দর্যের ধারক ও বাহক। সপ্তাহে এক বা দুই দিন চুল পরিষ্কার করলেই চুলের সঠিক যত্ন নেয়া হয়না। চুল ঘন, কালো ও আকর্ষণীয় রাখতে হলে অবশ্যই চুলের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। এখানে আপনার জন্য এমন কয়েকটি টিপস দেয়া আছে যেগুলো অনুসরণের মাধ্যমে আপনি আপনার চুল পড়া, চুল ভেঙে যাওয়া থেকে চুল রক্ষা করতে পারবেন। নিম্নলিখিত টিপস অনুসরণ করে ঘরে বসেই আপনি আপনার চুলের যত্ন নিতে পারেন।

দীঘল কালো চুলের যত্নে  কয়েকটি অসাধারণ টিপস:=> রাতে ১০০ বার চুল আঁচড়ান
এটা মূলত একটি প্রবাদ এবং বহুকাল আগে থেকে এখনো পর্যন্ত এটা অনেকের মুখে শোনা যায়। বলা হয়ে থাকে, রাতে যদি ১০০ বার চুল আঁচড়ানো হয় তাহলে এটা চুলের ক্ষেত্রে অনেক উপকারী। আসলে আপনি আপনার চুল কয়বার আঁচড়ালেন এটা কোন মুখ্য বিষয় না। চুল আঁচড়ানোর পূর্বে যে জিনিসটির দিকে আপনাকে প্রথমেই খেয়াল করতে হবে সেটা হচ্ছে আপনার চিরুনি। একটি ভাল চিরুনি দ্বারা চুলের একেবারে গোঁড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালভাবে কয়েকবার আঁচড়ান। চুল আঁচড়ানোর পূর্বে আপনি প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার করবেন। এভাবে প্রতি রাতে আপনার চুল আঁচড়াবেন। এতে আপনার চুলের গোঁড়া শক্ত হবে এবং চুল পড়া ও ভাঙ্গা রোধ হবে।

=> জীবজন্তুর হাড় বা দাঁতের তৈরি চিরুনি ব্যবহার করুন
আমরা মূলত চুল আঁচড়ানোর কাজে সিনথেটিক চিরুনি ব্যবহার করি। কিন্তু, এসব চিরুনি থেকে বিভিন্ন জীবজন্তুর হাড় দ্বারা তৈরি চিরুনি চুলের জন্য অনেক উপকারী। যেমন-হাতির দাঁত বা শূকরের পিঠের হাড় দ্বারা তৈরি চিরুনি। এসব চিরুনি সিনথেটিক এর চিরুনির চেয়ে অনেক দামী। কিন্তু, এটা ব্যবহার করে আপনার চুলের ময়লা ও শুষ্কতা দূর করা সম্ভব হবে।

=> ভেজা চুল কখনো আঁচড়াবেন না
চুল ভেজা থাকলে কোন অবস্থাতেই চুলে চিরুনি ব্যবহার করা যাবে না। ভেজা অবস্থায় চুল শুষ্ক চুলের থেকে অনেক দুর্বল হয়ে থাকে। চুল আঁচড়াতে হলে আগে অবশ্যই চুল ভালভাবে পরিষ্কার তোয়ালে দ্বারা মুছতে হবে অথবা শুকানোর জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

=> বাণিজ্যিক শ্যাম্পু ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই ভেবে দেখবেন
আমরা অনেকেই হয়তো জানিনা বাজার থেকে আমরা যেসব শ্যাম্পু কিনে আনি সেগুলোতে আসলে কি কি উপাদান বিদ্যমান। বিভিন্ন বোতলের গায়ে অনেক সময় ‘ন্যাচারাল’ শব্দটি লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু, আসলেই কি তাই? সত্যিকার অর্থে বিষাক্ত উপকরণ ছাড়া প্রাকৃতিকতার কোন ছোঁয়াই এখানে খুঁজে পাওয়া যায়না। শ্যাম্পুতে বিদ্যমান কয়েকটি উপকরণের মধ্যে সোডিয়াম লরেল সালফেট, প্যারাবেন্স এবং বেঞ্জাইল বেঞ্জয়েট ক্যান্সার, চামড়া জ্বলা পোড়ার কারণ। বেকিং সোডা, সাদা ভিনেগার এবং প্রাকৃতিক তেল মিশ্রণ করে একটি লেই তৈরি করে নিন এবং চুলে প্রয়োগ করুন। এই উপকরণগুলো আপনি বিষাক্ত উপকরণযুক্ত শ্যাম্পুর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করুন।

=> সপ্তাহে একবার চুল কনডিশনিং করুন
গরম তেল চুল কনডিশনিং করার ক্ষেত্রে অনেক উপকারী। এটা প্রয়োগে চুল অনেক ঝরঝরে হয় এবং এটা চুলের শুষ্কতা ভাব দূর করে। এটা আপনি বাড়িতে বসেই করতে পারেন। প্রথমে একটি কাপে এক চতুর্থাংশ অলিভ অয়েল বা কোকোনাট অয়েল বা অ্যালমণ্ড অয়েল এর যেকোনো একটি অয়েল নিন এবং এটাকে উষ্ণ গরম করে নিন। এবার এটা আপনার আঙ্গুলের সাহায্যে চুলের গোঁড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালভাবে ম্যাসাজ করুন। সমস্ত চুল মাথার উপরের দিকে নিয়ে আসুন। এরপরে প্রথমে শাওয়ার ক্যাপ দ্বারা আপনার মাথা মুড়িয়ে নিন এবং আরেকটি তোয়ালে দ্বারা আপনার পুরো মাথা মুড়িয়ে নিন। এটা করার কারণে আপনার মাথার মধ্যে একটা তাপের সৃষ্টি হবে যাতে করে তেলটি আপনার চুলের গভীর অংশে পৌঁছায়। আধা ঘণ্টা এভাবে রেখে দিন। এবার খুব ভাল করে মাথাটা ধুয়ে ফেলুন। চুল থেকে সব তেল ধুয়ে ফেলতে চাইলে আপনি সাদা ভিনেগার এবং লিকুইড ক্যাস্তাইল সাবান ব্যবহার করতে পারেন।

=> চুলের যত্নে সঠিক খাদ্য গ্রহণ করুন
চুল যদি ফ্যাকাসে ও নিস্তেজ থাকে তাহলে এটা শরীরের উপরেও প্রভাব ফেলে। প্রতিদিন পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খাবেন। যেসব খাবার খেলে আপনার চুল সুস্থ থাকবে এবং সেই সাথে শরীর ও সুস্থ থাকবে সেগুলো হচ্ছে- স্যালমন মাছ, আখরোট, দই, মিষ্টি আলু, শাক। তাছাড়া সুন্দর বেণি করতে চাইলে জিঙ্ক, ভিটামিন, প্রোটিন এবং মিনারেলস সমৃদ্ধ খাবারও খেতে হবে।

 

মডেলঃ ভাবনা

ছবিঃ বুলবুল আহমেদ

তৈলাক্ত চুলের যত্ন

তৈলাক্ত চুলের যত্ন

চুল মেয়েদের সৌন্দর্যের সবচেয়ে গুরুত্তপুর্ন অংশ। সাজের ধরন অনুযায়ী চুলের ফ্যাশনও বদলে যায়। কিন্তু এর জন্য চুল ভালো রাখা খুব জরুরি। আর চুল ভালো রাখার জন্য নিয়মিত এর যত্ন নেয়া উচিত। চুলের ধরন অনুযায়ী এর যত্ন ও ভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন তৈলাক্ত চুলের ক্ষেত্রে চুলের একটু বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। কারন চুল তৈলাক্ত হলে এতে ধুলোবালি বেশি জমে এবং খুশকি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছারা এই ধরনের চুলের জন্য স্কাল্পএ ও সমস্যা হয়ে থাকে। এখন একটু সতর্ক হলে ঘরে বসেই হাতের কাছের কিছু উপাদান দিয়েই এই সমস্যা থেকে সমাধান পেতে পারেন।

তৈলাক্ত চুলের যত্নলেবুর রসের ভিটামিন সি চুলের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে সাহায্য করে এবং চুলকে গোড়া থেকেও মজবুত করে। একটা লেবু চিপে নিয়ে আধা চাপ পানিতে মিশিয়ে নিন। এবার এটাকে সম্পুর্ন চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

চা এর মধ্যে ট্যানিক যুক্ত এক ধরনের কষাটে পদার্থ আছে যা চুল থেকে অতিরিক্ত তেল দূর করত সাহায্য করে। একটা টি-ব্যাগ কে কিছুক্ষন কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন অথবা চা চুলায় জ্বাল দিয়েও নিতে পারেন। এবার এটাকে মাথার তালুতে লাগিয়ে কিছুক্ষন অপেক্ষা করুন। কিছুক্ষন পর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

বেকিং সোডা চুলের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে সাহায্য করে। দুই টেবিল চামুচ বেকিং সোডা হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে নিন। কিছুক্ষন রেখে চুল ধুয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

ভিনেগার ব্যাবহারেও চুলের তৈলাক্ততা কমে যায়। ৩ টেবিল চামুচ ভিনেগার এক কাপ পানিতে মিশিয়ে স্প্রে বোতল এ ভরে সম্পুর্ন চুলে স্প্রে করুন। ২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এতে চুলের তৈলাক্ত ভাব কমার সাথে সাথে চুল উজ্জ্বল অ হবে।

একটা পাত্রে একটা ডিম ভেঙ্গে তার সাথে ৩ টেবিল চামুচ মেহেদি পাওডার মেশান। এবার এর সাথে ১ চামুচ মধু ও ১ চামুচ অলিভ ওয়েল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। প্রয়োজন হলে এতে একটু গরম পানি মিশাতে পারেন। এবার এটাকে সম্পুর্ন চুলে লাগিয়ে ১ ঘন্টা অপেক্ষা করুন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন যতক্ষন পর্যন্ত চুল থেক এটা সম্পুর্ন পরিষ্কার না হয়ে যায়। সপ্তাহে ১ দিন ব্যাবহারে চুলের তৈলাক্ততা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

 

মডেলঃ সুমাইয়া জামান

ছবিঃ রিফ্লেকশন মিডিয়া