খাবারে বিনোদন

resturant stylebdরাজধানীর কোন রেস্টুরেন্টের কোন খাবারের কেমন স্বাদ, এটা তার নখদর্পণে। হোক সেটা ভালো মানের রেস্টুরেন্ট কিংবা পুরনো ঢাকার কোন অলিগলির রেস্টুরেন্টের। ছাত্রাবস্থায় বন্ধুরা দল বেধে চলে যেতেন তারপর যার যার টাকা দিয়ে সে সে খেতেন-এই ছিল নিয়ম। আর এমনই অভিজ্ঞতাই বর্ননা করছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ হাসান প্রিন্স।

বর্তমানে অনেক তরুণের হাত ধরেই বদলে যাচ্ছে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। খাওয়ার জন্য খাওয়া নয়- আরো বেশি কিছু; সুন্দর পরিবেশন, মনোরম পরিবেশ,গান-বাজনা, আড্ডা সবমিলিয়ে এটা যে উপভোগেরও একটা ব্যাপার তাই যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে এখনকার রেস্টুরেন্টগুলো। মূলত তারুণ্যের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে এই ব্যবসার অন্দর-বাহির। বাধা যে নেই তা নয়- কিন্তু তারুণ্যের ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানছে সব বাধা। যে কারণে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিটাই ইতিবাচক। তারা ইন্টারনেটে পুরো পৃথিবী সম্পর্কে জানছে আর সে মানেরই কাজ উপহার দেয়ার চেষ্টা করছে।

বিভিন্ন দিবস উদ্যাপন ছাড়াও পারিবারিক অনুষ্ঠান পালন এবং নানা উপলক্ষ ছাড়াও এখন পরিবার নিয়ে মানুষ হোটেল-রেস্টুরেন্টের ভিন্ন স্বাদের খাবার খেতে পছন্দ করেন। শুধু উচ্চবিত্ত ও পেশাজীবী নয়, সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কথা মাথায় রেখে নগরীতে গড়ে ওঠা নতুন রেস্টুরেন্টগুলো নানা রকম ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির ফলেই এখন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় জোয়ার। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীরাও অন্য যে কোনো ব্যবসার চেয়ে ভিন্নধর্মী রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় বিনিয়োগে আগ্রহী। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন দেলু বলেন, রাজধানীতে বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি রেস্তোরাঁ আছে। ভ্যাট কমানোসহ ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করলে এ ব্যবসায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় রেস্টুরেন্ট ব্যবসার জমজমাট পসার বসেছে। প্রতিদিন এসব রেস্টুরেন্টে নানা বয়সী নারী-পুরুষের সমাগম হয়। এর মধ্যে রয়েছে বনানী, গুলশান, উত্তরা, খিলগাঁও, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর ইত্যাদি এলাকা। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পাশেই ৩০০ ফুট রাস্তার সঙ্গে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট। এখানকার খাবারের দোকান মালিকদের অধিকাংশই বয়সে তরুণ। কেউ আবার পড়ালেখার পাশাপাশি খাবারের ব্যবসা করছেন। এসব খাবার দোকানে ম্যাক্সিকান, ইতালিয়ান, ইন্ডিয়ান ও দেশি খাবার কম মূল্যে পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখেই ফুড আইল্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। ঢাকার নতুন আরেকটি খাবারপাড়া গড়ে উঠেছে খিলগাঁওয়ে। সন্ধ্যার পর থেকেই এ এলাকায় খাদ্যরসিকদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এর মধ্যে তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিই বেশি।

একসময় পুরান ঢাকায় নীরব হোটেল, আল রাজ্জাক, হাজী বিরিয়ানি, ফখরুদ্দিনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভোজনরসিকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। সেসব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এখন অলিগলিতে ভালোমানের স্থানীয় খাবারের ব্র্যান্ড গড়ে উঠেছে। দ্রুত বদলে যাচ্ছে মানুষের খাদ্যাভ্যাস। খাদ্য পরিবেশনের ধরন ও ধারণায় এসেছে আমূল পরিবর্তন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *