Category Archives: সৌন্দর্য

শীতের শুরুতে ছেলেদের ত্বক এবং চুলের সমস্যা এবং সমাধান

শীতের শুরুতে ছেলেদের ত্বক এবং চুলের সমস্যা এবং সমাধান

ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে শীত ও আবার ঘুরে চলে এল। আর এর সাথে সাথেই শুরু হয়ে যায় ত্বক ও চুলের যত সমস্যা। অনেকেই মনে করেন ছেলেদের রূপচর্চার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু শীতের শুরুতে তাদের ত্বকেরও অনেক সমস্যা শুরু হয়। চুল ভাঙ্গা, রুক্ষ ও চিটচিটে হয়ে যাওয়া, র‍্যাশ, ত্বকের শুষ্কতা, ঠোঁট ফাটা, পায়ের গোড়ালী ফাটা আরও কত কি। সাধারণত হঠাৎ করে ঋতু পরিবর্তনের সময় ত্বকের সহনশীলতা বদলে যায় ফলে এই সব সমস্যাগুলো হয়ে থাকে। তাই আজ আমরা এই শীতে ছেলেদের ত্বকের ও চুলের কিছু সাধারন সমস্যা নিয়ে কথা বলব এবং এ থেকে মুক্তির উপায় আলোচনা করব।

শীতের শুরুতে ছেলেদের ত্বক এবং চুলের সমস্যা এবং সমাধানশীতে আপনার ত্বকের সবচেয়ে বড় একটি সমস্যা হচ্ছে শুষ্কতা। মুখ ধোয়ার পরে তো এটি এত টানটান হয়ে থাকে যা খুবই আস্বস্থিকর। ক্রিম লাগানোর কিছুক্ষন পর্যন্ত ভালো থাকলেও কিছুক্ষন পর অতিরিক্ত তেল চিটচিটে হয়ে যায়। ফলে বারবার মুখ ধুতে হয়। তাই এ সময় এর চাই একটু অতিরিক্ত যত্ন। ত্বকের শুষ্কতা কমাতে প্রতিদিন সকালে ও রাতে মশ্চারাইজার যুক্ত ক্রীম ব্যাবহার করুন। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে ১/৪ কাপ দুধ এ ১ চামুচ মধু ও ১ চামুচ এলোভেরা জেল মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। ২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে করে আপনার ত্বকের শুষ্কতা তো কমবেই তার সাথে আপনার মুখ হয়ে উঠবে আরো কোমল ও উজ্জ্বল।

শীত কালে অনেকেরই চুল রুক্ষ হয়ে যায় এবং চুলে এক ধরনের চিটচিটে ভাব চলে আসে। এর ফলে অনেক সময় চুলের আগা ফেটে যায়। তাই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে শীতের রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চুলে নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল গরম করে ম্যাসাজ করে নিতে পারেন। একটি স্টীলের বাটিতে নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েল নিয়ে নিন। এবার একটা কাচা আমলকী কেটে এর সাথে মিশিয়ে নিন। এবার এটাকে চুলার উপর একটা কাপড় দিয়ে ধরে কিছুক্ষন গরম করে নিন। কিছুক্ষন রেখে গিয়ে কুসুম গরম থাকতে চুলের আগায় ও গোড়ায় ভালো করে আঙ্গুল দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তেল ম্যাসাজ নিন। মনে রাখবেন কখনোই খুব গরম তেল চুলে লাগাবেন না। এতে চুল পরে যেতের পারে। সারা রাত চুলে তেলের উপস্থিতিতে চুলের রুক্ষ ভাব কেটে যাবে এবং চুল হয়ে উঠবে ঝলমলে উজ্জ্বল।

শীতে ত্বকের আরেকটা সমস্যা হচ্ছে র‍্যাশ। অনেক সময় শরীরে লাল, ছোট ছোট ফুসকুনির মত হয়ে থাকে। এগুলো সাধারণত শীতকালে ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমন ও উলের পোশাক পরার কারনে হয়ে থাকে। এগুলো শরীরে চুলকানি ও অস্বস্থিকর অবস্থা তৈরী করে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন গোসলের পানিটাকে একটু ফুটিয়ে হালকা গরম পানি দিয়েই গোসল করুন। এছাড়া পানির ব্যাক্টেরিয়া দূর করার জন্য এন্টিসেপ্টিক জাতীয় কোনো লিকুইড মিশিয়ে নিতে পারেন। সবসময় উষ্ণ থাকার চেষ্টা করুন। উলের কাপড় পরার সময় অবশ্যই তার নিচে সুতি অথবা অন্য পাতলা এবং আরামদায়ক কাপড়ের কিছু পরে নিবেন।

শীতের দিনে আরেকটা কমন সমস্যা হচ্ছে পায়ের গোড়ালী ফেটে যাওয়া। এ থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন ঘুমানোর আগে অবশ্যই পায়ে পেট্রোলিয়াম জেলী লাগিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া প্রতিদিন গোসলের সময় শক্ত কিছু দিয়ে পায়ের গোড়ালীটা একটু ঘষে নিতে পারেন। এতে মৃত কোষগুলো বের হয়ে যাবে। এছাড়া নিয়মিত মশ্চারাইজার যুক্ত লোশন ব্যাবহার করুন। এতে করে হাত পায়ের খসখসে ভাব থাকে না।

মডেলঃ আনান 

ছবিঃ আতিক

 

ত্বক উজ্জ্বল ও পরিষ্কার রাখার উপায়

ত্বক উজ্জ্বল ও পরিষ্কার রাখার উপায়

মেয়েরা সব সময়ই চায় সবাই তার দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকুক। এজন্য তারা ত্বকের যত্নে যথেষ্ট সচেতন থাকে। কিন্তু এ সচেতনতা যখন তাদের কোন উপকারে না আসে তখন তাদেরকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেখা যায়। আমাদের আজকের আয়োজনে আপনার জন্য থাকছে কয়েকটি ন্যাচারাল বিউটি টিপস, যা অনুসরণে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে কোমল, স্নিগ্ধ এবং উজ্জ্বল।

টিপস ১
ত্বক উজ্জ্বল এবং ফর্সা করার জন্য লেবুর রস ও জৈব ঘাস এক সাথে মিশ্রণ করে নিয়ে এটা আপনার মুখে এবং ঘাড়ে ১০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন এবং ধুয়ে ফেলুন। এটা প্রয়োগে আপনার মুখের ব্রণ এবং কালো দাগ দূর হবে এবং ত্বক পরিষ্কার হবে।

ত্বক উজ্জ্বল ও পরিষ্কার রাখার উপায়টিপস ২
প্রতিদিন কমপক্ষে ২ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করুন। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পানে ত্বকের শুষ্ক ভাব দূর হয় এবং ত্বক হয়ে উঠে কোমল।

টিপস ৩
মুখে যদি ব্রণ থাকে তাহলে চা গাছের তেল তুলার সাহায্যে ব্রণের উপরে কয়েক ঘণ্টা পরপর প্রয়োগ করতে থাকুন। প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে ভিটামিন ই তেল আক্রান্ত স্থানে ১ ঘণ্টার জন্য প্রয়োগ করুন।

টিপস ৪
অতি দ্রুত ত্বকের গোলাপি আভা ফিরিয়ে আনতে অলিভ, কোকোনাট এবং জুজুবা তেল কয়েক ফোঁটা আপনার গালে এবং ভ্রু এর হাড়ে ধীরে ধীরে প্রয়োগ করুন।

টিপস ৫
ভাল ঘুম ত্বকের জন্য উপকারী। তাই ত্বকের যত্নে অবশ্যই সিল্ক এর বালিশ ব্যবহার করুন। এতে আপনার ঘুম পরিষ্কার হবে এবং আপনার ত্বক প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

টিপস ৬
ত্বককে মসৃণ ও কোমল রাখতে সামুদ্রিক কড মাছের যকৃত দ্বারা তৈরি তেল সম্পূরক উপাদান হিসেবে ব্যবহার করুন। এক্ষেত্রে লেবুর রস এবং কড লিভার তেল এর মিশ্রণ তৈরি করে নিয়ে শরীরে প্রয়োগ করতে পারেন।

টিপস ৭
সবুজ শাকসবজি ত্বকের জন্য একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান। এটা আপনি রান্না করে অথবা রস বানিয়ে খেতে পারেন। যদি রস বানিয়ে খেতে চান তাহলে প্রতিদিন এক কাপ করে নিয়মিত খাবেন। এটা আপনার ত্বকের বর্ণ উজ্জ্বল রাখবে এবং আপনার পরিপাকতন্ত্র সচল রাখবে।

ছবিঃ নাঈম ইসলাম

গরমে ত্বকের সতেজতায় ফ্রুট ফেসিয়াল

ত্বকের সতেজতায় ফ্রুট ফেসিয়াল

প্রচন্ড গরমে বাইরে বের হলে ধুলাবালি, রোদের তাপ, কালো ধোঁয়া ইত্যাদি মিলে ত্বককে অনেক মলিন ও নিষ্রাে ণ করে তোলে। ফলে বাসায় ফিরে মুখ ধোয়ার পর যত কিছুই ব্যাবহার করা হোক না কেনো চেহারায় সেই সজীব ভাবটা আর থাকে না। বিশেষ করে এই গরমে কোন পার্টি বা বিয়ের আগে যদি চেহারার এমন নিষ্প্রাণ অবস্থা হয় তাহলে কিছুতেই সেই সব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছে করে না। আবার প্রতিদিনের এই ব্যস্ততম জীবনের ভীড়ে হয়ত পার্লারে গিয়ে নিয়মিত ফেসিয়াল করাও হয়ে উঠে না। কিন্তু তাই বলে তো আর ঘরে বসে থাকা চলে না। কিন্তু চাইলে এই গরমে আপনি বাসায় বসে মৌসুমি ফল দিয়ে ফেসিয়াল করে ত্বকের লাবণ্য ও সজীবতা ফিরিয়ে আনতে পারেন। তাই আজ আমরা ফ্রুট ফেসিয়ালের কয়েকটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব।

গরমে ত্বকের সতেজতায় ফ্রুট ফেসিয়ালফ্রুট ফেসিয়ালের জন্য আপনি আপনার ত্বকের সাথে মানানসই কিছু ফল পছন্দ করতে পারেন। তবে কিছু কিছু ফল আছে যা সব ধরনের ত্বকেই বেশ মানিয়ে যায় যেমনঃ তরমুজ, স্ট্রবেরী, পাকা পেপে, কলা, শসা ইত্যাদি। ফ্রুট ফেসিয়ালের সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে অন্য সব ফেসিয়ালের চেয়ে অনেক কম সময়ে করা যায় এবং এর কোন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই। তাই প্রথমে যেকোনো ভালো মানের ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এরপর চুলে কোনো ক্লীপ দিয়ে পেছেন দিকে ভালোভাবে বেধে নিতে হবে। এরপর টোনার অথবা গোলাপ জলে তুলা ভিজিয়ে মুখের ময়লা পরিষ্কার করে নিতে হবে। এবার একটি বড় পাত্রে কুসুম গরম পানি নিয়ে এতে এক টুকরো লেবু চিপে নিন। এবার একটা বড় তোয়ালে দিয়ে মাথা মুড়িয়ে ঐ পানি থেকে ভাপ নিতে হবে যাতে করে মুখের পোর গুলো খুলে যায়। এভাবে ১ মিনিট করে সম্পুর্ন ১০ মিনিট ভাপ নিয়ে একটু বিরতি দিয়ে হালকা স্কারব দিয়ে ঘষে মুখ ধুয়ে নিচের যেকোনো একটি ফ্রুট ফেস প্যাক লাগিয়ে নিন।

তরমুজের মাস্কঃ

এক কাপ তরমুজ নিয়ে এটি চামুচ দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। এবার এর সাথে আধা চামুচ মধু মিশিয়ে আবার ফেটে নিন। আবার এটি আপনার সম্পুর্ন মুখে লাগিয়ে নিন। যদি মিশ্রণটি খুব বেশী পাতলা হইয়ে যায় তাহলে এর উপর একটি পরিষ্কার নরম কাপড় দিয়ে ঢেকে দিন। এবার ২০ মিনিট পর কাপড়টি আলতো করে টেলে তুলে কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে নিন।

আপেলের মাস্কঃ

আপেলের এই মাস্কটি সব ধরনের স্কিনের জন্য অনেক ভালো হয়। প্রথমে অর্ধেক গ্রীণ আপেল কেটে নিন। এবার এর সাথে ১ চামুচ মধু, ১ টি ডিমের কুসুম ও ২ ফোটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে ব্লেন্ড করুন যতক্ষন পর্যন্ত না এটি ফোমি হয়ে যায়। এবার এটি চোখের চারপাশ বাদে সম্পুর্ন মুখে লাগিয়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। আরপর কুসুম গরম পানিতে ঘষে ঘষে তুলে ফেলুন। এতে মাত্র কয়েক দিনেই আপনার মুখের সজীবতা ফিরে আসবে।

গরমে ত্বকের সতেজতায় ফ্রুট ফেসিয়ালটমেটোর মাস্কঃ

এই মাস্কটি তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অনেক উপকারী। বিশেষ করে যাদের ত্বকে রোদে পোড়া দাগ আছে তারা এটি ব্যাবহার করতে পারেন। একটা পাকা টোমেটো কেটে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এবার এর জেলোটা দিয়ে প্রথমে মুখ ঘষে নিতে হবে। এরপর ব্লেন্ড করা অংশটা মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে নিন। এতে ত্বকের মৃত কোষ গুলো বের হয়ে যায় এবং ত্বক অনেক উজ্জ্বল হয়।

স্ট্রবেরীর মাস্কঃ

এই ফলটি সারা বছর কম বেশী পাওয়া যায়। এটী খেতেও যেমন সুস্বাদু তেমনি রূপচর্চায়ও এর বিশেষ ভূমিকা আছে। ২ টা স্ট্রবেরী ভালোভাবে পেষ্ট করে নিন। এবার এটি সম্পূর্ন মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এবার কুমুম গরম পানি দিয়ে আলতো করে ঘষে মুখ ধুয়ে নিন।

কলার মাস্কঃ

একটা পাকা কলা ভালোভাবে পেষ্ট করে নিন। এবার এর সাথে ১ চামুচ মধু মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে তার উপর নরম পাতলা কাপড় দিয়ে ঢেকে দিন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর মাস্ক টি শুকিয়ে গেলে হাত দিয়ে আলতো করে টেনে তুলে নিন। এবার ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে আয়নার নিজের চেহারার পার্থক্যটা অনুভব করুন।

পাকা আমের মাস্কঃ

যাদের ত্বক অনেক সেন্সিটিভ তাদের জন্য পাকা আম অনেক উপকারী একটা উপকরন। একটা পাকা আম ভালোভাবে চটকে মুখে লাগিয়ে নিন। এবার ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে নিন।

বিঃ দ্রঃ সাধারণত ফ্রুট ফেসিয়াল সপ্তাহে ১ দিন করা যায়। আপনি চাইলে মাস্ক আগে বানিয়ে ফ্রীজে রেখে দিতে পারেন। ফ্রুট মাস্কগুলো ফ্রীজে এক সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে।

 

মডেলঃ ঝিলমিল

ছবিঃ রিফ্লেকশন মিডিয়া

ঘাড় ও মুখের রোদে পোড়া দাগ দূরীকরনে ৭ টি প্রাকৃতিক চিকিৎসা

ঘাড় ও মুখের রোদে পোড়া দাগ দূরীকরনে ৭ টি প্রাকৃতিক চিকিৎসা

প্রত্যেকটা মানুষই নিজেকে সবার সামনে খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে চায়। কিন্তু সুন্দর চেহারা মানেই কিন্তু ফর্সা দেখানো নয়। সৌন্দর্যের প্রথম শর্তই হচ্ছে দাগহীন পরিষ্কার ত্বক। ত্বক পরিষ্কার রাখা যদিও খুব বেশী সমস্যা নয় কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যখন ত্বকে বিভিন্ন ধরণের দাগ পড়ে। তখন আয়নার সামনে নিজেকে দেখতেও ভালো লাগে না। সাধারণত অনেক কারনেই মুখে কালো দাগ পড়তে পারে যেমন- রোদে পোড়া দাগ, পিগমেন্টেশন, ব্ল্যকহেডস, ব্রণের কালো দাগ ইত্যাদি। কিন্তু এই সময় সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে মুখে রোদে পোড়া কালো দাগ। কারণ যেহেতু এখন রোদের তাপ অনেক বেশী সেইজন্য অনেক সময় বাইরে থাকার ফলে মুখে রোদের তাপ লেগে কালো কালো ছোপ পড়ে। আর সারাদিন কাজ শেষে বাসায় ফিরে আয়নায় নিজের এই চেহারা দেখলে মনটাই খারাপ হয়ে যায়। আবার অনেকেই আছেন যাদের প্রতিনিয়ত পার্লারে গিয়ে ফেসিয়াল করা সম্ভব হয় না। তাই এই সমস্যার সবচেয়ে সহজ সমাধান হচ্ছে বাসায় একটু সময় নিয়ে হাতের কাছেরকিছু উপকরন ব্যাবহার করে নিজেই এর ট্রীট্মেন্ট করা। তাই আজ আমরা আলোচনা করব কিভাবে বাড়িতে বসেই আপনি মুখের কালো দাগ দূর করতে পারেন।

দুধের সরঃ

মুখের কালো দাগ দূর করতে একটি উপকারী উপাদান হচ্ছে দুধের সর। প্রথমে এক চামুচ দুধের সর একটা বাটিতে নিয়ে ভালোভাবে ফেটে নিতে হবে। এরপর এর সাথে ২ চা চামুচ টমেটোর রস মিশিয়ে আবার বীট করে নিতে হবে। এবার এই মিশ্রণটি মুখে ও ঘাড়ে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে নিন।

ঘাড় ও মুখের রোদে পোড়া দাগ দূরীকরনে ৭ টি প্রাকৃতিক চিকিৎসাআমন্ডঃ

রোদে পোড়া দাগের জন্য আমন্ড অনেক উপকারী উপাদান। ৮ থেকে ১০ টা আমন্ড সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর এটার খোসা ফেলে দিয়ে এর সাথে ১ চামুচ চন্দন ও এক টেবিল চামুচ মধু মিশিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। এবার এটী সম্পুর্ন মুখে ও ঘাড়ে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর গোসলের সময় কুসুম গরম পানিতে হাত দিয়ে আলতো করে ঘষে তুলে নিন।

চন্দনঃ

এক চামুচ চন্দন এর সাথে ১ চামুচ গ্লিসারিন এবং গোলাপ জল মিশিয়ে পেষ্ট তৈরী করুন। যদি গোলাপ জল না থাকে তাহলে এর পরিবর্তে মধু অথবা দুধ ব্যাবহার করতে পারেন। এবার এই ঘন পেষ্টটি রোদে পোড়া এলাকায় লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে নিন।

আলুর রসঃ

সাধারণত রোদে পোড়া দাগ দূর করতে আলুর রসের বিকল্প নেই। কারন আলুর রসের এন্টিওক্সিডেন্ট মুখের দাগের বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরী করতে সাহায্য করে। আলু কেটে ব্লেন্ড করে নিন। এবার এটি এক চামুচ মধুর সাথে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে নিন।

টক দইঃ

ঘাড়ের কালো ছোপ দূর করতে টক দই এর তুলনা হয় নয়া। ৩ চামুচ টক দই এর সাথে ১ চামুচ মধু ও ১ চামুচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এবার গোসলের ২০ মিনিট আগে মুখে ও ঘাড়ে লাগিয়ে নিন। এরপর ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিন। এটি সপ্তাহে ৩ দিন ব্যাবহারে রোদে পোড়া দাগ অনেক হালকা হয়।

গোলাপ জলঃ

সাধারণত বেশীক্ষন রোদের মধ্যে থাকলে গরমে উপরের ত্বক অনেক উত্তপ্ত হয়ে যায়। ফলে কালো ছোপ পড়ে। তাই প্রত্যেকবার রোদ থেকে এসে গোলাপ জলে তুলা ভিজিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন। এছাড়া প্রতিদিন বিকেলে ১ চামুচ মধু গোলাপ জলে মিশিয়ে কালো দাগের উপর লাগিয়ে ৫ মিনিট পর মুখ ধুয়ে নিন।

লেবুর রসঃ

মুখে দাগের জন্য লেবুর রসও অনেক উপকারী। দাগ বেশী গাঢ় হলে দাগের উপর লেবুর উপর তুলা ভিজিয়ে সরাসরি লাগিয়ে নিন। এরপর ১০ মিনিট রেখে মুখ ধুয়ে নিন। তবে যাদের ত্বক অনেক সেন্সিটিভ তাদের লেবু নয়া ব্যবহার করাই ভালো।

মডেলঃ নিপা

ত্বকে মেছতার দাগ দূর করার উপায়

ত্বকে মেছতার দাগ দূর করার উপায়

প্রত্যেক মেয়েই চায় তার সৌন্দর্য ধরে রাখতে। আর সৌন্দর্য ধরে রাখা মানেই কিন্তু চিরকাল যুবতী থাকা নয়। সৌন্দর্যের প্রথম শর্তই হচ্ছে ত্বক পরিষ্কার ও দাগ মুক্ত রাখা। আর একটু বয়স বাড়লেই সাধারণত এই চর্চাটায় বাধা পড়ে। কারণ অনেক সময় ৩০ এর উর্দ্ধে মেয়েদের মুখে মেছতা দেখা যায়। এই মেছতাই হচ্ছে চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ার প্রথম লক্ষন। আবার মুখে ক্রমাগত অতিরিক্ত মেকাপ লাগানোর ফলেও মুখে মেছতা পরতে পারে। বিশেষ করে যাদের প্রতিদিন বাইরে বের হওয়ার সময় মেকাআপ করতে হয় তাদের এই সমস্যাটি বেশী দেখা যায়। অনেকে মুখে বয়সের ছাপ কমানোর জন্য অনেক দামী দামী ক্রীম ও ব্যাবহার করে থাকেন। কিন্তু বেশীরভাগ সময়ই এগুলো ব্যাবহারের পর অনেক ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কিন্তু এগুলো ছাড়াও আমরা খুব কম খরচে এবং কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই প্রাকৃতিক উপাদান ব্যাবহার করে এই সমস্যার সমাধান করতে পারি। তাই আজ আমরা কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদানের তৈরী মাস্ক নিয়ে আলোচনা করব যা ব্যাবহারে নিয়িমিত আপনার ত্বকের মেছতার সমস্যা দূর করা সম্ভব।

দারুচিনি ও দুধের সরঃ

এক চিমটি দারুচিনি গুড়ো এবং সামান্য দুধের সর হাতের তালুতে আঙুল নিয়ে ভালো করে মেশান। এরপর এই মিশ্রণটি মেছতার দাগের ওপর লাগান। এরপর ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে শুকিয়ে এলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে আলতো ঘষে তুলে ফেলুন। এটি প্রতদিন ঘুমানোর আগে ব্যাবহার করলে দ্রুত মেছতা দূর হয়।

ত্বকে মেছতার দাগ দূর করার উপায়ছোলার ডালঃ

যাদের মুখে বয়সের জন্য মেছতা পড়ে তারা ছোলার ডাল ব্যাবহার করে অনেক উপকার পেতে পারেন। এজন্য প্রথমে ছোলার ডাল সারাদিন ভিজিয়ে রেখে দিন। এরপর আধা কাপ ছোলার ডালের সাথে ১ চামুচ মধু মিশিয়ে পানির পরিবর্তে কাচা দুধ দিয়ে মিহি করে ব্লেন্ড করে নিন। এবার এটি সম্পুর্ন মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি মেছতার সাথে সাথে ত্বকের রিঙ্কেলস দূর করতেও সাহায্য করে।

লেবুর রস ও চিনিঃ

প্রথমে একটা লেবু চিপে নিয়ে তা পরিষ্কার তুলা দিয়ে সরাসরি মেছতার উপর লাগিয়ে নিন। এরপর ১৫ মিনিট পর আরেক টুকরা লেবুর উপর আধা চামুচ চিনি ছড়িয়ে নিয়ে মেছতার উপর হালকা করে ৫ মিনিট ঘষে নিন। এরপর ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে নিন। এটি প্রতিদিন ব্যাবহারে দ্রুত মেছতা দূর হয়।

টক দইঃ

মুখের মেছতা দূর করতে টকদই এর বিকল্প নেই। ২ চামুচ টকদই এর সাথে আধা চামুচ মধু মিশিয়ে পেষ্ট তৈরী করে নিন। এবার এটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে নিন। এটি সপ্তাহে ৪ দিন ব্যাবহারে খুব দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়।

টমেটোঃ

টমেটোর ভিটামিন সি মেছতা দূর করতে অনেক উপকারী। একটা টমেটো কেটে মেছতার অংশটুকু প্রতিদিন ৫ থেকে ৮ মিনিট ম্যাসাজ করুন। এতে মেছাতা খুব দ্রুত হালকা হয়।

এলোভেরাঃ

এলোভেরার পাল্প ত্বকের দাগ দূর করতে অনেক উপকারী। একটি এলোভেরা কেটে এর জেলো এক চামুচ মধুর সাথে মিশিয়ে মেছতার উপর লাগিয়ে নিন। এবার ২০ মিনিট পর হালকা আঙ্গুল দিয়ে ঘষে কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে নিন।

 

মডেলঃ প্রিয়াশা

ছবিঃ রিফ্লেকশন মিডিয়া

স্কিন পিগমেন্টেশন থেকে ত্বককে রক্ষা করার উপায়

স্কিন পিগমেন্টেশন থেকে ত্বককে রক্ষা করার উপায়

স্কিন পিগমেন্টেশন হচ্ছে এক ধরনের সমস্যা যা সাধারণত ত্বকের রঙের উপর প্রভাব ফেলে। মেলানিনের প্রভাবে ত্বকের রঙের পার্থক্য তৈরী হয় এবং এটির জন্য ত্বকে পিগমেন্টেশন তৈরী হতে পারে। এই পিগমেন্টেশন অনেক ধরনের হতে পারে। যেমনঃ হাইপার পিগমেন্টেশন ও আন্ডার এইজ পিগমেন্টেশন। সাধারণত বয়স হলে, রোদে পোড়া ত্বকে, ড্রাগ নেওয়ার কারণে, হরমোনের প্রভাবে, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে সহ ইত্যাদি কারনে এটী হয়ে থাকে। তবে এই সমস্যাটি তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে বেশী দেখা যায়। কারণ এই ধরনের ত্বকে মেলেনিনের পরিমান খুব বেশী দেখা যায় এবং এর ফলে ত্বকের লোমের রংগুলোও কালচে হয়ে যায়। এছাড়া লোমকূপের ফাঁকে ফাঁকে তেল জমে থেকেও একসময় স্কিন পিগমেন্টেশন হতে পারে। কিন্তু চাইলে সহজেই এই ধরনের স্কিন সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। স্কিন পিগমেন্টেশনের জন্য কোন ধরণের ওষুধ ব্যাবহার না করেও প্রাকিতিকভাবে এটা সারিয়ে তোলা যায়। তাই আজ আমরা আলোচনা করব কিভাবে হাতের কাছের কিছু উপকরন ব্যবহার করে এটা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

টমেটো মাস্কঃ

১ চামুচ পাকা টমেটোর জেলোর সাথে ১ চামুচ ভেজানো ওটস ও ১/২ চামুচ দই মিশিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার এটাকে আক্রান্ত স্থানে ভালোভাবে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে হালকা মশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। টমেটোর জেলো পিগমেন্টেশনের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত কাজ করে থাকে। তাই সপ্তাহে কমপক্ষে ৪ দিন নিয়মিত ব্যাবহার করলে দ্রুত পিগমেন্টেশন দূর হয়।

স্কিন পিগমেন্টেশন থেকে ত্বককে রক্ষা করার উপায়হলুদ গুড়ার মাস্কঃ

সাধারণ রোদে পোড়ার জন্য যে পিগমেন্টেশন হয়ে থাকে সেটার জন্য হলুদ গুড়া অনেক উপকারী। এক টেবিল চামুচ হলুদ গুড়ার সাথে এক টেবিল চামুচ লেবুর রস দিয়ে পেস্ট তৈরী করে নিন। এবার ঘুমানোর আগে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে কুসুম গরম পানিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এই প্যাকটি দিনেও ব্যাবহার করা যাবে। কিন্তু এটা লাগিয়ে কখনো রোদে মুখ শুকানো যাবে না, এতে করে স্কিন কালো হয়ে যেতে পারে।

এলোভেরা জেলোঃ

একটা এলোভেরা থেকে জেলো বের করে এটা সম্পুর্ন মুখে ৩০ মিনিট অথবা সারারাত লাগিয়ে রাখুন। এরপর সকালে ঘুম থেকে উঠে অথবা লাগানোর ৩০ মিনিট পর কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে নিন। যেকোনো ধরনের পিগমেন্টেশনের জন্য এলোভেরা জেলো খুবই উপকারী। সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য এটি প্রতদিন রাতে ব্যাবহার করতে পারেন।

কমলার রস অথবা পিল মাস্কঃ

স্কিন পিগমেন্টেশন থেকে মুক্তি পেতে আরেকটি প্রাকিতিক পদ্ধতি হচ্ছে কমলার রস অথবা পিল ব্যাবহার করা। এক্ষেত্রে ১ চামুচ কমলার রসের সাথে ১ টেবিল চামুচ লেবুর রস ও ১/২ চামুচ গোলাপ জল মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখুন। ফ্রেশ কমলার রশ নয়া পাওয়া গেলে কমলার শুকনো খোসা গুড়ো করেও এই প্যাকটি তৈরী করা যায়। এটা সপ্তাহে দুই থেকে তিন বার করলে অনেক উপকার পাওয়া যাবে।

সানগ্লাস ও স্কার্ফ ব্যাবহারঃ

প্রতিদিন রোদে বের হওয়ার আগে অবশ্যই পিগমেন্টেশন আক্রান্ত অংশগুলো ভালোভাবে ঢেকে বের হবেন। এক্ষেত্রে সানগ্লাস ও সুতির স্কার্ফ ব্যাবহার করা যেতে পারে। এগুলো ব্যাবহার ত্বককে রোদের তাপ থেকে রক্ষা করে পরবর্তিতে ত্বকে পিগমেন্টেশন হওয়া থেকে বিরত রাখে।

 

মডেলঃ সায়মা

ছবিঃ রিফ্লেকশন মিডিয়া

রঙ্গিন করি নখ (পার্ট-২)

রঙ্গিন করি নখ (পার্ট-২)

প্রথমে সাদা রঙের নেইল পালিশ দিয়ে নখের বেইস কোট লাগিয়ে নিন। এটি  নখে পেইন্ট করার সময় অনেক কাজে লাগবে। নেইল পালিশের বেইস কোট আপনার নখের নেইল পালিশকে বেশীক্ষন ধরে রাখতে সাহায্য করবে এবং এর সাথ সাথে রঙ্গিন নেইল পালিশ লাগানোর ফলে নখের যে ভঙ্গুরতা তৈরী হয় তস থেকে নখকে রক্ষা করবে। এবার এটাকে নখে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

এরপর আপনার পছন্দের রঙের নেইল পালিশ তুলিতে পর্যাপ্ত পরিমানে নিয়ে এক ফোটা নখের গোড়ার দিকে ফেলে এটাকে নিচের দিক থকে উপরের দিকে তুলি দিয়ে টেনে নিন। মনে রাখবেন নেইল পালিশ কখনো উপর থেকে নিচে অথবা ডান থেকে বাম দিকে তুলি দিয়ে টানবেন না। সবসময় নিচ থেকে উপরের দিকে তুলি দিয়ে টেনে নিতে হবে। এবার এটাকে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সম্পুর্ন শুকিয়ে গেলে আবার একি উপায়ে আরেকবার একই রঙের নেইল পালিশ লাগিয়ে নিন।

রঙ্গিন করি নখ (পার্ট-২)সাধারনত কয়েকবার লাগালে নেইল পালিশ এর রঙ শুন্দর হয়। এরপর এতি শুকিয়ে গেলে এর ওপর চাইলে সাদা প্লেইন রঙের নেইল পালিশ আবার লাগিয়ে নিতে পারেন। এতে নখে আরও উজ্জলতা বাড়বে। নেইল পালিশ শুকিয়ে গেলে রিমুভার দিয়ে নখের আশেপাশে লেগে যাওয়া অতিরিক্ত অংশ মুছে নিন। খেয়াল রাখতে হবে যেনো নখের নেইল পালিশ নষ্ট না হয়ে যায়।

আজকাল মেয়েরা নখে বিভিন্ন ধরনের নেইল স্টীকার লাগাতে অনেক পছন্দ করে। এখন নেইল স্টীকার যেকোনো কসমেটিকস এর দোকানেই পাওয়া যায়। প্রথমে আপনার পছন্দ মত ডিজাইনের নেইল স্টীকার নিয়ে এর নিচের কাগজটা সাবধানে খুলে ফেলে দিয়ে নখের উপর লাগিয়ে ১০ থেকে ২০ মিনিট চেপে ধরে রাখলেই এটি নখে ঠিকমত লেগে যাবে। মনে রাখতে হবে নেইল পালিশ সম্পুর্ন শুকিয়ে গেলেই একমাত্র নেইল স্টীকার নখে লাগানো যাবে। নয়ত এটি নখে ঠিকমত বসবে না।

এছাড়া আজকাল নখে গ্লীটারের ব্যাবহার ও অনেক জনপ্রিয়। নেইল পালিশ লাগানো শেষে সাদা ক্লীয়ার রঙ লাগানোর সময় যখন এটি ভেজা থাকে তখন নেইল পালিশের উপর কিছু শুকনো গ্লীটার ছড়িয়ে দিন। এতে শুকিয়ে যাওয়ার পর সাদা রঙের সাথে গ্লীটার ভালোভাবে মিশে যাবে এবং আপনার নখ আরো সুন্দর ও ঝকমকে দেখাবে।

রঙ্গিন করি নখ (পার্ট-২)নেইল আর্ট করতে চাইলে প্রথমে নখে নেইল পালিশের বেইস কোট মানে সাদা ক্লীয়ার রঙ লাগিয়ে নিন। এরপর এটা শুকিয়ে গেলে আপনার পছন্দ মত অন্য রঙের নেইপালিশ নিয়ে চিকন ব্রাশ যেমন আইলাইনারের ব্রাশ অথবা টুথপিক দিয়ে মনের মত ডিজাইন করে নিন। চাইলে এর ওপর ছোট ছোট নেইল স্টীকার ও লাগিয়ে নিতে পারেন। এতে নখ আরো ব্রাইট দেখাবে। নেইল পেইন্ট সাধারনত বড় নখে বেশী ভালো লাগে।

নখের অর্ধেক অংশে আর্ট করতে চাইলে প্রথমে সাদা নেইল পালিশ লাগিয়ে এটা শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর নখের শেপ অনুযায়ী এর বাড়তি অংশে অন্য রঙের নেইল পালিশ লাগিয়ে নিন। এক্ষেত্রে গ্লীটার জাতীয় রঙ অনেক বেশী ভালো লাগবে।

রঙ্গিন করি নখ ( পার্ট ১)

রঙ্গিন করি নখ (পার্ট-১)

সাজগোজ মানেই নানা রঙের না ধরনের পোশাক এর সাথে মিলিয়ে অনেক ধরনের মেকআপ আর গয়নাগাটি। রুচির ভিন্নতা অনুযায়ী একেকজনের সাজও ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন কেউ শাড়ী পরতে পছন্দ করে আবার কেউ পশ্চিমা পোশাক অথবা স্যালোয়ার কামিজে অনেক বেশী স্বাছন্দ্য বোধ করে। আর পোশাকের ভিন্নতার সাথে সাথে সাজ ও বিভিন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু সব সাজের সাথে একটা জিনিস প্রায়ই মিলে যায় যেমন নখে নেইলপালিশ লাগানো। আগের দিনে পোশাকের রঙের সাথে মিলিয়ে নেইল পালিশ লাগানো হত। কিন্তু এখনকার যুগে মেয়েরা হাতে বিভিন্ন রঙের নেইল পালিশ লাগাতে পছন্দ করে। তাছাড়া আজকাল নেইল পালিশ এর সাথে সাথে নখে নানা ধরনের নকশা আকা ও বিভিন্ন গ্লীটার জাতীয় ছোট পাথর অথবা অন্যান্য স্টীকার লাগানোর প্রচলন শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করেন এই সব নকশা ঘরে বসে করা সম্ভব নয়। তাই পার্লারে ছুটে যান। এতে সময় ও টাকা দুই ই নষ্ট হয়। কিন্তু এখন চাইলে আপনি  ঘরে বসেই নানা রঙ্গে ও নানা ডিজাইনে নিজের নখকে সাজিয়ে তুলতে পারেন আরো আকর্ষনীয়ভাবে।

রঙ্গিন করি নখ ( পার্ট ১)প্রথমে আপনি আপনার পোশাকের সাথে মিলিয়ে নেইল পালিশের রঙ নির্বাচন করুন। মনে রাখবেন গাঢ় রঙ এর নেইল পালিশ যেমন পার্পেল, কালো অথবা অন্যান্য গাঢ় রঙ্গে নখকে ছোট লাগে। তাই এইসব রঙ তখনই ব্যাবহার করার চেষ্টা করুন যখন আপনার নখ তুলনামূলক বড় থাকবে। খুব বেশী পুরনো নেইল পালিশ ব্যাবহার না করাই ভালো। এতে ফিনিশিং ভালো হয় না এবং নেইল পালিশ জমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই পুরুনো নেইল পালিশ ব্যাবহার করলে এতে কয়েক ফোটা নেইল রিমুভার দিয়ে দুই হাতের তালুতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মিশিয়ে নিন। মনে রাখবেন নেইল পালিশ কখনো ঝাকাবেন না। এতে নখে লাগানোর সময় উপরদিকে উঠে আসলে নখে লাগাতে সমস্যা হতে পারে।

যদি আপনার নখে আগে থেকেই নেইল পালিশ লাগানো থাকে তাহলে একটু তুলার মধ্যে রিমুভার নিয়ে নখের নেইল পালিশ ভালোভাবে তুলে নিন। নেইল পালিশ তোলার সময় অকারন ঘষাঘষি করবেন না। তুলার বলটি রিমুভারে ভিজিয়ে ১০ সেকেন্ড নখে চেপে ধরে রাখুন। নেইল পালিশ আপনা থেকেই উঠে আসবে। অথবা যদি আপনার নখে নেইল পালিশ নাও লাগানো থাকে তবুও নখে লাগানোর আগে একটু রিমুভার দিয়ে নখ মুছে নিন। এতে নখের অতিরিক্ত তেল উঠে আসবে এবং নেইল পালিশকে নখে বেশীক্ষণ ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

রঙ্গিন করি নখ ( পার্ট ১)এরপর নখকে পছন্দমত শেপ এ কেটে নিয়ে এর গোড়ার কিউটিকল বের করে নিন। কারন আপনি যখন নখে পেইন্ট করবেন তখন নখের গোড়ায় কিউটিকল থাকলে আপনার নখে ডিজাইন করতে সমস্যা হতে পারে। এরপর আপনার পছন্দমত নেইল পালিশ নিয়ে দুই হাতের তালুতে চেপে ভালভাবে রোল করে মিশিয়ে নিন। কারন এতে নেইল পালিশ তলাতে পড়ে না থেকে একসাথে মিশে যাবে।