Category Archives: বিশেষ

পোষাকে বর্ষবরণ

বাঙালির দরজায় কড়া নাড়ছে নববর্ষ। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে চলছে প্রস্তুতি। পিছিয়ে নেই দেশি ফ্যাশন হাউজগুলোও। শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাথে চারদিকে চলছে কেনাকাটার ধুম। এমন একটা সময় ছিলো যখন পোশাকে হাতের কাজ বলতে শুধু সুঁই সুতার নকশাকেই বোঝানো হত। তবে এখন শুধু সুঁইয়ের খোঁচায় সুতার রংয়ে বোনা ফুল, পাখি অথবা বাহারি নকশা নয়, কাপড়ের সৌন্দর্য বর্ধণ করতে শিল্পীর রং তুলির জনপ্রিয়তাও কম নয়। রং আর তুলির স্পর্শে বর্ণিল হয়ে ওঠে পরনের পোশাক।

Continue reading

বড়দিনের উৎসব

xmassবড়দিনে উৎসবে মাততে তৈরি সারাবিশ্বের খ্রিস্টান সম্প্রদায়। বিভিন্ন দেশে গির্জা-বাড়িঘর সেজেছে বর্ণিল আলোয়। বড়দিনের নানান আয়োজন থেকে পছন্দেরটি বেছে নিতে ব্যস্ত সাধারণ মানুষ। শিশুরাও তৈরি প্রিয় স্যান্টার কাছ থেকে উপহার বুঝে নিতে।

Continue reading

শীতের শুরুতে ছেলেদের ত্বক এবং চুলের সমস্যা এবং সমাধান

শীতের শুরুতে ছেলেদের ত্বক এবং চুলের সমস্যা এবং সমাধান

ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে শীত ও আবার ঘুরে চলে এল। আর এর সাথে সাথেই শুরু হয়ে যায় ত্বক ও চুলের যত সমস্যা। অনেকেই মনে করেন ছেলেদের রূপচর্চার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু শীতের শুরুতে তাদের ত্বকেরও অনেক সমস্যা শুরু হয়। চুল ভাঙ্গা, রুক্ষ ও চিটচিটে হয়ে যাওয়া, র‍্যাশ, ত্বকের শুষ্কতা, ঠোঁট ফাটা, পায়ের গোড়ালী ফাটা আরও কত কি। সাধারণত হঠাৎ করে ঋতু পরিবর্তনের সময় ত্বকের সহনশীলতা বদলে যায় ফলে এই সব সমস্যাগুলো হয়ে থাকে। তাই আজ আমরা এই শীতে ছেলেদের ত্বকের ও চুলের কিছু সাধারন সমস্যা নিয়ে কথা বলব এবং এ থেকে মুক্তির উপায় আলোচনা করব।

শীতের শুরুতে ছেলেদের ত্বক এবং চুলের সমস্যা এবং সমাধানশীতে আপনার ত্বকের সবচেয়ে বড় একটি সমস্যা হচ্ছে শুষ্কতা। মুখ ধোয়ার পরে তো এটি এত টানটান হয়ে থাকে যা খুবই আস্বস্থিকর। ক্রিম লাগানোর কিছুক্ষন পর্যন্ত ভালো থাকলেও কিছুক্ষন পর অতিরিক্ত তেল চিটচিটে হয়ে যায়। ফলে বারবার মুখ ধুতে হয়। তাই এ সময় এর চাই একটু অতিরিক্ত যত্ন। ত্বকের শুষ্কতা কমাতে প্রতিদিন সকালে ও রাতে মশ্চারাইজার যুক্ত ক্রীম ব্যাবহার করুন। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে ১/৪ কাপ দুধ এ ১ চামুচ মধু ও ১ চামুচ এলোভেরা জেল মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। ২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে করে আপনার ত্বকের শুষ্কতা তো কমবেই তার সাথে আপনার মুখ হয়ে উঠবে আরো কোমল ও উজ্জ্বল।

শীত কালে অনেকেরই চুল রুক্ষ হয়ে যায় এবং চুলে এক ধরনের চিটচিটে ভাব চলে আসে। এর ফলে অনেক সময় চুলের আগা ফেটে যায়। তাই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে শীতের রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চুলে নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল গরম করে ম্যাসাজ করে নিতে পারেন। একটি স্টীলের বাটিতে নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েল নিয়ে নিন। এবার একটা কাচা আমলকী কেটে এর সাথে মিশিয়ে নিন। এবার এটাকে চুলার উপর একটা কাপড় দিয়ে ধরে কিছুক্ষন গরম করে নিন। কিছুক্ষন রেখে গিয়ে কুসুম গরম থাকতে চুলের আগায় ও গোড়ায় ভালো করে আঙ্গুল দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তেল ম্যাসাজ নিন। মনে রাখবেন কখনোই খুব গরম তেল চুলে লাগাবেন না। এতে চুল পরে যেতের পারে। সারা রাত চুলে তেলের উপস্থিতিতে চুলের রুক্ষ ভাব কেটে যাবে এবং চুল হয়ে উঠবে ঝলমলে উজ্জ্বল।

শীতে ত্বকের আরেকটা সমস্যা হচ্ছে র‍্যাশ। অনেক সময় শরীরে লাল, ছোট ছোট ফুসকুনির মত হয়ে থাকে। এগুলো সাধারণত শীতকালে ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমন ও উলের পোশাক পরার কারনে হয়ে থাকে। এগুলো শরীরে চুলকানি ও অস্বস্থিকর অবস্থা তৈরী করে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন গোসলের পানিটাকে একটু ফুটিয়ে হালকা গরম পানি দিয়েই গোসল করুন। এছাড়া পানির ব্যাক্টেরিয়া দূর করার জন্য এন্টিসেপ্টিক জাতীয় কোনো লিকুইড মিশিয়ে নিতে পারেন। সবসময় উষ্ণ থাকার চেষ্টা করুন। উলের কাপড় পরার সময় অবশ্যই তার নিচে সুতি অথবা অন্য পাতলা এবং আরামদায়ক কাপড়ের কিছু পরে নিবেন।

শীতের দিনে আরেকটা কমন সমস্যা হচ্ছে পায়ের গোড়ালী ফেটে যাওয়া। এ থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন ঘুমানোর আগে অবশ্যই পায়ে পেট্রোলিয়াম জেলী লাগিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া প্রতিদিন গোসলের সময় শক্ত কিছু দিয়ে পায়ের গোড়ালীটা একটু ঘষে নিতে পারেন। এতে মৃত কোষগুলো বের হয়ে যাবে। এছাড়া নিয়মিত মশ্চারাইজার যুক্ত লোশন ব্যাবহার করুন। এতে করে হাত পায়ের খসখসে ভাব থাকে না।

মডেলঃ আনান 

ছবিঃ আতিক

 

শীতের উষ্ণতায় জিন্স

এই প্রচন্ড শীতে চাই পোশাকের বাড়তি আয়োজন। গরম কাপড়ের সাথে থাকা চাই পছন্দের পোশাক। তাই তো ফ্যাশন সচেতন তরুণীরা এই সময় বেছে নেন জিন্স। এতে যেমন উষ্ণতা পাওয়া যায়, তেমনি স্টাইল ও করা যায় সমান তালে। মেয়েরা সালওয়ার -কামিজ পছন্দ করেন তারপরও অনেকে আবার এই শীতের মধ্যে জিন্স পরতে বেশি উপভোগ করেন। কেননা যেই কোন পোশাকের সাথে এটা  খুব সহজেই পরা যায়।

ফ্যাশনের চাহিদায়, নিজের বাক্তিতের সাথে মিল রেখে কিছুটা হেরফের করে থাকি কামিজ ও সালোয়ারের কাটে। কিন্তু শীতের সময় জিন্সের প্যান্ট অনেক বেশি আরামদায়ক। তাছাড়া এর চাহিদা অন্য সময়ের থেকে শীতের দিনে একটু বেশি। চাদর বা সোয়েটার পড়লে ও সালোয়ারের কারনে উষ্ণতা একটু কম পাওয়া যায়। তাই rahat35এই জন্য জিন্স অনেক আরামদায়ক। তবে, অনেকের ভুল ধারনা যে জিন্স পড়লে অনেক গরম লাগবে কেননা জিন্স কাপড়টাই ঠাণ্ডা। বাহিরের দেশে শীতের সময় মানুষ যতটা পারে জিন্স পরিহার করে চলে। আর আমাদের দেশে তরুণীরা একটু উষ্ণতার জন্য শীতের সময় যে কোন পোশাকের সাথে জিনসটাকে বেশি প্রাধান্য দেয়। জিন্সে প্রতিনিয়ত কাটিঙে পরিবর্তন আসছে। বর্তমানে চলছে সোজা স্কিন টাইট কাট। এটা পায়ের দিকে এসে চাপা হয়ে থাকবে। এ ছাড়াও চলছে বুট কাট। শুধু জিন্সের ব্যাবহারে আপনি হয়ে উঠতে পারেন আরও আধুনিক। আপনি যদি পার্টিতে জিন্স পরতে চান তাহলে জিন্সের কালার গাঁড়ও রঙের হলে অনেক বেশি ভাললাগবে। পায়ে উঁচু হিল, হাতে ছোট একটি পার্টি হ্যান্ডব্যাগ ব্যাবহার করতে পারেন। টি শার্ট আর জমকালো ফতুয়ার সাথে আপনি যদি দামি জিন্স পরেন তাহলে আপনাকে অন্য সবার থেকে অনেক বেশি আলাদা এবং সুন্দর লাগবে। তাছাড়া আপনি জিন্সের সাথে স্যান্ডেল  এবং হালকা ডিজাইনের কাপড়, পড়লে তখন আপনি কাজুয়াল অথবা অফিসিয়াল পরিবেশের জন্য ফিট। এই ক্ষেত্রে জিন্সের রঙটা ফ্রেড হলে অসুবিধা নেই। টি- শার্ট, ফতুয়া বেশি জনপ্রিয় হলেও অনেকে এটাতে আরাম অনুভব করে না এই জন্য সব জিনসটাকে বেছে নেয়। তবে জিন্স চমৎকারভাবে  মানিয়ে যাবে শর্ট কামিজ অথবা সেমি লং কামিজের সাথে। এর সঙ্গে আপনি চাইলে ওড়না নিতে পারেন আবার নাও নিতে পারেন। যাদের স্বাস্থ্য ভালো, তাদের সোজা কাটটা ভালো মানাবে। তাদের লম্বা ফতুয়া ও কামিজ পরলে শুকনা দেখাবে। যারা শুকনো তারা যেকোনো কাট পরতে পারেন। পা মোটা বলে যারা অস্বস্তি বোধ করেন, তারা অনায়াসে পরতে পারেন সোজা কাটের জিন্স সাথে লম্বা ফতুয়া অথবা শর্ট কামিজ।

এইবার জেনে নেওয়া যাক আরও কিছু তথ্য

সাদা, কালো, নীল, লাল, মেরুন, ধূসর, গোলাপি, আকাশি সহ আরও নানা ধরনের জিন্স প্যান্ট পাওয়া যায়।

বিদেশি ব্র্যান্ড ঃ জিন্স প্রধানত দুই ধরনের হয়, ডেনিম ও ডেনিম স্তিচ। বিদেশি ব্র্যান্ডের মধ্যে লেভিস, আরমানি, ডিজেল, ও ডি অ্যান্ড জি। তবে থাইল্যান্ডের জিন্স অনেক বেশি উন্নত।

 

মডেলঃ রাজ, রূম্পা

ছবিঃ খাইরুল রিয়াদ

শীতকালে স্কার্ফ বাঁধার নিয়ম

শীতকালে স্কার্ফ বাঁধার নিয়ম

আজকালকার ছেলে মেয়েরা নিত্য নতুন ফ্যাশন করে থাকে এর মধ্যে কিভাবে স্কার্ফ বাঁধতে হয় তার কিছু সঠিক নিয়মাবলী রয়েছে। আমাদের দেশের ছেলে মেয়েরা এই ধরনের ফ্যাশন নতুন করে থাকে কিন্তু ইউরোপ আমেরিকাতে অনেক আগেই এই ফ্যাশনের প্রচলন ঘটেছে। এখনকার টিনেজরা বিভিন্ন ধরনের ফ্যাশন করে তার উপর শীতের সময় একটু অন্য রকমের ফ্যাশনে লিপ্ত হয়। স্কার্ফ ছোট বড় সবাই ব্যাবহার করে থাকে কিন্তু আমরা যদি একটু ফ্যাশন সচেতন হই তাহলে বিভিন্ন স্টাইলে এটা পরতে পারি যার ফলে আমাদের পোশাকের ধরনটাকে আরও বেশি সুন্দর করে তুলতে পারে। অনেকে আবার এই শীতের সময় এটা ব্যাবহার করে গলা, কান অথবা মাথায় যেন অতিরিক্ত ঠাণ্ডা না লাগে। তরুণরা মূলত তাদের ফ্যাশনের জন্য এটা ব্যাবহার করে থাকে। এই স্কার্ফ কয়েকটি নিয়মে বাঁধা যায় অনেকে সিঙ্গেল নট অথবা ডাবল নট হিসেবে ব্যাবহার করে থাকে কিন্তু আপনাকে অবশ্যই এর ব্যাবহার বিধি সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে তা না হলে আপনি সঠিক ভাবে বাঁধতে পারবেন না। যার ফলে আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা দেখাবে না। আপনি ইচ্ছে করলে টিশার্ট অথবা শার্ট এর সাথে স্কার্ফ মিলিয়ে

শীতকালে স্কার্ফ বাঁধার নিয়ম

Photo by- Bulbul Ahmed

পরতে পারেন এতে আপনাকে আরও বেশি স্মার্ট এবং আলাদা লাগবে। তাছাড়া এই শীতকালে স্কার্ফ আবার বেশি ব্যাবহার করা হয় সেটা ফ্যাশন হউক আর পরার জন্নই হউক। আজকে আমরা কিভাবে সুন্দর করে স্কার্ফ পরতে হয় তার কিছু নিয়ম সম্পর্কে জানবো এবং পরবর্তীতে নিজেদের সময় তা ব্যাবহার করব।

১. শর্টঃ এটা একটা সহজ উপায় স্কার্ফ বাঁধার জন্য কেননা যে কেউ এটা খুব সহজেই পরতে পারবে। প্রথমে আপনি গলায় দিবেন তারপর এক  সাইড ছোট রাখবেন এবং আরেক সাইডের স্কার্ফ সিঙ্গেল নটে বাঁধবেন এরপর তা গলায় যুলিয়ে দিবেন। এটা হল সবচেয়ে সহজ উপায়।

২. সুরুচিসম্পূর্ণঃ আপনি যদি ক্লাসিক্যাল উপায়ে স্কার্ফ পরেন তাহলে অনেক গরম অনুভব করবেন কেননা এই উপায়ে স্কার্ফ পরতে হলে ডাবল নটে পরতে হয়। স্কার্ফ দুই পাশে সমান করে গলায় দিতে হবে তারপর ডাবল নটে শক্ত করে বাধতে হবে তা না হলে এক পাশে ঢিলা হয়ে যেতে পারে আর সেই জন্য দেখতে খারাপ লাগতে পারে। আবার খেয়াল রাখতে হবে যেন বেশি শক্ত করে না বাধা হয়।

৩. বড়ঃ এইভাবে ইউরোপ অঞ্চলের মানুষেরা স্কার্ফ পরে থাকে। এটা পরতে হলে আপনি আপনার স্কার্ফ গলার দুই পাশে শুধু যুলিয়ে দিলেই হয়ে যাবে আর বেশি কিছু করা লাগবেনা। আমেরিকাতে এই বড় করে স্কারফ পরা অনেক বেশি জনপ্রিয়।

আমরা শুধু কয়েকটি নিয়ম বলে দিলাম তাছাড়া আপনি আপনার নিজের পছন্দমতো করে স্কার্ফ পরতে পারেন। আপনার নিজের সাথে মানায় এমনভাবে স্কার্ফ পরতে পারবেন ইচ্ছে করলে। কিন্তু একটা দিক লক্ষ্য রাখতে হবে যেন স্টাইল এমনভাবে করবেন না যেটা হিতে আবার বিপরীত না হয়। আশেপাশের ছেলে মেয়েরা আপনার স্টাইল দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়।

শীতে চুলের যত্নে হেয়ার স্পা

সুন্দর ও স্বাস্থ্যজ্জ্বল চুল কার না পছন্দ। কিন্তু অনেক সময় যত্নের অভাবে আপনার শখের চুলগুলো রুক্ষ হয়ে ঝরে যায়। তাছাড়া সারাদিন বাইরে কাজ করার ফলে ধুলো ময়লা, রোদের তাপ লেগে চুল অনেক রুক্ষ হয়ে যায়। এমনিতেই শীতের সময় চুল সারাক্ষন বেধে রাখার ফলে এটি তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। তাই এই সময়ে চুলের জন্য চাই একটু অতিরিক্ত যত্ন। কিন্তু সারাদিনের কর্মব্যাস্ততার জন্য সময়ের অভাবে অনেক সময়ই পার্লারে গিয়ে চুলের সঠিক যত্ন নেওয়া সম্ভব হয়ে উঠে না। কিন্তু আপনি চাইলেই বাড়িতে বসেও নিতে পারেন চুলের সঠিক যত্ন। আজ আমরা আলোচনা করব কিভাবে বাড়িতে বসেই করতে পারেন আপনার পছন্দের হেয়ার স্পা। এটি আপনার চুলের রুক্ষতাকে দূর করে আপনার চুলের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে মাথার ত্বককে রিলাক্স করতে সাহায্য করবে।

DSC_0009 copyহেয়ার স্পা এর সবচেয়ে প্রথম ধাপ হচ্ছে তেল। প্রথমে সম্পুর্ন চুলে ও মাথার তালুতে আঙ্গুল দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ভালোভাবে তেল ম্যাসাজ করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি তেল আগের রাতে ম্যাসাজ করা যায়। অথবা সেটা সম্ভব না হলে স্পা করার ২ থেকে ৩ ঘন্টা আগে ম্যাসাজ করে রেখে দিতে হবে। এক্ষেত্রে আমন্ড তেল অনেক ভালো হয়। কারন এর ভিটামিন ই ও ডি আপনার চুলকে দ্রুত লম্বা করতে, চুল পরা কমাতে এবং চুলকে আরো উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

এরপর একটা স্টীম মেশিন দিয়ে মাথার তালুতে ৫ মিনিট ধরে ভালোভাবে স্টীম করে নিন। চুলে স্টীম করলে আপনার মাথা অনেক রিলাক্স মনে হবে। এক্ষেত্রে নিজে না করে অন্য কেউ সাহায্য করলে অনেক ভালো হয়। আর যদি আপনার স্টীম মেশিন না থাকে তাহলে একটা তোয়ালে নিয়ে এটাকে গরম পানিতে ভিজিয়ে চিপে নিয়ে মাথায় ভালভাবে পেচিয়ে রাখুন। এভাবে ৪ থেকে ৫ বার করতে হবে।

এরপর চুলের ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে চুলে প্যাক লাগাতে হবে। এখানে আমি কয়েকটা প্যাক নিয়ে আলোচনা করব।

খুশকি যুক্ত চুলের জন্য একটা পাত্রে ২ টেবিল চামুচ মেহেদি পাউডার এর সাথে ২ টেবিল চামুচ করে আমলা পাওডার ও রিঠা পাওডার মিশিয়ে পেষ্ট বানিয়ে নিতে হবে। এরপর এটি সম্পুর্ন চুলে লাগিয়ে ১ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে। খুশকির জন্য মেহেদি পাউডার অনেক উপকারি। ১ ঘন্টা পর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে শ্যাম্পু করে  নিতে হবে।

শুষ্ক চুলের ক্ষেত্রে একটা ডিম নিয়ে ভালোভাবে ফেটে নিন। এবার এর সাথে ২ টেবিল চামুচ অলিভ অয়েল ও ১ টেবিল চামুচ মধু যোগ করে আবার মিশিয়ে নিন। এবার এটা চুলে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। ২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন।

তৈলাক্ত চুলের জন্য অ্যালোভেরার প্যাক অনেক উপকারি। একটা অ্যালোভেরার জেলোটা নিয়ে এর সাথে কয়েক ফোটা লেবুর রস যোগ করে নিন। এবার এটা চুলে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

নিষ্প্রাণ ও ভাঙ্গা চুলের ক্ষেত্রে ১ চামুচ মধুর সাথে আগের রাতে ভেজানো মেথি পেস্ট করে মিশিয়ে নিন। এবার এর সাথে ৩ টেবিল চামুচ দই মিশিয়ে ভালোভাবে ফেটে চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর চুল ধুয়ে ফেলুন।

যেকোনো প্যাক লাগানোর পর অবশ্যই ভালোভাবে চুল ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিতে হবে। এরপর আপনার পছন্দমত কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন। কন্ডিশনার লাগানোর পর অবশ্যই চুল ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। যাতে চুলে লেগে না থাকে।

 

শীতকালে ত্বকের যত্ন

নরম ঘাসের উপর জমে থাকা শিশির আর হিমশীতল বাতাস জানান দিয়ে যাচ্ছে শীতের আগমন। এই সময় প্রকৃতির সাথে সাথে ত্বক ও রুক্ষ ও শীতল রুপ ধারন করে। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে ত্বকের ও পরিবর্তন হতে থাকে। বিশেষ করে যাদের ত্বক একটু শুষ্ক তাদের ত্বক আর বেশী রুক্ষ ও নিষ্প্রান হয়ে যায়। তাই এই সময় ত্বকের একটু বাড়তি যত্নের প্রয়োজন। আর ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রসাধনী বদলে ফেলার ও প্রয়োজন হয়। কিন্তু চাইলে বাড়তি প্রসাধনী ব্যাবহার না করেও হাতের কাছের কিছু উপাদান দিয়েও এই শীতে ত্বককে রাখতে পারেন সজীব ও প্রানবন্ত।

DSC_0060 copyত্বকের রুক্ষতা কমাতে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে তেল মালিশ করা। প্রতিদিন গোসলের আধা ঘন্টা আগে নারিকেল তেল, তিলের তেল, অলিভ অয়েল বা বাদাম তেল ত্বকে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে নিন। সম্ভব হলে ব্যাবহারের আগে তেলটাকে একটু গরম করে ব্যাবহার করুন।

মিল্ক ক্রীম বা মাখন স্কিনকে মশ্চারাইজ করতে অনেক উপকারি। ২ টেবিল চামুচ দুধ এর সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও ২ টেবিল চামুচ মাখন ভালোভাবে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। এবার কিছুক্ষন রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।

দই শীতকালে ত্বককে হাইড্রেট করতে সাহায্য করে। চাইলে দই সরাসরি মুখে লাগাতে পারেন অথবা এর সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও ১ চামুচ মধু মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে টানটান হয়ে গেলে কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে নিন।

শীতকালে ত্বকের যত্নে মধুর চেয়ে ভালো কিছু হতেই পারে না। ২ চামুচ মধু সরাসরি মুখে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে নিন। এতে ত্বকের রুক্ষতা কমে ত্বক আরও কোমল ও মসৃণ হয়।

এলোভেরা ত্বকের জন্য অনেক উপকারি। একটা এলোভেরার শাস বের করে এর সাথে ১ চামুচ মধু ভালোভাবে মিশিয়ে সম্পুর্ন মুখে ও হাতে পায়ে লাগিয়ে নিন। কিছুক্ষন পর হাত দিয়ে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক অনেক কোমল হবে।

কাঁচা দুধ তকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ও কোমলতা ধরে রাখতে অনেক সাহায্য করে। আধা কাপ দুধ এর মধ্যে কয়েক ফোঁটা গোলাপ জল মিশিয়ে এটা দিয়ে মুখে গলায় ভালো করে ম্যাসাজ করে নিন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন ব্যাবহারে স্কিন থেকে শীতের রুক্ষভাব দূর হয়।

ছেলেদের ত্বক এবং চুলের কিছু সমস্যা এবং সমাধান

ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে শীত ও আবার ঘুরে চলে এল। আর এর সাথে সাথেই শুরু হয়ে যায় ত্বক ও চুলের যত সমস্যা। অনেকেই মনে করেন ছেলেদের রূপচর্চার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু শীতের শুরুতে তাদের ত্বকেরও অনেক সমস্যা শুরু হয়। চুল ভাঙ্গা, রুক্ষ ও চিটচিটে হয়ে যাওয়া, র‍্যাশ, ত্বকের শুষ্কতা, ঠোঁট ফাটা, পায়ের গোড়ালী ফাটা আরও কত কি। সাধারণত হঠাৎ করে ঋতু পরিবর্তনের সময় ত্বকের সহনশীলতা বদলে যায় ফলে এই সব সমস্যাগুলো হয়ে থাকে। তাই আজ আমরা এই শীতে ছেলেদের ত্বকের ও চুলের কিছু সাধারন সমস্যা নিয়ে কথা বলব এবং এ থেকে মুক্তির উপায় আলোচনা করব।

poushi32শীতে আপনার ত্বকের সবচেয়ে বড় একটি সমস্যা হচ্ছে শুষ্কতা। মুখ ধোয়ার পরে তো এটি এত টানটান হয়ে থাকে যা খুবই আস্বস্থিকর। ক্রিম লাগানোর কিছুক্ষন পর্যন্ত ভালো থাকলেও কিছুক্ষন পর অতিরিক্ত তেল চিটচিটে হয়ে যায়। ফলে বারবার মুখ ধুতে হয়। তাই এ সময় এর চাই একটু অতিরিক্ত যত্ন। ত্বকের শুষ্কতা কমাতে প্রতিদিন সকালে ও রাতে মশ্চারাইজার যুক্ত ক্রীম ব্যাবহার করুন। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে ১/৪ কাপ দুধ এ ১ চামুচ মধু ও ১ চামুচ এলোভেরা জেল মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। ২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে করে আপনার ত্বকের শুষ্কতা তো কমবেই তার সাথে আপনার মুখ হয়ে উঠবে আরো কোমল ও উজ্জ্বল।

শীত কালে অনেকেরই চুল রুক্ষ হয়ে যায় এবং চুলে এক ধরনের চিটচিটে ভাব চলে আসে। এর ফলে অনেক সময় চুলের আগা ফেটে যায়। তাই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে শীতের রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চুলে নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল গরম করে ম্যাসাজ করে নিতে পারেন। একটি স্টীলের বাটিতে নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েল নিয়ে নিন। এবার একটা কাচা আমলকী কেটে এর সাথে মিশিয়ে নিন। এবার এটাকে চুলার উপর একটা কাপড় দিয়ে ধরে কিছুক্ষন গরম করে নিন। কিছুক্ষন রেখে গিয়ে কুসুম গরম থাকতে চুলের আগায় ও গোড়ায় ভালো করে আঙ্গুল দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তেল ম্যাসাজ নিন। মনে রাখবেন কখনোই খুব গরম তেল চুলে লাগাবেন না। এতে চুল পরে যেতের পারে। সারা রাত চুলে তেলের উপস্থিতিতে চুলের রুক্ষ ভাব কেটে যাবে এবং চুল হয়ে উঠবে ঝলমলে উজ্জ্বল।

শীতে ত্বকের আরেকটা সমস্যা হচ্ছে র‍্যাশ। অনেক সময় শরীরে লাল, ছোট ছোট ফুসকুনির মত হয়ে থাকে। এগুলো সাধারণত শীতকালে ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমন ও উলের পোশাক পরার কারনে হয়ে থাকে। এগুলো শরীরে চুলকানি ও অস্বস্থিকর অবস্থা তৈরী করে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন গোসলের পানিটাকে একটু ফুটিয়ে হালকা গরম পানি দিয়েই গোসল করুন। এছাড়া পানির ব্যাক্টেরিয়া দূর করার জন্য এন্টিসেপ্টিক জাতীয় কোনো লিকুইড মিশিয়ে নিতে পারেন। সবসময় উষ্ণ থাকার চেষ্টা করুন। উলের কাপড় পরার সময় অবশ্যই তার নিচে সুতি অথবা অন্য পাতলা এবং আরামদায়ক কাপড়ের কিছু পরে নিবেন।

শীতের দিনে আরেকটা কমন সমস্যা হচ্ছে পায়ের গোড়ালী ফেটে যাওয়া। এ থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন ঘুমানোর আগে অবশ্যই পায়ে পেট্রোলিয়াম জেলী লাগিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া প্রতিদিন গোসলের সময় শক্ত কিছু দিয়ে পায়ের গোড়ালীটা একটু ঘষে নিতে পারেন। এতে মৃত কোষগুলো বের হয়ে যাবে। এছাড়া নিয়মিত মশ্চারাইজার যুক্ত লোশন ব্যাবহার করুন। এতে করে হাত পায়ের খসখসে ভাব থাকে না।

 

মডেলঃ জুনায়েদ