Category Archives: মেকআপ

অতিরিক্ত গরমে মেকআপ

অতিরিক্ত গরমে মেকআপ

সাজগোজ সব মেয়েদেরই পছন্দের বিষয়। কিন্তু গরমের দিনে কাঠফাটা রোদের মধ্যে মেকআপ ঠিক রাখা খুব কঠিন কাজ হয়ে দাড়ায়। কারন এই সময় অতিরিক্ত ঘামের কারনে মেকআপ গলে মুখের সাথে লেপটে যায়। এছাড়া যাদের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয় তাদের মেকআপ এর ক্ষেত্রে অনেক খেয়াল রাখতে হবে। এই সময় মুখে অতিরিক্ত মেকআপ করা অবশ্যই উচিত নয়। কারন মুখ ঘেমে গিয়ে সেটা নষ্ট হয়ে যায় এবং এর সাথে ধুলোবালি মিশে মুখে ব্রন হওয়ার ও সম্ভাবনা থাকে। তাই এই গরমে মেকআপ করে বাইরে বের হওয়ার আগে কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত।

Sumon46মেকআপ লাগানোর আগে প্রথমেই ভালো কোনো ক্লীনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর মেকআপ লাগাতে হবে। যাদের ত্বক বেশী ঘামে তারা মেকআপ করার আগে বরফ ঘষে নিতে পারেন। এতে ত্বক কম ঘামবে। এরপর মুখ মুছে নিয়ে SPF 15 অথবা এর চেয়ে বেশি SPF এর সান্সস্ক্রিন লাগিয়ে নিন। এতে ত্বক সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে রক্ষা পাবে।

এরপর স্কিন এ একটু ফাউন্ডেশন লাগিয়ে নিন। এই গরমে ক্রীম ফাউন্ডেশন এর পরিবর্তে SPF যুক্ত ও ওয়াটার বেসড মিনারেল ফাউন্ডেশন ব্যাবহার করুন।  প্রথমে ওয়াটার বেসড এবং ময়েশ্চারাইজারযুক্ত ফাউন্ডেশনটিকে লাগিয়ে দিয়ে সেটাকে ত্বকে ধীরে ধীরে বসিয়ে দিতে হবে। যাতে মেকআপটা বেশী বোঝা না যায়। ত্বকের যেসব জায়গার রঙ স্কিন কালার এর সাথে মেলে না সেইখানে একটু কন্সিলার দিয়ে স্কিন কালার এর সাথে মিশিয়ে নিন। এবার একটা কম্পেক্ট পাউডার অথবা নরমাল পাউডার লাগিয়ে নিতে হবে।

চোখের ক্ষেত্রে ভারী আইশ্যাডো না লাগানোই ভালো। এক্ষেত্রে অবশ্যই হালকা রঙ নির্বাচন করতে হবে। পিঙ্ক, পার্পেল, হালকা আকাশি ইত্যাদি রঙ নির্বাচন করতে পারেন। এরপর এক স্ট্রেক কাজল ও আইলাইনার চোখে টেনে নিন। খেয়াল রাখতে হবে এগুলো যেন অবশ্যই ওয়াটার প্রুফ হয়। চাইলে হালকা করে একটু মাস্কারা ও লাগিয়ে নিতে পারেন।

ঠোঁটে লিপস্টিক লাগানোর আগে লিপস্টিকের সঙ্গে মানানসই লিপলাইনার দিয়ে আউটলাইন করে নিন।  এতে লিপস্টিক ছড়িয়ে যাবে না। ঠোঁটের আকার ঠিক রাখতে লিপব্রাশ দিয়ে লিপস্টিক লাগান। সবচেয়ে ভালো হয় দিনের বেলা লিপস্টিকের বদলে ঠোঁটে লিপগ্লস লাগালে। এক্ষেত্রে লাইট পিঙ্ক কালার নির্বাচন করা যেতে পারে।

বাইরে বের হওয়ার অবশ্যই সাথে সানগ্লাস নিয়ে বের হবেন। এতে তক একটু হলেও সূর্যের আলো থেকে রক্ষা পাবে।

 

মডেলঃ লুবনা

ছবিঃ রিফ্লেকশন মিডিয়া

পার্টি মেকআপঃ সোনালী আভায় চোখের সাজ

পার্টি মেকআপঃ সোনালী আভায় চোখের সাজ

পার্টির কথা শুনলেই  মনের মধ্যে এক ধরনের অন্যরকম উত্তেজনার সৃষ্টি হয় আর সবার আগেই মনে হয় সাজগোজের কথা। কোন ড্রেসটা পড়তে হবে আর তার সাথে মিলিয়ে চোখের সাজতো আছেই। তবে সবাই পার্টিতে একটু ঝলমলে সাজ সাজতেই বেশী পছন্দ করে। এক্ষেত্রে চোখের সাজটা একটু হাইলাইট হলে অন্যান্য সাজ একটু হালকা করে সাজলে অনেক সুন্দর লাগবে। চোখের উপরে একটু সোনালী আভা আপনার সাজকে করে তুলবে আরো আকর্ষনীয় ও সুন্দর। আজকে আমরা এই টিউটোরিয়ালে আলোচনা করব কিভাবে সোনালী ও তামাটে রঙের ছটায় করবেন চোখের পার্টি মেকআপ।

পার্টি মেকআপঃ সোনালী আভায় চোখের সাজএই সাজের জন্য যেসব উপকরন লাগবেঃ তামাটে অথবা উষ্ণ বাদামী আইশ্যাডো, চকচকে সোনালী আইশ্যাডো, সাদা অথবা রুপালী শ্যাডো, আইলাইনার, মাস্কারা, ব্লেন্ডিং ব্রাশ এবং ফাউন্ডেশনার।

পারফেক্ট মেকআপ শুরু হয় ভালো বেস দিয়ে। প্রথমে আপনার মুখ ভালোভাবে ধুয়ে ভালোভাবে ধুয়ে একটু ভালো অয়েল ফ্রী ফাউন্ডেশন লাগিয়ে নিন। কারন বেস ভালো না হলে মেকআপ মুখে ঠিকভাবে বসে না।

প্রথমে আপনার চোখের পাতার ভাজের মধ্যে ছোট লোমোয়ালা ব্রাশ দিয়ে তামাতে অথবা বাদামী আইশ্যাডো একটা লাইন করে লাগিয়ে চোখের ভাজটা ঢেকে নিন।

এবার একটু লম্বা ব্রাশ দিয়ে সোনালী আইশ্যাডো লাগিয়ে নিন। এটি লাগানোর সময় চোখের মাঝখান থেকে যেখানে তামাটে শ্যাডো লাগানো হয়েছে তার নিচের দিকে চোখের পাতা পর্যন্ত লাগিয়ে নিন।

এরপর আবার তামাটে শ্যাডো দিয়ে চোখের ভাজের একটু উপরে ও সোনালী শ্যাডোর সাথে ঘেষে ক্যাট-আই স্টাইল এ লাগিয়ে নিন। একটা নরম ব্রাশ ব্যাবহার করে শ্যাডো গুলো ভালো ভাবে ব্লেন্ড করে নিন।

এরপর আবার তামাটে আইশ্যাডো একটা চিকন ব্রাশ এ লাগিয়ে চোখের নিচের পাতায় ভেতর থেকে বাইরের দিকে লাগিয়ে নিন। চোখের কোনার দিকটা বেশী হাইলাইট করুন।

এরপর চোখের উপরের পাতায় জেল আইলাইনার দিয়ে দাগ টেনে নিন। এবার একটা কাজল দিয়ে চোখের নিচের পাতায় ও উপরের পাতার ভেতর দিকে কাজল দিয়ে চোখ একে নিন। সবশেষে মাস্কারা দিয়ে সাজ সম্পুর্ন করে নিন।

সাজ শেষ হয়ে গেলে অন্য একটা মোটা ব্রাশ এ করে ওই একি রঙের শ্যাডো আপনার গালে হাল্কা করে লাগিয়ে নিন। এরপর আপনার পছন্দের লিপগ্লস লাগিয়ে নিলেই আপনি পার্টির জন্য সম্পুর্ন তৈরী হয়ে যাবেন।

 

ছবিঃ শিশির

মাত্র ১০ মিনিটে সাজিয়ে নিন নিজেকে

মাত্র ১০ মিনিটে সাজিয়ে নিন নিজেকে

সবসময় সুন্দর ও পরিপাটি থাকতে কে না চায়। কিন্তু এতো ব্যাস্ততার মাঝে আমাদের সময় কোথায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়া করে অফিস অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যেতে হয়। আয়নায় মুখটাকে যখন একদম সাদাসিধে অবস্থায় দেখেন তখন হয়ত মনে মনে ভাবেন ইশ যদি একটু সময় পেতাম, তাহলে হয়ত একটু সেজেগুজে যাওয়া যেত। আসলে মেকাপের ক্ষেত্রে আপনার সাজটা কেমন হবে তা প্রডাক্ট নির্বাচনের উপর নির্ভর করে। যেমন হয়ত আপনার হাতে সময় অনেক কম আছে আর সেক্ষেত্রে যদি আপনি চোখ সাজাতে চান তাহলে আইলাইনার, মাস্কারা, শ্যাডো অনেক কিছু লাগবে। আর যদি সুন্দরভাবে এই জিনিসগুলো লাগানো না হয় তাহলে এতো পরিশ্রম বৃথা হয়ে যাবে। তাই হয়ত আপনি সময়ের সল্পতার কথা চিন্তা করে এই স্টেপটি বাদ দিয়ে দেবেন। কিন্তু যদি বলা হয় যে আপনার মেকাপ সামগ্রীর কিছু জিনিস পরিবর্তন করে আপনি সময় সল্পতার মাঝেও সুন্দর পরিপাটি হয়ে বাইরে যেতে পারবেন তাহলে কার না ভালো লাগবে। আজ আমরা এখানে এমন কিছু বিষয় নিয়েই আলোচনা করব যার সাহায্যে আপনি অল্প সময়েও নিজেকে সাজিয়ে তুলতে পারেন।

মাত্র ১০ মিনিটে সাজিয়ে নিন নিজেকেযদি আপনার হাতে সময় কম থাকে তাহলে ঠোঁটের সাজের ক্ষেত্রে লিপ্সটিক, লিপলাইনার, প্রাইমার ইত্যাদি না লাগিয়ে সরাসরি লিপগ্লস ব্যাবহার করতে পারেন। আজকাল বাজারে বিভিন্ন রঙের গ্লীটার যুক্ত অথবা প্লেইন লিপগ্লস, লিপআইস পাওয়া যায়। এটি যেমন লাগানো অনেক সহজ তেমনি এটি ঠোঁটে অনেকক্ষণ থাকে।

আপনার মেকাপের সব জিনিসপত্র কখনো একসাথে রাখবেন না। ভারী সাজের জন্য যেগুলো সেগুলো একটা বক্সে আলাদা করে রেখে প্রতিদিনের ব্যাবহারের জিনিসগুলো হাতের কাছে রাখুন। এতে করে প্রতিদিন বাইরে যাওয়ার আগে আপনাকে সেগুলো খুজে খুজে সময় নষ্ট করতে হবে না।

পাওডার অথবা মেকাপ লাগানোর জন্য বড় ব্রাশ ব্যাবহার করুন। কারন এটা দিয়ে খুব তাড়াতাড়ি মেকআপ লাগানো যায় এবং বড় ব্রাশ দিয়ে ব্লেন্ড করতে অনেক সুবিধা।

যদি আপনি চোখে আইলাইনার লাগাতে চান তাহলে পেন্সিল লাইনার ব্যাবহার করুন। কারন এটি ব্যাবহার করতে অনেক সুবিধা। এছাড়া সবচেয়ে ভালো হয় যদি আইলাইনার ব্যাবহার না করে পেন্সিল কাজল ব্যাবহার করেন। কারন তাহলে চোখ শুকানোর জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। শুধু চোখের উপর একটানে কাজল একে নিলেই হবে।

আপনার পর্যাপ্ত সময় না থাকতে আইলাইনার এর পরিবর্তে মাসকারা ব্যাবহার করতে পারেন। মাস্কারা খুলে নিয়ে চোখের নিচের দিক থেকে উপরের দিকে কার্ল করে কয়েকবার টেনে নিন। এতে করে আপনার চোখের পাতা ভারি দেখাবে।

বাইরে বের হওয়ার সময় ফেস পাওডার ব্যাবহারের পরিবর্তে ক্রীম ফাউন্ডেশন অথবা বিউটি ক্রীম ব্যাবহার করতে পারেন। কারন এটি ব্লেন্ড করতে অনেক সুবিধা এবং সময় ও অনেক কম লাগে।

সময় কম থাকলে কখনো আপনার মুখে নতুন কোনো রঙ অথবা প্রডাক্ট ব্যাবহার করবেন না। এতে হিতে বিপরীত ও হতে পারে। তাই এমন ধরনের প্রডাক্ট ও রঙ ব্যাবহার করুন যার সাথে আপনি আগে থেকেই পরিচিত।

মডেলঃ সুমাইয়া জামান

ছবিঃ রিফ্লেকশন মিডিয়া

ফাগুনের আগুন সাজ

ফাগুনের আগুন সাজ

শীতের হিম হিম কুয়াশা দিন শেষে গুটি গুটি পায়ে চলে এলো বসন্ত। গাছের শুকনো পাতা বসন্তের উদাসী বাতাসের সাথে ঝড়ে পড়ে প্রকৃতিকে জানিয়ে দিচ্ছে তার ফিরে আসার আগমন বার্তা। আমাদের দেশে সাধারণত বসন্ত বরনের আয়োজন খুব জোড়েসোরেই করা হয়। আর সেই সাথে গাছে নতুন কুড়ি, বাতাসে ফুলের মিষ্টি গন্ধ, মনে সাড়া জাগানো শীতল বাতাসও যেনো অংশ নেই ফাগুনকে বরণ করার এই আয়োজনকে। পহেলা ফাল্গুনের এই দিনে সকালের দৃশ্যই যেনো বদলে যায়। গায়ে হলুদ শাড়ি, কপালে লাল টিপ, হাত ভর্তি রংবেরঙ্গের চুড়ি, চুলে বসন্তের নতুন ফুলে নিজেদের সাজিয়ে তররুনীরা ঝাকে ঝাকে এগিয়ে আসছে। শুধু মেয়েরাই নয়, এক্ষেত্রে ছেলেরাও পিছিয়ে নেই। কখনো প্রিয় মানুষটিকে সাথে নিয়ে, আবার কখনো বন্ধুদের সাথে তারাও অংশ নেই বসন্ত বরনের এই আয়োজনে। আর বিশেষ কোনো দিন মানেই একটু বিশেষ সাজগোজ। কারণ সাজটা মনের মত না হলে ঘুরে বেড়ানোর মজাটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই আজ আমরা পলেহা ফাল্গুনের সাজ নিয়ে আলোচনা করব।

ফাগুনের আগুন সাজএই দিনে সাধারণত হলুদ রঙের শাড়ী অনেক ভালো লাগে। এছাড়া হলুদের সাথে লাল, সবুজ, কমলা এই ধরনের রঙের মিশ্রণও অনেক ভালো লাগবে। কিন্তু এখন একটু অন্য ধরণের রঙের শাড়ী যেমন সম্পুর্ন নীল, লাল, পার্পেল এই রঙ গুলোও বেশ মানিয়ে যায়। তবে এই ধরণের অনুষ্ঠানে সুতি, জামদানী শাড়ীগুলো বেশী মানানসই হয়। কারণ একদিকে এগুলো যেমন এই ঋতুর জন্য অনেক আরামদায়ক, অন্য দিকে বাংলার কালচারের সাথে এগুলো খুব মানিয়ে যায়। এক রঙের শাড়ীর সাথে ব্লাউজ এর রঙটা শাড়ির থেকে আলাদা হলে অনেক সুন্দর লাগবে। আবার কিছু কিছু রঙ যেমন সোনালী, কালো প্রায় সব ধরণের শাড়ীর সাথে পড়া যেতে পারে। যেহেতু এখন সকালের দিকে একটু হালকা শীতল বাতাস পাওয়া যায়, এক্ষেত্রে চাইলে শাড়ীর সাথে কাতানের বিভিন্ন রঙের কোয়ার্টার অথবা ফুল হাতা ব্লাউজ বেছে নিতে পারেন। তবে শাড়ী পড়লে মেকআপটা একটু ভারী হলে ভালো লাগবে। তবে চোখের সাজ গাঢ় হলে অন্য সাজগুলো একটু হালকা করলে ভালো লাগবে।

এখন সময়টা যেহেতু শীতের প্রায় শেষের দিকে তাই ত্বক বেশীরভাগ সময়ই খুব রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে যায়। তাই এই সময় ত্বকের একটু অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া উচিত। বিশেষ করে মেকআপের ক্ষেত্রে একটু খেয়াল রাখা উচিত। কারণ মেকআপ বেশী ভারী অথবা বেশী হালকা হয়ে গেলে সাজটাই অন্যরকম হয়ে যেতে পারে। এজন্য মুখে মেকাপের বেইসটা অনেক ভালো করে লাগাতে হবে। প্রথমে ভালো কোনো ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর মুখ মশ্চারাইজারযুক্ত ফাউন্ডেশন লাগিয়ে আঙ্গুল দিয়ে হালকা করে ঘষে সম্পুর্ন মুখে ও গলায় ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। ফাউন্ডেশনের ক্ষেত্রে ত্বকের ধরণ ও রঙ অনু্যায়ী পছন্দ করতে হবে। ত্বক উজ্জ্বল ফর্সা হলে হালকা শেড, উজ্জ্বল শ্যামলা, কালো ত্বকের জন্য একটু গাঢ় শেডের ফাউন্ডেশন অনেক ভালো হয়। মুখে বেইস মেকআপটা লাগানোর পর কিছুক্ষন অপেক্ষা করতে হবে যাতে মেকআপটা ত্বকে ঠিকমত বসে যায়। এরপর মোটা ব্রাশ দিয়ে মুখে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কম্প্যাক্ট পাওডার লাগাতে হবে। তবে কারো মুখ বেশী ঘামলে কম্প্যাক্ট এর পরিবর্তে প্যানকেক লাগাতে পারেন। এজন্য পাফটাকে পানিতে হালকা করে ভিজিয়ে ত্বকের টোনের সাথে মিলিয়ে মুখে প্যানকেক লাগাতে হবে। এরপর আপনি মেকআপটা আরো বেশী হাইলাইট করতে চাইলে হালকা করে ব্লাশ অন লাগিয়ে নিতে পারেন। তবে ফাল্গুনের দিন যেহেতু দিনের বেলাই বের হওয়া হয়, সেক্ষেত্রে ব্রাশ অন না লাগানোই ভালো।

এবার চোখের ক্ষেত্রে শাড়ীর সাথে সাজটা একটু ভারী হলেই বেশী ভালো হয়। প্রথমে হালকা শ্যাডো দিয়ে চোখের পাতার ভাজ পর্যন্ত বাইরে থেকে ভেতর দিকে টেনে নিন। হলুদ শাড়ীর সাথে লাল, হালকা সবুজ, সোনালী, স্মোকি করতে চাইলে কালো, পার্পেল এই ধরণের রঙ গুলো বেশী মানাবে। এছাড়া অন্য রঙের শাড়ী হলে ব্লাঊজ এর সাথে মিলিয়ে রঙ নির্বাচন করলে ভালো লাগবে। এরপর যেই শেডের শ্যাডো ব্যাবহার করা হয়েছে তার চেয়ে একটু গাঢ় শেডের শ্যাডো দিয়ে চোখের উপরের পাতায় ও চিকন করে চোখের নিচের পাতায় লাগিয়ে নিতে হবে। একপর কাজল দিয়ে চোখের উপরে ও নিচে একে নিতে হবে। চোখের সাজের ক্ষেত্রে মাস্কারাটা একটু ভারী করে লাগালে চোখদুটো ভারী দেখাবে। মাস্কারা লাগানোর সময় নিচ থেকে উপর দিকে একবারে কার্ল করে লাগিয়ে নিন। এরপর ঠোটে একটু হালকা রঙের পছন্দসই লিপগ্লস অথবা লিপ্সটিক লাগিয়ে নিতে হবে।

আজকাল অনেক ধরনের খোপা আবার নতুন করে ফ্যাশন হিসেবে চলে আসছে। এক্ষেত্রে শাড়ির সাথে বিভিন্ন ধরণের খোপা অথবা বেনী করবে পারেন। চুলে খোপা বা বেনী করলে কানে একটু বড় কানের দুল, ঝুমকা অনেক ভালো লাগবে। এছাড়া চুল বাধতে না চাইলে চুল খোলা রেখে চুলে ফুল লাগাতে পারেন। ফাল্গুনের দিন কাচের চুড়ি নয়া পড়লে সাজটাই যেনো অসম্পুর্ন থেকে যায়। শাড়ির রঙের সাথে কন্ট্রাস্ট করে হাত ভর্তি পরে নিতে পারেন রংবেরঙ্গের চুড়ী আর তার সাথে কপালে একটা লাল টিপ। কারণ টিপ ছাড়া বাঙ্গালী নারীর সৌন্দর্য যেনো কেমন অসম্পুর্ন থেকে যায়। এবার আপনি বাইরে যাওয়ার জন্য সম্পুর্ন ভাবে তৈরী।

তৈলাক্ত ত্বকের মেকাপের কিছু টিপস

তৈলাক্ত ত্বক নিয়ে অনেকেরই বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস ইত্যাদি নানা ধরনের সমস্যার কারনে এই ধরনের ত্বকে মেকআপ করার সময় অনেক সতর্ক থাকতে হয়। অনেক সময় ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিঃসরণের জন্য মেকআপ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে যেকোনো জায়গায় যাওয়ার মজাটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই এইসব ত্বকে মেকআপ করার সময় কিছু নিয়মাবলী মেনে চলতে হয়। আর এইসব নিয়ম মেনে চললে আপনি ঘরে বসে নিজে নিজেই করতে পারেন পারফেক্ট মেকআপ যা আপনার মুখের অতিরিক্ত তেলকে নিয়ন্ত্রন করে আপনাকে আরও আকর্ষনীয় ও সুন্দর করে তুলবে।

মেকআপ করার আগে আপনার ত্বককে এক্সফ্লোয়েট করা অনেক জরুরি। প্রথমে ভালো কোনো স্ক্রাব দিয়ে সম্পুর্ন মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। এতে করে আপনার ত্বকের অতিরিক্ত তেল এবং ময়লা বের হয়ে যাবে এবং আপনার ব্ল্যাকহেডস কিছুটা কম দেখাবে। এরপর গরম তোয়ালে মুখে চেপে মুখ মুছে নিন।

sumon57এরপর অবশ্যই মুখ ধোয়ার পর যেকোনো মশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। মেকআপ করার ক্ষেত্রে মশ্চারাইজার লাগানো অনেক জরুরি।  অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে মশ্চারাইজার যেন অবশ্যই অয়েল ফ্রী এবং ওয়াটার বেইস হয়। সম্ভব হলে এটা মেকআপ লাগানোর ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগে এটা লাগিয়ে নিন। এতে মেকআপ মুখে বসবে ভালোভাবে।

এরপর মুখে ফাউন্ডেশন লাগিয়ে নিন। যেহেতু তৈলাক্ত ত্বক অন্যন্য স্কিন থেকে আলাদা হয় সেহেতু খেয়াল রাখতে হবে ফাউন্ডেশন যেন অবশ্যই অয়েল ফ্রী হয়। ফাউন্ডেশন লাগানোর সময় ব্রাশ ব্যাবহার না করে হাত দিয়েই ওটাকে ভালোভাবে ব্লেন্ড করার চেষ্টা করুন। ত্বকে লাগানোর আগে এক ফোঁটা পানি অথবা একটু মশ্চারাইজার মেশান।

ফাউন্ডেশন লাগানোর পর কম্প্যাক্ট পাওডার লাগানোর আগে ৫ থেকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এবার একটা ব্রাশ দিয়ে আস্তে আস্তে আপনার মুখের শেড অনুযায়ী কম্প্যাক্ট পাওডার লাগিয়ে নিন। হাল্কা করে গালের দিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়া পাওডার লাগিয়ে নিন। খেলার রাখেতে হবে নাকের দিকে এবং কপালের কিছুই জায়গায় যেনো মেকআপ সমানভাবে লাগানো হয়। পাওডার লাগানোর জন্য মুখের তেল কম নিঃসরণ হবে এবং ন্যাচারাল লাগবে। খেয়াল রাখতে হবে ফাউন্ডেশনের রঙ এর সাথে কম্প্যাক্ট পাওডার এর রঙ যেনো মিলে যায়।

এরপর পছন্দমত ও পোশাকের ধরন অনুযায়ী চোখের সাজ নিয়ে নিন।

 

মডেলঃ এশ এঙ্গেল

ছবিঃ খাইরুল রিয়াদ

সাজের পরিপুর্নতায় টিপ

সাজের পরিপুর্নতায় টিপ

বাঙ্গালী উৎসবপ্রিয় জাতি। কখনো পহেলা বৈশাখ, বসন্ত বরন, ঈদ, পুজো, ভালোবাসা দিবস ইত্যাদি আরো অনেককিছু। আর উৎসব মানেই মনখুলে সাজগোজ। বাঙালি নারীর সাজের ক্ষেত্রে সৌন্দর্যের ঐতিহ্যই হচ্ছে শাড়ী। এইসব উৎসব এর আমেজে শাড়ী না পরলে আনন্দটাই যেনো ম্লান হয়ে যায়। এই শাড়ীর সাথে হাত ভর্তি চুড়ি আর কপালে একটা টিপ। এই সাজই বাঙ্গালী নারিদের অন্যন্য জাতি থেকে আলাদা করে তোলে। কপালের একটা টিপ সাধারন একটি সাজের মধ্যও যেনো অসামান্যতা নিয়ে আসে। ভেবে দেখুন না, সেই বিয়ের কনে থেকে শুরু করে কবিতা গল্প উপন্যাসের সব কবিরাই তাদের নায়িকাদের সৌন্দর্যের বর্নণা পরিপূর্ণ করতে  গিয়ে কপালের মাঝের টিপ এর গুরুত্ব তুলে ধরেছে। কপালের এই একটুখানি রঙিন আভাই যেনো সাজে নিয়ে আসে পরিপূর্ণতা।

সাজের পরিপুর্নতায় টিপ

photo by Rocker ClickZ

টিপ শুধু শাড়ি নয়, সব ধরনের পোশাকের সঙ্গেই পরা যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে তা যেনো চেহারা ও পোশাকের সঙ্গে মানানসই হয়। যাদের চেহারা একটু গোল তাদের ক্ষেত্রে লম্বা টিপ পরলে ভালো দেখাবে। আবার যাদের চেহারার ধাঁচ লম্বাটে ধরনের তারা গোল টিপ পরলে ভালো দেখাবে। কিন্তু পোশাকের সাথে মিলিয়ে আবার এই টিপ এর ধরন আলাদাও হতে পারে। যারা লম্বা টপস পছন্দ করে তারা কাপড়ের ধরন অনুযায়ী টিপ নির্বাচন করুন। সুতি কাপড়ের ক্ষেত্রে মাঝারি সাইজের গোল টিপ ব্যাবহার করা যেতে পারে। চাইলে টিপ এর  রঙ ড্রেস এর রঙ এর সাথে মিলিয়ে ও পরতে পারেন অথবা কালো রঙ নির্বাচন করতে পারেন। এটা প্রায় সব রঙ এর পোশাকের সাথেই মানিয়ে যায়।

বিয়ের সাজের ক্ষেত্রে লাল টিপ এর গুরুত্ব অপরিসীম। সেই প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বিয়ের কনে লাল টিপ ছাড়া অপূর্ণ। কিন্তু ইদানিং বিয়ের সাজের ক্ষেত্রে ভারী কাজের শাড়ি ব্যাবহার করা হয়। সেক্ষেত্রে পাথর বসানো লম্বাটে টিপ ও বিভিন্ন ধরনের অর্নামেন্টাল টিপ ও অনেক মানানসই হবে। আবার বেনারশীর সাথে লাল গোল টিপ ও অনেক ভালো লাগবে।

জর্জেট অথবা সিল্ক এর শাড়ির সাথে টিপ পরলে একটু ছোট কালো টিপ পড়া যেতে পারে। কিন্তু সুতি শাড়ীর সাথে মাঝারী অথবা মাঝারী থেকে একটু বড় টিপ পরা যায়। সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যাদের কপাল আকারে ছোট, তারা ছোট টিপই বেছে নিন আর যাদের কপাল বড়, তারা একটু বড় বা মাঝারি সাইজের টিপকে প্রাধান্য দিন।

এছাড়া বিভিন্ন উৎসব যেমন পহেলা বৈশাখ, বসন্ত, ভালোবাসা দিবস, পুজো এসব ক্ষেতে শাড়ির সাথে প্লেন লাল গোল টিপ বেছে নিন। একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে কানে বড় দুল পরলে সে ক্ষেত্রে ছোট আকারের টিপ নির্বাচন করুন। এতে সাজে পরিপুর্নতা আসবে।

১৬ই ডিসেম্বরের সারাদিনের সাজ

১৬ই ডিসেম্বরের সারাদিনের সাজ

বিজয়ের মাস শুরুর সাথে সাথে প্রকৃতিও যেনো মেতে উঠেছে একে বরণ করার আয়োজনে। রাস্তায় রাস্তায় বিক্রি হচ্ছে ছোট ছোট লাল সবুজ পতাকা, গলির মোড়ে মোড়ে আয়োজন চলছে ১৬ ডিসেম্বরের উৎসবের। ১৬ই ডিসেম্বর, এই দিনটির তাৎপর্য শুধু মাত্র একজন বাঙ্গালীরই ভালোভাবে বুঝতে পারবে। কত কষ্ট করে, কত শহীদের রক্তের বিনিময়ে, কত ত্যাগের মধ্য দিয়েই না তারা ছিনিয়ে এনেছিল এই বিজয়। আর সেই থেকেই আমাদের দেশে বিভিন্ন আয়োজনে এই দিনটি পালন করা হয়। আর এই উৎসবে সব ধরনের মানুষ যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে বাচ্চা, আফিসের ব্যাস্ত লোকজন, বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত সব শ্রেণীর মানুষ অনেক আগ্রহে যোগ দেয়। কারণ এই বিজয় যে সবার।
সাধারণত এ অনুষ্ঠানটি সব ধরনের মানুষেরাই পালন করে থাকে, তাই এর সাথে সাথে এটাকে পালন করার নান আয়োজনও তৈরী করে নিয়েছে। যেমন ১৬ই ডিসেম্বরের প্রধান পোশাক

১৬ই ডিসেম্বরের সারাদিনের সাজ

photo by Rocker ClickZ

হচ্ছে লাল, সবুজ, অথবা লাল সবুজ দুইটা রঙ একসাথে। এছারাও হাতে অথবা কপালে বাধতে পারেন লাল সবুজ পতাকা। তবে যেহেতু এই ধরনের অনুষ্ঠান সকালের দিকেই শুরু হয় বেশী, তাই আপনার সাজটি সারাদিন ধরে রেখে সবার মাঝ থেকে নিজেকে আকর্ষনীয় করে তুলতে চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন এই ছোট কলামটির দিকে।
যদি আপনি সকালের দিকে বাইরে বের হন তাহলে আপনার মুখের মেকআপটা একটু লাইট হলে ভালো হবে। আর এখন যেহেতু শীতকাল, তাই ত্বক একটু পর পর আদ্রতা হারাবে। তাই এটাকে অবশ্যই ভালোভাবে মশ্চারাইজার করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমে ভালোভাবে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে গরম তোয়ালে মুখে চেপে নিতে হবে। তারপর মুখ হালকা ভেজা অবস্থায়ই কোনো ভালো মানের মশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। এবার কিছুক্ষন অপেক্ষা করে মুখে এর উপর ক্রীম বেইস ফাউন্ডেশন লাগিয়ে নিন। যেহেতু শীতকাল তাই প্যানকেক অথবা পাউডার বেইস ফাউন্ডেশন এড়িয়ে চলুন। তা না হলে আপনার মুখে মেকাপ ভালোভাবে বসবে না এবং মুখের বিভিন্ন জায়গায় সাদা সাদা ছোপ পরে থাকবে। এরপর এর উপর হালকা কম্প্যাক্ট পাওডার লাগিয়ে তৈরী করে নিন আপনার মুখের বেইস মেকাপ।
তবে মেকআপ সাধারণত আপনার পোশাক নির্বাচনের উপর নির্ভর করে। তবে সাধারণত এই দিনে মেয়েরা শাড়ি পড়তে বেশী পছন্দ করে। তবে ব্লাউজের ক্ষেত্রে আপনি থ্রি কোয়ার্টার অথবা ফুল হাতা ব্লাউজ নির্বাচন করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি শাড়ীর রঙের সাথে কনট্রাস্ট করে এক রঙের অথবা একেবারে ভিন্ন রঙের প্রিন্টের ব্লাউজ ব্যাবহার করতে পারেন। কারন আজকাল এক রঙের শাড়ীর সাথে প্রিন্ট এর ব্লাউজও অনেক ভালো লাগে। শাড়ির সাথে চোখের সাজটা একটু ভারী হলে ভালো লাগবে বেশী। এক্ষেত্রে চোখের কালো, ব্লাকিশ সিল্ভার, লাইট পার্পেল, সবুজ, হালকা লাল এর সাথে মিক্স গোল্ডেন শ্যাডো ব্যাবহার করতে পারে। এতে চোখ ব্রাইট দেখাবে। প্রথমে আপনার পছন্দমত শ্যাডো চোখের পাতার লাগিয়ে নিন। এরপর এর উপর কাজল অথবা আইলাইনার একটু মোটা করে একে নিন। চোখের নিচেও একটু কাজল দিয়ে আপনার পছন্দমত শেপ বানিয়ে নিন। এরপর মাস্কারাটা একটু ভারী করে চোখের নিচ থেকে উপরের দিয়ে কার্ল করে লাগিয়ে নিন। আপনার চোখের পাপড়ি যদি বেশী পাতলা হয় তাহলে আলগা পাপড়ি লাগিয়ে নিতে পারে। এবার ঠোটে যেকোনো হালকা রঙের লিপস্টিক লাগিয়ে নিন। কারন চোখের সাজটা ভারী হলে ঠোঁটে হালকা রং ভালো মানাবে। এছাড়া লিপস্টিক এর পরিবর্তে এই শীতে লিপগ্লস অথবা লিপবাম লাগাতে পারেন। এক্ষেত্রে লাইট পিঙ্ক, লাইট পার্পেল রংগুলো বেশী মানানসই হয়। এছাড়া চাইলে এই দিনে গাঢ় করে মেরুন কালারও লাগাতে পারেন।
গয়নার ক্ষেত্রে কানে ভারী ঝুমকা পরতে পারেন। কারন আজকাল ঘুরেফিরে ঝুমকার প্রচলন আবার এসেছে। এক্ষেত্রে লাল পাথর বসানো ঝুমকা, গোল্ডেন এ সাদা পাথর বসানো অথবা সবুজ ঝুমকা অনেক ভালো লাগবে। তবে ঝুমকা যদি বেশী বড় হয় তাহলে গলায় শুধু এক প্যাচের মালা পরতে পারেন। এইসব মালা ঢাকার টিএস সি, দোয়েল চত্বর, চারুকলার সামনে ভালো পাওয়া যাবে। আবার কানে দুলটা ছোট পরলে গলয় ক্রাচ এর বড় মালা পরতে পারেন। চুল চাইলে বিভিন্ন স্টাইলে খোপা করে সাইডে ফুল লাগাতে পারেন। অথবা বেনী করে চুল সামনের দিকে এনে রাখতে পারেন। আর এই দিনে তরুনীদের প্রথম পছন্দ হয়ে থাকে কাচের চুড়িগুলো। হাতভর্তি কাচের চুড়ির সাথে কপালে বড় একটা টিপ পূর্ন করবে আপনার এই দিনের সাজকে।
তবে শাড়ী পরতে না চাইলে স্যালোয়ার কামিজ অথবা বিভিন্ন কাটের লম্বা ফতুয়ার সাথে জিন্স পরতে পারেন। কারন শীতের দিনে জিন্স অনেক আরামদায়ক হয়। এক্ষেত্রে বেইস মেকাপের সাথে চোখে শুধু কাজল এবং শ্যাডো দিয়ে সাজাতে পারেন। স্যালোয়ার কামিজ অথবা জিন্স এর সাথেও লাল কাচের চুড়ি এবং বড় টিপ অনেক ভালো লাগবে। তবে আপনার কপাল যদি বেশী ছোট হয় তাহলে বেশী বড় টিপ ব্যাবহার না করাই ভালো। তবে স্যালোয়ার কামিজ অথবা জিন্স এর সাথে চুল খোলা রাখলেই বেশী ভালো লাগবে। ইদানিং বিভিন্ন ফ্যাশান হাউজগুলো কাপল পোশাক নিয়ে এসেছে। চাইলে আপনি আপনার প্রিয় মানুষটি সাথে মিলিয়েও পড়তে পারেন এই ১৬ ডিসেম্বরের পোশাক।
তবে অনেকে মনে করে থাকেন ছেলেদের সাজের কি আছে। কিন্তু সারাদিনের এর অনুষ্ঠানের মাঝে আপনার ও তো ফ্রেশ থাকার দরকার আছে। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে অবশ্যই ভালো কোনো মশ্চারাইজার লাগিয়ে বের হবেন। নয়ত ত্বক বারবার শুষ্ক হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

মেকআপে ব্লাশ অন এর সঠিক ব্যাবহার

মেকআপে ব্লাশ অন এর সঠিক ব্যাবহার

পরিপূর্ন মেকআপ এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী গুরুত্তপূর্ন হচ্ছে ভালো মানের সামগ্রী ও সঠিক পন্য নির্বাচন করা। কারন তা না হলে মনের মত সাজগোজ ও হয় না এবং মেকআপ ভালোভাবে মুখের সাথে মানানসই না হলে সাজ ও অসম্পুর্ন থেকে যায়। যেমন মেকআপ এর ক্ষেত্রে সঠিক ব্লাশ অন এর ব্যাবহার। বাজারের বিভিন্ন ধরনের পন্য থেকে সঠিক রঙ নির্বাচন করা খুব কঠিন একটা কাজ। কারন ব্লাশ অন সঠিক না হলে সাজ ন্যাচারাল লাগবে না। এক্ষেত্রে রঙ নির্বাচন এর ক্ষেত্রে অবশ্যই ত্বকের রঙ এর সাথে মানানসই রঙ নির্বাচন করতে হবে। ত্বকের রঙ মেকআপে ব্লাশ অন এর সঠিক ব্যাবহারসাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে যেমন ফর্সা, উজ্জ্বল শ্যামলা বা মাঝারী রঙ এবং কালো। ত্বকের কালার এর উপর ভিত্তি করে ব্লাশ অন এর কালার ও বদলে যাবে। আজ আমরা আলোচনা করব কোন ধরনের ত্বকের জন্য কি কি রঙ এর ব্লাশ অন ব্যাবহার করা উচিত। ফর্সা ত্বকের ক্ষেত্রে একটু লাইট কালার বেশী ভালো লাগে। কারন ব্লাশ অন সাধারনত ব্যাবহার করা হয় সাজে একটু ন্যাচারাল ভাব আনার জন্য। তাই এক্ষেত্রে ফর্সা ত্বকের জন্য একটু হালকা রঙ ভালো মানানসই হয়। একটা ব্লাশ অন ব্রাশ দিয়ে মেকআপ লাগানোর পর আপনার গালে ব্লাশ অন লাগিয়ে ভালোভাবে মুখের সাথে মিশিয়ে নিন। যদি প্রয়জনের তুলনায় বেশী লাগিয়ে ফেলেন তাহলে হাত দিয়ে অথবা অন্য একটি ফ্রেশ তুলি দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে হালকা করে নিন। এইসব স্কিন এর জন্য লাইট পিঙ্ক, ডার্ক পিঙ্কিশ, লাইট শ্যাম্পেইন ইত্যাদি রঙ বেশী ভালো হয়। প্রায় ৮০% মেয়েরাই মাঝারি স্কিন এর আধিকারী হয়। এসব স্কিন এর জন্য রোজি পিঙ্ক এবং একটু গাঢ় ধরনের রঙ ভালো হয়। এ ধরনের স্কিন এর জন্য বেশি লাইট কালার ব্যাবহার করলেও ভালো লাগে না আবার বেশি গাঢ় রঙ্গেও আপনাকে কালো দেখাবে। এই সব স্কিন এর জন্য উষ্ণ সোনালী অথবা পেইল সোনালী রঙ সবচেয়ে ভালো হয়। তবে কখনো শ্যাম্পেইন কালার অথবা লাইট পিঙ্ক ব্যাবহার করবেন না। এতে চেহারার রঙ আসামঞ্জস্য দেখাবে। কালো রঙের আধিকারী মেয়েদের ক্ষেত্রে গোলাপী অথবা হাল্কা কমলা রঙ এর ব্লাশ অন অনেক ভালো লাগবে। এছাড়া রঙ হাইলাইট করার জন্য সোনালী রঙের ব্লাশ অন ও অনেক ভালো লাগবে। প্রথমে এঙ্গেল ব্রাশ দিয়ে ব্লাশ অন লাগিয়ে হাত দিয়ে হাল্কা করে একটু ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এতে করে রঙ মুখের সাথে ভালোভাবে মিশে যাবে। তবে ডার্ক স্কিন এর জন্য সোনালী রঙ্গই সবচেয়ে ভালো হয়। এতে আপনার গালে একটি সুন্দর আভা ফুটে উঠবে।