বৈশাখী পান্তা-ইলিশ

panta ilishঐতিহ্যের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকলেও প্রায় তিন দশক ধরে পয়লা বৈশাখে চলছে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার ধুম। শহুরে এই করপোরেট রীতি গরিবকে ব্যঙ্গ করার শামিল, বলছেন বিশিষ্টজনেরা। আর তাই নববর্ষের খাবারে পান্তা-ইলিশ বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ও জাটকা ধরা নিষেধ। কিন্তু বাজারে চলছে চড়া দামে ইলিশ বিক্রির ধুম। যদিও চিরায়ত বাঙালি সংস্কৃতিতে পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার কোনো চল নেই।

বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার ভুঁইফোড় সংস্কৃতির শুরু আশি পরবর্তী স্বৈর- শাসনের সময়। ছায়ানটের বর্ষবরণ ও চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা জমে যাওয়ার পর রমনা এলাকায় মূলত ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যেই এ সংস্কৃতির আমদানি। বাঙালির উৎসব মানেই সাথে থাকবে ভালো খাবার। এর বিপরীতে মাটির সানকিতে পান্তা বাঙালি সংস্কৃতিতে বেমানান। আর পান্তার সাথে ইলিশের মতো দামী মাছ যুক্ত করে যেন গরীবকেই উপহাস করা হয়।

পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে দেশের মূল্যস্ফীতি প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাংশ থাকলেও কেবল ইলিশ কেনার ধুমে এপ্রিলে তা ৬ শতাংশের উপরে চলেও যেতে পারে। সম্প্রতি একনেক সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রীও জানিয়েছেন, ইলিশ কেনার কারণে মূল্যস্ফীতি দশমিক ০১ শতাংশ হলেও বাড়বে।এদিকে রাজধানীর তারকা হোটেলগুলো বৈশাখী আয়োজন থেকে পিছিয়ে নেই। সেই সাথে পাল্লা দিয়েও বিভিন্ন রেস্তোরায়ও রয়েছে দেশি-বিদেশি নানান খাবারের আয়োজন ও মেলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *