Category Archives: লাইফস্টাইল

খাবারে বিনোদন

resturant stylebdরাজধানীর কোন রেস্টুরেন্টের কোন খাবারের কেমন স্বাদ, এটা তার নখদর্পণে। হোক সেটা ভালো মানের রেস্টুরেন্ট কিংবা পুরনো ঢাকার কোন অলিগলির রেস্টুরেন্টের। ছাত্রাবস্থায় বন্ধুরা দল বেধে চলে যেতেন তারপর যার যার টাকা দিয়ে সে সে খেতেন-এই ছিল নিয়ম। আর এমনই অভিজ্ঞতাই বর্ননা করছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ হাসান প্রিন্স।

Continue reading

আরেফিন শুভর সাথে আড্ডা

আরিফিন শুভর সাথে আড্ডা

বাংলাদেশের মিডিয়া জগতে বর্তমান সময়ের এক আলোচিত নাম আরিফিন শুভ। রেডিও জকি (RJ) থেকে আসা এই জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেতার পদচারনায় আজ আলোড়িত প্রতিটিক্ষেত্র । “জাগো” চলচিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় পথ চলা শুরু। এই চলচিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক প্রশংসিত হয় তারপর “ভালবাসা জিন্দাবাদ”। তারপর বাংলাদেশের বিগ বাজেটের চলচিত্র ইফতেখার চৌধরীর পরিচালিত ’অগ্নি’ ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন । বর্তমানে তিনি “কিস্তিমাত”ছবির কাজ করছেন। তার শত ব্যস্ততার মাঝে তিনি আমাদের প্রতিনিধির সাথে কথা বলেন।

আরেফিন শুভর সাথে আড্ডা

আপনার অগ্নি ছবিটিত ব্যপক জনপ্রিতা পেয়েছে ?

জ্বি দর্শকদের এরকম সাড়া পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এই ছবির কাজ  করে ছিলাম ব্যাংককে, জান প্রান দিয়ে খেটেছি । অ্যাকশন দূশ্যে কাজ করার সময় হাতে ব্যাথা পেয়েছিলাম এর পর অস্রপ্রচার করতে হয়। চার মাস সম্পূর্ণ বিশ্ররামে থাকতে হয়েছে। এখন আবার কাজ করছি।

এবার বৈশাখে কি করেছেন ?

বৈশাখ হচ্ছে আমাদের বাংলী জাতীর একটি  প্রানের উৎসব তাই আমিও সবার সাথে বৈশাখের আনন্দে আনন্দিত হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি এবার অসুস্থ তাই বাসায় থাকা হয়েছে ।

বর্তমানে আপনি কোন ছবির কাজ করছেন ?

বর্তমানে আমি আশিকুর রহমানের “কিস্তমাত”ছবির কাজ করছি যা আমার অনেক ভাল লেগেছে । আশা রাখি দর্শক অনেক মজা পাবে। ছবির প্রায় অনেক কাজ শেষের পথে।

নতুন দের কিছু বলবেন কি ?

অনেক কষ্ট এবং ধৈর্যের সাথে কাজ করতে হবে তাহলে সফলতা নিশ্চিত ইনশাল্লাহ । আর একটা কথা, যা করবেন তা ভালবেসে করতে হবে । নিজের কাজ নিজের মূল্যায়ন করতে হবে ।

রঙের ছটায় আপনার সাজে ও পোশাকে আনুন ভিন্নতা

রঙের ছটায় আপনার সাজ ও পোশাকে আনুন ভিন্নতা

“উফ শাড়ীর সাথে ম্যাচিং কানের দুলটা পাচ্ছি না। আরে আমার ম্যাচিং করা জুতাটা কই গেল? আমি আজ পার্টিতে কিভাবে যাব, আমার তো এই রঙের লিপস্টিক ও নেই”। এই কথাগুলো মনে হলেই যেনো আগের দিনের শাড়ী অথবা যেকোনো পোশাকের সাথে আগা গোড়া একই রঙ মিলিয়ে পড়া একটা মেয়ের ছবি ফুটে উঠে। কিন্তু আজকাল ম্যাচিং এর তোয়াক্কা করে কে। বিশেষ করে এই যুগের তরুনী ও কিশোরীরা তাদের পোশাকে ও সাজগোজে সবসময় রঙের ছটা দেখাতে চায়। কারন এখন আর পোশাকের রঙের সাথে মিলিয়ে রঙের গয়না অথবা সাজগোজ এর চেয়ে রঙ বেরঙের সাজটা বেশি ফুটে উঠে। কিন্তু সেটা যেনো অবশ্যই আপনার রুচি এবং পোশাকের সাথে সামাঞ্জস্য রেখে হয়। যেমন আজকাল আর এমন ধারনা নেই যে আপনার চোখের কাজলটা কালোই হতে হবে। এর বদলে আপনি চাই ব্যাবহার করতে পারেন সবুজ, নীল অথবা পার্পেল রঙের কাজল। সেই সাথে ঠোঁটে লাগাতে পারেন উজ্জ্বল রঙ এর লিপস্টিক। যেমন এটা জরুরি নয় যে নীল রঙের পোশাকের সাথে আপনার লিপস্টিক ও ওই রঙের অথবা হালকা কোনো রঙের হতে হবে। এর বদলে আপনি কমলা, গাঢ় লাল অথবা পার্পেল রঙ ও ব্যাবহার করতে পারেন।

রঙের ছটায় আপনার সাজে ও পোশাকে আনুন ভিন্নতাতবে পোশাকের সাথে মিলিয়ে সাজগোজটা একটু বিপরীত ভাবেও করতে পারেন। যেমন আপনি এমন একটি পোশাক পরলেন যেটাতে অনেকগুলো রঙ আছে কিন্তু একটা রঙ অনেক বেশী হাইলাইট করছে। এক্ষেত্রে যেই রঙটি হাইলাইট করছে ওটা বাদ দিয়ে প্রসাধনী ও গয়না ব্যাবহার করুন। যেমন ড্রেস যদি লাইট পিঙ্ক অথবা গাঢ় গোলাপি হয় তাহলে গাঢ় পার্পেল রঙ এর নেইলপালিশ লাগাতে পারেন এবং নেইপালিশ এর রঙের সাথে মিলিয়ে আইশ্যাডো দিন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি আইশ্যাডোতে দুইটি বা তিনটি রঙ ব্যাবহার করেন। পার্পেল এর সাথে সিলভার দিয়ে হাইলাইট করতে পারেন। ঠোঁটে লিপস্টিকও একটু চাপা রঙের ব্যাবহার করুন।

তবে এই ধরনের সাজের সাথে পোশাকটা নির্বাচন করা অনেক জরুরি। আপনি চাইলে স্যালোয়ার কুর্তার সাথে অথবা বিভিন্ন ধরনের পশ্চিমা পোশাকও নির্বাচন করতে পারেন। আজকাল বিভিন্ন রঙের জেগিংস এর সাথে মিলিয়ে রঙ বেরঙের টপস অনেক ভালো লাগবে। এছাড়া শীতের সময় টপস এর সাথে মিলিয়ে বিপরীত রঙের সোয়েটার ও পরা যেতে পারে। সাথে উঁচু হিল এর জুতা অথবা আপনার হাইট যদি একটু বেশী হয় তাহলে স্যান্ডেলও পরতে পারে।

রঙিন সাজের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যেনো আপনার মেকাপের বেইসটা অনেক ভালো হয়। মেকাপের আগে অবশ্যই ভালো মানের মশ্চারাইজার লাগিয়ে কমপ্যাক্ট পাওডার লাগিয়ে বেইস তৈরী করে নিন।

এক্ষেত্রে চোখের সাজটা অনেক বেশী হাইলাইট করে করা হয়। শ্যাডো নির্বাচনের ক্ষেত্রে দুই বা তিন রঙের শ্যাডো ব্যাবহার করুন। তবে সব রঙ্গে একসাথে ব্লেন্ড না করে আলাদা আলাদা থাকতে দিন এতে বেশি ভালো লাগবে। সাধারণত নীল, গাঢ় সবুজ, হালকা সবুজ, পার্পেল, গোলাপী, গোল্ডেন, সিলভার, লাইট অরেঞ্জ রঙগুলো বেশী ভালো লাগবে। চোখের পাপড়িতে মাসকারা ভারী করে লাগান অথবা আলগা পাপড়ি ব্যাবহার করুন। কারন মাস্কারা ভারী হলে চোখের পাপড়িও ভারী দেখাবে। আইলাইনার এর বদলে কাজল ব্যাবহার করলে সবচেয়ে ভালো হয় । চোখের ভেতরে একটু মোটা করে কাজল লাগিয়ে নিচের পাতায় এক লাইন করে একটু শ্যাডো দিয়ে নিন।

নখে এক রঙের নেইল পালিশ এর পরিপর্তে কয়েক ধরনের গাঢ় রঙ ব্যাবহার করতে পারেন। এছাড়া আজকাল নখে বিভিন্ন ধরনের নেইল পেইন্ট, নেইল স্টিকার ব্যাবহার করতে পারেন। এতে অনেক গর্জিয়াস লাগবে। এছাড়া আজকাল নেইপালিশে গ্লীটার এর ব্যাবহার অনেক প্রচলিত। নিজের মনের মত করে শ্যাডোর রঙের সাথে মিলিয়ে কয়কটি রঙ দিয়ে একে নিন আপনার পছন্দের নেইল পেইন্টটি।

ঠোঁটের ক্ষেত্রে একটু হালকা রংটাও ভালো লাগবে। কিন্তু পোশাক হালকা হলে এর রঙের বিপরীতে গাঢ় লাল অথবা কমলা রঙের লিপস্টিক লাগাতে পারে। আজকাল ঘুরে ফিরে এই রঙগুলো অনেক চলছে।

জুতার ক্ষেত্রে কমলা, সবুজ, হালকা বেগুনী, পার্পেল, সিলভার, এই ধরনের রঙগুলো অনেক আকর্ষণীয় মনে হয়। এই রংগু্বে।সবার সামনে আপনার তারুন্যকে ফুটিয়ে তুলবে।

শীতের বিকেলে বন্ধুদের সাথে আড্ডায়

এক বিকেলে বন্ধুদের সাথে আড্ডায়

“এই আমার ক্যামেরাটা দে তো” “আরে মামা এইডা কোনো ঠাণ্ডা হইল” “ এইডা কিছু হইল” “ওই কেউ আমারে মাইরালা” হাড়কাপানো শীতের এক বিকেলে রাস্তা দিয়ে হেটে যেতে হটাৎ এই ধরনের কথাগুলো প্রায়ই শোনা যায় তরুন তরূনীদের আড্ডার মাঝ থেকে। এই প্রচন্ড শীতেও তাদের আড্ডা কিন্তু থেমে নেই। তারা শুধু শীতকেই নয়, সময়টাকেও যেনো জয় করে নিয়েছে। সময়ের সাথে সাথে তাদের কথা বলার ধরন, আড্ডা সবই বদলে যাচ্ছে। এখন তো এমন কিছু শব্দ তাদের আড্ডায় ব্যাবহার করা হচ্ছে যার অভিধানিক অর্থ পর্যন্ত বদলে গেছে। কিন্তু তাই বলে বদলে যায়নি তাদের চিন্তাভাবনাগুলো।

শীতের জমজমাট আমেজতো শুরু হয়েই গেছে। সারাদিন হাড়কাপানো শীত, ধোয়াটে কুয়াশা, রাস্তার মোড়ে মোড়ে শীতের পিঠাপুলির দোকান আর সেই সাথে প্রকিতিক জমাটবাধা থমথমে ভাব। এই প্রচন্ড শীতে যেখানে ঘর থেকে বের হতেই আলসেমী লাগে, সেই শীতেরই একটি অতি পরিচিত দৃশ্য হচ্ছে এক ঝাক তরুন তরুনী শীতের বিকেলে বন্ধুদের সাথে আড্ডায়একসাথে বসে মনের আনন্দে আড্ডা দিচ্ছে। এই প্রচন্ড শীতেও যেনো তাদের কিছুই আসে যায় না। আসলে শীতের বিকেলে প্রকৃতি যখন তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে তার দাপট দিয়ে সবাইকে ভয় পাইয়ে ঘরে বসিয়ে রাখতে, ঠিক সেই সময় ঝাকে ঝাকে তরুন তরুনীরা তার এর চেষ্টাকে ব্যার্থ করে দলবেঁধে বসে মনের সুখে আড্ডা দেয়। কখনো গীটার হাতে গান গেয়ে আসর মাতিয়ে রাখে, কখনো ধোয়া উঠা ভাপা পিঠার উৎসব, আবার কখনো কখনো রাজনৈতিক আলাপ আলোচনার গরম করে রাখে পরিবেশ। কথা বলার ধরন আলাদা হলে কি হবে সময় নিয়ে তাদের চিন্তা, সমাজকে বদলে দেওয়ার চিন্তা, সাধারন মানুষের সুখ দুখের চিন্তা ভাবনা গুলো কিন্তু তাদের আলাদা নয়। বরং এইসব কাজ শুধু তারা মুখে মুখেই রাখে না, একসাথে মিলেমিশে হাতে হাত রেখে কাজও করে যায়। তাদের ঐকতাই যেনো তাদের এইসব কাজের মনোবল যোগায়। তাদের চিন্তাভাবনা শুধু ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং কিভাবে সাধারণ মানুষগুলোর পাশে এসে দাঁড়াবে, তাদের মুখে একটু হাসি ফোটাবে, তার উপরও নির্ভর করে। তাদের কাজ শুধু শীতে ফ্যাশনেবল জামাকাপড় পড়ে ঘুরে বেড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই শীতে যেসব মানুষগুলো শীত নিবারনের প্রয়োজনীয় বস্ত্রটুকুও পায় না, তাদের জন্য নিজের গা থেকে শীতের কাপড় খুলে দিতেও তারা দ্বিধা বোধ করে না।

একটা সময় ছিল যখন ছেলে মেয়ের বন্ধুত্বটাকে ভালোভাবে দেখে হত নয়া। তারা একসাথে পড়াশোনা করবে, একসাথে বসে আড্ডা মারবে, একসাথে ঘুরতে যাবে এইসব কেমন যেনো একটু বাকা চোখে দেখা হত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে আজকাল ছেলে মেয়ে একসাথে আড্ডা মারছে, একসাথে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছে, ঘুরে বেড়াচ্ছে আরো কত কি। আসলে এদের চিন্তাভাবনা কখনো ঠিকমত বুঝে উঠাই হয়ত সম্ভব নয়। এরাই যখন সারাদিন ফেসবুক, টুইটার নিয়ে মেতে থাকে তখন মনে হয় এদের দিয়ে কিচ্ছু হবে না। আবার মানুষের প্রয়োজনে এদের মনই সবার আগে কেঁদে উঠে। তখন সব বাধাকে পেছনে ফেলে রেখে তাদের সাহায্যের জন্য ছুটে যায়।

আসলে এই সময়টা কেমন যেনো আলসেমীতে ভরা। সারাদিনের কাজ শেষে ঘর থেকে বের হতেই ইচ্ছে করে না। সব কিছু যেমন যেনো জমাটবাধা মনে হয়। কিন্তু ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তার মোড়ে মোড়ে, পার্কে, মাঠে যখন এইসব তরুন তরুনীদের একসাথে দেখা যায়, তখন বোঝা যায় যে তাদেরকে কোনো ভাবের ঘরে বন্দি করে রাখা সম্ভব নয়। হয়ত এদের দেখে কেউ কেউ তার ছেলেবেলায় ফিরে যায়, আবার কেউ এদের মাঝ থেকেই আগামী দিনের সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখে।

ছবি ঃ সিডর সুমন

তবুও ভালবাসি তোমাকেই

তবুও ভালবাসি তোমাকেই

“আজ অফিসে কাজ অনেক বেশী। বাসায় ফিরতে দেরী হবে। তুমি বাবুকে স্কুল থেকে নিয়ে এস” কথাগুলো একটানা মিথিলাকে বলতে বলতে ঘর থেকে বের হয়ে যায় মাহিন। মিথিলা তার যাওয়ার পথের দিকে এক মনে চেয়ে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না মাহিন চোখের আড়ালে চলে যায়। আজ তার পুরোনো দিনগুলার কথা বারবার ঘুরেফিরে মনে হতে থাকে। সেই ইউনিভার্সিটিতে পরার সময় থেকে মাহিনের সাথে মিথিলার প্রেম। সারাদিন একসাথে ঘুরে বেড়ানো, একজন আরেকজনকে সময় দেওয়া, একসাথে লাইব্রেরীতে বসে নোট করা, ছুটির দিনে দুই জন মিলে দূরে কোথাও হারিয়ে যাওয়া আরো কত কি। তারপর একসময় পড়াশোনা শেষ করে পরিবারের মতামত নিয়ে তারা দুইজন বিয়েও করে। কিন্তু ইদানিং মাহিনের পক্ষে মিথিলাকে আর আগের মত সময় দেওয়া হয়ে উঠে না। সারাদিন অফিসে থাকার পর বাসায় এসে ক্লান্ত হয়ে পড়া। সন্ধ্যা হলে বাচ্চার পড়াশোনা, ছুটির দিনগুলোতে পারিবারিক ফর্মালিটিগুলো পূরণ করা ছাড়াও আরো কত দায়িত্ব। এর মাঝখানে এখন আর তাদের দুজন দুজনকে নিজের মত করে সময় দেওয়া হয়ে উঠে না। কিন্তু তাই বলে কি তাদের মধ্যে ভালোবাসাও শেষ হয়ে গেছে। তারা কি এখন আর একজন আরেকজনের জন্য আগের মত অনুভব করে না? এই প্রশ্নটি মনেই জেগে থাকে। সত্যিই কি অনেক বছর একসাথে সংসার করার পর ভালোবাসা শেষ হয়ে যায়।

তবুও ভালবাসি তোমাকেইএকবার ভেবে দেখুন তো যখন আপনি অফিসে বা অন্য কোনো জায়গা থেকে কোনো সাফল্যের সংবাদ পান, তাহলে সবার আগে এই কথাটি কাকে জানাতে ইচ্ছে করে? অবশ্যই আপনার স্ত্রী অথবা হাসবেন্ডকে। কারণ নিজের অজান্তেই আপনি আপনার সাফল্যটা আপনি আপনার ভালোবাসার মানুষটির সাথেই শেয়ার করতে চাইবেন।

আবার যখন কাজ শেষে বাসায় ফিরে দেখেন যে সে এখনো ফেরেনি। বারবার ফোন করার সত্বেও সে ফোন তুলছে না। তখন নিজের অজান্তেই কি আপনার তার জন্য চিন্তা হয় না। তার জন্য উদিগ্ন হয়ে আপনি কত কি না করে ফেলেন। তাহলে যদি তাকে ভালই না বাসেন তাহলে তার জন্য এতো চিন্তা কেনো?
অফিসে ছুটি পাওয়ার পর প্রথমেই যখন তার সাথে দূরে একাকী যখন ঘুরতে যাওয়ার কথা মনে হয়, তখন কি মনে হয় না আপনাদের ভালোবাসাটা আপনাদের কাছে ঠিক আগের মতই আছে।

সময়ের পরিবর্তন, সংসারের দায়িত্ব, খুটিনাটি বিষয়গুলো যখন কাঁধে এসে পরে তখন মনের অজান্তে হয়ত একে অন্যের জন্য ভালবাসা হয়ত প্রকাশ করা হয় না। কিন্তু তাই বলে ভালবাসা কখনোই শেষ হয়ে যায় না। উপরের কথাগুলো একবার ভালোভাবে মনে করেই দেখুন না। আপনিও হয়ত নিজের অজান্তে এইগুলো তার জন্য অনুভব করে থাকেন। কিন্তু ঝগড়া, একে অন্যের প্রতি অভিযোগ এতো কিছুর ভিড়ে হয়ত কখনো খেয়াল করাই হয়ে উঠে নি।

তাই যখন দায়িত্ব কাছে এসে পরে তখন সেটাকে বোঝা মনে না করে সেটাকে দুইজন মিলেমিশে পালন করার চেষ্টা করুন। ছোট, ছোট বিষয়গুলোতে শুধু একে অন্যের দোষ খুজে বেড়াবেন না। আর কখনোই একজন আরেকজনের উপর সন্দেহ করবেন না। কারণ কোনো সম্পর্কের মধ্যে সন্দেহ ঢুকে গেলে সেটা নষ্ট হতে সময় লাগেনা। তাই আপনার ভালবাসার মানুষটিকে হয়ত প্রত্যেকদিন ভালবাসি বলা সম্ভব হয় না, তবুও তাকে কখনো এটা অনুভব করতে দিবেন না যে তার জন্য আপনার ভালবাসা শেষ হয়ে গেছে। কারন সংসারের দায়িত্বের মাঝে সেটা হয়ত সাময়ীকের জন্য হারিয়ে গেছে, কিন্তু দুই জনের মনে অবশ্যই এখনো উকি দেয় সেই না প্রকাশ করতে পারা ভালবাসাটুকু।

 

মডেলঃ রাজ ও রূম্পা

ছবিঃ সিডর সুমন

সবসময় নিজের মনকে সুখী ও ভালো রাখার ৭ টি মূল্যবান উপায়

প্রত্যেকটা মানুষই জীবনে সুখি হতে চায়। কিন্তু অনেক সময় পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং মনের মধ্যে জমে থাকা হতাশা অথবা অস্বস্থির জন্য ভালো থাকাটা সম্ভব হয়ে উঠে না। মাঝে মাঝে আমাদের চারপাশে সবকিছু পরিপূর্নভাবে থাকার পরেও নিজেকে অনেক বেশী একা লাগে। আর একাকিত্ব থেকেই আস্বস্থি তারপর অসুখি। এর জন্য সবচেয়ে বড় একটা কারন হতে পারে অন্যের উপর নির্ভরশীলতা অথবা নিজের উপর বিশ্বাসের অভাব। আর নিজের মন ভালো না থাকলে কখনোই আপনি জীবনে সাফল্য অর্জন করতে পারবেন না। তাই আজ আমরা সবসময় নিজের মনকে সুখি ও ভালো রাখার জন্য কয়েকটি বিষয় তুলে ধরব।

১. আত্মবিশ্বাসী হনঃ

অনেক সময় আমারা নিজের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি। যে হয়ত এই কাজটা আমি কখনই করতে পারব না অথবা এটা আমার দ্বারা কখনই সম্ভব নয়। এটা একটা সম্পুর্ন ভুল ধারনা। প্রত্যেকটা মানুষেরই কিছু না কিছু বিশেষত্ব থাকে এবং চাইলেই আপনি সেটা সবার সামনে প্রকাশ করতে পারেন। এজন্য যেটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে নিজের উপর বিশ্বাস তৈরী করা। কোনো কাজে হাত দেওয়ার সময় ভয় পাওয়ার চেয়ে এটা চিন্তা করুন যে আপনি চাইলেই এই কাজটা ভালোভাবে করতে পারবেন। কারন মানুষের ইচ্ছাশক্তির দ্বারা মানুষ অনেক কিছু করতে পারে। সবার সামনে গুটিয়ে না থেকে নিজের যোগ্যতাকে সবার সামনে তুলে ধরুন। আর নিজের মনের মধ্যে বিশ্বাস থাকলে মন ও সবসময় ভালো থাকবে।

sumon75২. পরনির্ভরশীলতা ত্যাগ করুনঃ

মানুষের মনের মনে ভয় এবং অশান্তি থাকার সবচেয়ে বড় একটা কারন হচ্ছে অন্যের উপর নির্ভরশীল থাকা। যদি আপনি সব কাজের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল থাকেন এবং আপনার জীবন যদি অন্যের দ্বারা চালিত হয় তাহলে কখনোই আপনি সুখি হতে পারবেন না। কারন তখন সবসময় আপনার মনের মধ্যে এক ধরনের অশান্তি কাজ করবে যে এটা ঠিকমত হবে কিনা, কোন কিছু ভুল করলেন কিনা আরো অনেক কিছু। হ্যা অন্য কেউ জীবনে সাহায্যকারী হিসেবে থাকতেই পারে, কিন্তু তাই বলে সব কিছুতে অন্যের উপর নির্ভর্শীলতা বন্ধ করুন। আর আগে করে না থাকলে এখন থেকেই নিজের ছোট ছোট কাজগুলো দিয়ে প্রথমে শুরু করুন। তারপর দেখবভেন এমনিতেই আপনি আপনার কাজগুলো করতে পারছেন। আর নিজের কাজ নিয়ে করার মধ্যে প্রশান্তিই আলাদা।
৩. অন্যের সম্পর্কে সমালোচনা বাদ দিনঃ

অনেক সময় আমাদের একটা খুব বাজে অভ্যাস হচ্ছে আমরা অন্যের বিষয় নিয়ে খুব বেশী চিন্তা করি। কার কি হল, কার সাথে কার রিলেশন, কে বিয়ে করল, তার ড্রেস এমন কেন, কার বাড়ির বিড়াল মারা গেল আরো কত কি। এসব সমালচনা আমাদের মনকে কখোনোই শান্ত থাকতে দেয় না। কারন কার কি হল, কেন হল এইসব নিয়ে চিন্তা করতে করতে সমসময় মনের মধ্যে এক ধরনের খুতখুতি তৈরী হয়। তাই অন্যের বিষয়ে চিন্তা বাদ দিয়ে নিজের খারাপ দিকগুলো শুধরানোর চেষ্টা করুন। এতে করে মন ভালো রাখবে এবং জীবনে সুখি হতে পারবেন।

৪. মন খুলে হাসুনঃ

হাসি মানুষের জীবনের অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে। আর মনকে সবসময় প্রফুল্ল রাখতে হাসিখুশি থাকার বিকল্প নেই। সবসময় মুখ গোমড়া করে থাকলে কখনই মন ভালো রাখতে পারবেন না। কারন প্রাণখোলা হাসি আপনার শরীরে কর্টিসেল হরমোনের নিঃসরণকে কমিয়ে দেয় যেটি আপনার বিষন্নতার জন্য দায়ী। তাই বন্ধুদের সাথে আড্ডায়, পরিবারের সাথে একসাথে বসে, টিভি দেখে যেইভাবেই হোক হাসার চেষ্টা করুন। এতে আপনার মন মেজাজ দুটোই ভালো থাকবে।

৫. অন্যকে সঙ্গি করুনঃ

মানুষ কখনোই একা থাকতে পারে না। জীবনের প্রত্যেক ক্ষেত্রেই তার সঙ্গীর প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে ডেল কার্নেগীর একটা বিখ্যাত মতবাদ আছে যে “ অন্যকে আপনার সঙ্গি করুন, নয়ত একলা চলতে হবে” এর মানে এই নয় যে অন্যের উপর নির্ভর্শীল হওয়া। আপনি আপনার ব্যাক্তিত্ব ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে অন্যর সঙ্গে মেশার চেষ্টা করুন। অনেকেই সব ধরনের মানুষের সাথে মিশতে পারে না। সেক্ষেত্রে আপনার কাছাকাছি মন মানসিকতার মানুষদের বেছে নিন। হতে পারে সে আপনার খুব ভালো বন্ধু অথবা আপনার ভালবাসার মানুষটি। কারন একাকিত্ব মানুষের মনকে হতাশার দিকে ঠেলে দেয়। ফলে মন সবসময়ই বিষন্নতায় ভোগে।

৬. পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুমানঃ

প্রতিদিনের রুটিনে যদি আপনার ঘুম পর্যাপ্ত পরিমানে না থাকে তাহলে সারাদিনই মেজাজ খিটখিটে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুম শরীর মন দুইয়ের জন্যই অনেক ভালো। কারন সারাদিনের ক্লান্তি আর অবসাদ আপনি একেবারে দূর করে ফেলতে পারেন একটা ফ্রেশ ঘুম এর মাধ্যমে। তবে যততুকুই ঘুমান না কেনো সেটা যেনো সম্পূর্ন দুশ্চিন্তছাড়া এবং প্রশান্তিমূলক হয়।

৭. অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করবেন নাঃ

অনেককেই এটা ভেবে জীবনে হতাশ হয়ে থাকেন যে আমি কেনো ওর মত হলাম না, কেনো আমার এটা হল না, ওটা হল না ইত্যাদি। এসব ভাবনা আপনাকে জীবনে সাহায্য না করে বরং হতাশ করবে বেশী। কারন সবার মধ্যে সব ধরনের বিশেষত্ব থাকে না। ধরুন আপনি ভালো ছবি আঁকতে পারেন। এক্ষেত্রে আরেকজনকে দেখে আপনি যদি মনে করেন কেন আমি ডাক্তার হলাম না, তাহলে তো আর আপনি ভালো থাকতে পারবেন না। বা যদি এইভাবে চিন্তা করতেই থাকেন যে “ইশ যদি আমি ওটা করতাম তাহলে ওর মত হতে পারতাম” তাহলে আপনি জীবনে হতাশা ছাড়া কিছুই পাবেন না। কারন যেটা অনেক আগে হয়ে গেছে সেটা আপনি কখনোই ফিরে পারেন না। বরং অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করে আপনি আপনার মন মানসিকতাকে আরো নষ্ট করে ফেলবেন। তাই অন্যের সাথে তুলনা বাদ দিয়ে নিজের ভবিষৎ নিয়ে চিন্তা করুন। যেটা আপনার মনকে সবসময় শান্ত রাখবে।

 

মডেলঃ রুম্পা

ছবিঃ খাইরুল রিয়াদ

মানসিকভাবে শক্তিশালী হোন ১৩টি দোষ এড়িয়ে ( শেষ পর্ব)

মানসিকভাবে শক্তিশালী হোন ১৩টি দোষ এড়িয়ে ( শেষ পর্ব)

মানসিকভাবেশক্তিশালীহোন১৩টিদোষএড়িয়ে (পর্ব)

মানসিকভাবেশক্তিশালীহোন১৩টিদোষএড়িয়ে (পর্ব)  পর্বের পর থেকে…………….

 10)   একবার অসফলতায় হাল ছেড়ে দেওয়া

রবার্ট ব্রুস নাকি ছয়বার যুদ্ধ হেরে গিয়েছিলেন তবুও হাল ছাড়েননি। আর আপনি কিনা দু-একবার দেখেই হাল ছেড়ে দিচ্ছেন। একটি বিষয়ে সফলতার একটি নির্দষ্ট মাপকাঠি আছে, নির্দিষ্ট সময় আছে। কখনই সফলতা সেই সময়ের আগে আসবেনা আপনার কাছে। সে পর্যন্ত আপনাকে ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করতে হবে। মনে রাখবেন যে কষ্ট করছেন ধৈর্য ধরে ভবিষ্যতে তার ফলাফল ভাল আসবেই ইনশাআল্লাহ।

 মানসিকভাবে শক্তিশালী হোন ১৩টি দোষ এড়িয়ে ( শেষ পর্ব)11)   একাকীত্বকে ভয় পাওয়া

মানসিকভাবে শক্তিশালী মানুষেরা সবসময় প্রফুল্ল থাকতে চেষ্টা করে এমনকি তারা যখন একা থাকে তখনও। সেসময়টাকে তারা নিজস্ব বিনোদনের জন্য ব্যবহার করে যেমন বই পড়া, বই লেখা ইত্যাদি। তবে অনেকে আবার সেসময়টাকে নষ্ট না করে ভবিষ্যতের জন্য জ্ঞানার্জনেও ব্যস্ত থাকেন। তবে বুদ্ধিমানের কাজ হলো একাকিত্বের সময় অতীতের ভুলগুলো খুঁজে বের করা ও ভবিষ্যতে তা আর না করার প্ল্যান করা। তাছাড়া ভবিষ্যতে কি কি করবেন তার ছকও তখন করতে পারেন।(অথবা ঘুমান পরিমানমত; নিজের দেহকে বিশ্রাম দিন।)

 12)   নিজের কষ্টে অন্যকে দায়ী করা

সবসময় মনে রাখবেন অধিকাংশ সময়ে মানুষ নিজেই তার কষ্টের জন্য দায়ী। তাই কোন কাজে যথাসম্ভব নিজেকে সুখ রাখবার জন্য অন্যকে দোষ দিয়ে বেড়াবেন না। কারণ মানুষ অন্যকে দোষ দিয়ে সুখে থাকতে পারে খুব অল্প সময় আর তারপর একটা সময় আসে যখন শুরু হয় অনুশোচনা আর নিজেকে দোষারোপ । এবং ততদিনে ঐসকল মানুষও আপনার চারপাশে থাকবেনা আপনার অতীতের ব্যবহারের জন্য। ফলে নেমে আসবে একাকীত্ব। তাই কোন কাজে ভুল নিজের হলে তা মেনে নিন এবং নিজর অখবা অন্য সকলের সহায়তায় তা কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করুন।

 13)   কোন কাজের ফলাফল সাথে সাথে আশা করা

একটি কাজ করার সাথে সাথে কেন ফলাফল পাচ্ছেন না তা নিয়ে সারাদিন চিন্তায় থাকা সময় অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ কোন কাজের ফলাফল সেই কাজের ধরণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় হলেই আসবে। তার আগে নয়। তাছাড়া একই কাজের ফলাফল অন্যদের ক্ষেত্রে আগে এসেছে আর আপনার ক্ষেত্রে দেরীতে কেন আসছে? – এসব চিন্তা করবেন না।কারণ সব মানুষের জীবন এক নয়। আপনারটা অন্যদের থেকে আলাদা হতেই পারে । বরং সেটাই স্বাভাবিক। কারণ আপনি আলাদা মানুষ। তাই ফলাফল পাবার জন্য উতলা হওয়া যাবে না বরং ধৈর্য ধরে বসে থাকতে হবে।

মানসিকভাবে শক্তিশালী হোন ১৩টি দোষ এড়িয়ে ( শেষ পর্ব)

 

তাই আসুন, উপরের কাজগুলোকে এড়িয়ে নিজেদের জীবনকে সাজিয়ে নেই আর হয়ে উঠি মানসিক ভাবে শক্তিশালী ।

মানসিকভাবে শক্তিশালী হোন ১৩টি দোষ এড়িয়ে (পর্ব-২)

মানসিকভাবে শক্তিশালী হোন ১৩টি দোষ এড়িয়ে (পর্ব-২)

মানসিকভাবে শক্তিশালী হোন ১৩টি দোষ এড়িয়ে (পর্ব-১) পর্বের পর

৫.  সবাইকে খুশি করে চলা

পৃথিবীতে সবাইকে খুশি করে চলা সম্ভব নয়। তাই এচেষ্টা বাদ দিতে হবে। কাছের মানুষদের সাথে মিলেমিশে থাকাটাই বড়কিছু। তবে তাই বলে নিজের খুশির জন্য অন্যদের ক্ষতি করাও যাবেনা। ঝগড়া প্রিয়জনের সাথে হতেই পারে তাই বলে সব শেষ হয়ে গেছে এমনটি মনে করবার কোন কারণ নেই। সবসময় মনে রাখবেন সম্পর্ক দীর্ঘদিনের আর ঝগড়া সাময়িক। তাই সাম্য তিল কে তাল করে বড় বড় সম্পর্ক ভেঙে দেওয়া ঠিক নয়। তেমনিভাবে যা হওয়ার নয় অখবা যা আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে প্রতিনিয়ত; তা বছরের পর বছর টিকিয়ে রাখাও নিতান্তই সে জিনিসের মানসিকভাবে শক্তিশালী হোন ১৩টি দোষ এড়িয়ে (পর্ব-২)প্রতি আপনার মানসিক দূর্বলতা।

৬.    হিসাব না করে রিস্ক নেওয়া

আবেগের বশে কোন কাজ করে ফেলা বা বাস্তবিকতাকে আমলে না রেখে কাজ করা মানসিকভাবে দূর্বল ব্যক্তিদের লক্ষণ। সবসময় মনে রাখবেন আপনার অনিয়ন্ত্রিত আবেগ আপনাকে সাময়িকভাবে সুখে রাখবে কিন্তু জীবনের দীর্ঘপরিসরে সবসময় বাস্তবতারই জয় হয়। তখন নিজেকে দোষারোপ করবেন অতীতে আবেগের বশে কাজ করে ফেলার জন্য।

৭   অতীতের স্মৃতিতে বন্দী থাকা

মানুষের অতীত সুখ-দুঃখ, সফলতা ব্যর্থতা মিলিয়েই। অতীতের ব্যর্থতাকে নিজের সবকিছ বলে মনে করে ভবিষ্যত নষ্ট করে দেওয়া বোকামি। আবার অতীতের বড় সাফল্যকে সারাজীবনের বড় সাফল্য মনে করা আরও বোকামি। কে জান ভবিষ্যতে হয়তো আরও বড় সাফল্য অপেক্ষা করছে। তাই সবচেয়ে ভাল হয় নিজেকে ভবিষ্যতের জন্য জ্ঞানে ও অভিজ্ঞতায় সাজিয়ে নিলে।

 ৮.  একই ভুল বারবার করা

যে ভুল একবার করে বড় ক্ষতি হয়েছে; আবেগের বশে বারবার সেই একই ভুল করা এবং মনে করা যে এতে অন্যের উপকার হচ্ছে আর সেজন্য আপনি মাদার তেরেসো পুরষ্কার পাবেন তো সেটা চরম নির্বুদ্ধিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।সবসময় মনে রাখবেন যে, সবসময় নিজের ক্ষতি করে কখনও মানুষের উপকার করা যায় না। নিজে প্রফুল্ল থাকলেই আপনার দ্বারা আপনাআপনিই সমাজের উন্নতি সাধন হতে থাকবে।

৯.   অন্যের সফলতায় ঈর্ষা করা

নিজে যা পারি বা নিজের যা আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকাই মানসিক শক্তির পরিচায়ক। অন্যের সাফল্যের প্রতি ঈর্ষাকাতরতা আপনাকে মানসিকভাবে দূর্বল ও হীণমন্য করে তুলবে।তখন আপনার দ্বারা সাধারণ কাজও স্বাভাবিকভাবে হবে না।আপনি নিজে সবসময় কি এক অদ্ভুদ ব্যস্ততায় ডুবে থাকবেন কোনকিছু পাওয়ার জন্য যার কোন শেষ নেই। তাই অন্যের সাফল্যের প্রতি ধাবিত না হয়ে সেখান থেকে উৎসাহ নিয়ে নিজে যে বিষয়ে পারদর্শি সে বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে এবং সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

 

……………………………………………………………………………………….(চলবে)